চরমপন্থি কার্যকলাপ: তদন্তের মুখে জার্মান সেনাবাহিনী | বিশ্ব | DW | 18.08.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি

চরমপন্থি কার্যকলাপ: তদন্তের মুখে জার্মান সেনাবাহিনী

জার্মান সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ বাহিনীর বিদায় অনুষ্ঠানে চরম ডানপন্থি কর্মকাণ্ড নিয়ে তুলকালাম চলছে জার্মানিতে৷ এরই মধ্যে ট্যুবিঙেন শহরের এ ঘটনার পূর্ণ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে বাডেন-ভুর্টেমব্যার্গ রাজ্য কর্তৃপক্ষ৷

রাজ্য অ্যাটর্নির কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ডয়চে ভেলেকে নিশ্চিত করেছেন, জার্মান সেনাদের অভিজাত বাহিনী – স্পেশাল ফোর্স কমান্ডো বা কেএসকের বিরুদ্ধে চরম ডানপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগের তদন্ত করছেন তাঁরা৷

‘‘আমরা ঘটনাটা জানার চেষ্টা করছি,’’ ফোনে ডয়চে ভেলেকে জানান নিকোলাউস ভেগেলে৷ তিনি বলেন, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেই কালভ শহরটি স্টুটগার্টের পাশে অবস্থিত, ফলে এই তদন্তভার শেষ পর্যন্ত স্টুটগার্ট অ্যাটোর্নির দপ্তরে স্থানান্তর হতে পারে৷ ট্যুবিঙেন শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরেই অবস্থিত স্টুটগার্ট৷

হিটলারের স্যালুট এবং শূকরের মাথা

জার্মান রেডিও স্টেশন রেডিও ব্রেমেনের অনুসন্ধানে জানা গেছে ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল এই বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়৷ পার্টিতে উপস্থিত এনডিআর, জেডডিএফ-এআরডি এবং কেএসকে সেনাদের অনেকেই চরমপন্থি আচরণ করেন৷

তাদের বিরুদ্ধে নাৎসি স্যালুট দেয়া, চরমপন্থি রক গান শোনা এবং শূকর জবাই করার অভিযোগ রয়েছে৷ ইহুদি এবং মুসলিমদের খাবারে কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷ খাবারের এই বাধ্যবাধকতা ইহুদিদের কাছে কোশার এবং মুসলিমদের কাছে হালাল নামে পরিচিত৷ শূকরের কাটা মাথা চরম ডানপন্থিরা এই বাধ্যবাধকতাকে ব্যঙ্গ করার জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে৷

বুন্দেসভেয়ার অর্থাৎ সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দেয়ার পর এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে৷ ঐ প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তাঁর এক সেনা বন্ধু তাকে এই বিদায় অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করেন৷ তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিমন্ত্রণ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল সেনা কোম্পানির প্রধানের কাছে তাঁকে একটি ‘উপহার’ হিসেবে তুলে দেয়া৷ এই ঘটনার প্রমাণ হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে আছে বলেও জানিয়েছিন অভিযোগকারিণী৷

অভিজাত এই কেএসকে ফোর্স প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৬ সালে৷ এর মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ এলাকা থেকে জিম্মিদের মুক্ত করা৷ আফগানিস্তান ও বলকান অঞ্চলে বেশকিছু অভিযানে গিয়েছে এই ফোর্সের সেনারা৷ সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের রক্ষার জন্য এই ফোর্সের খুব কম তথ্যই প্রকাশ করা হয়৷

বুন্দেসভেয়ারের সমালোচনায় বুন্দেসভেয়ার

বুন্দেসভেয়ারও এই বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে৷ জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে একজন সেনা মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এখনও কোনকিছু নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি৷ ১৩ জুলাই থেকেই সেনা কর্তৃপক্ষ এ ঘটনা সম্পর্কে জানতো বলেও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে৷

বৃহস্পতিবার মিলিটারি কমিশনার হান্স-পেটার বার্টেলস প্রশ্ন তুলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শী স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা না করে, কেন এই ঘটনা আগেই তদন্ত কর্মকর্তাদের জানানো হলো না৷ ‘‘নাৎসি স্যালুট দেয়াটা পছন্দ-অপছন্দের বিষয় না৷ জার্মান গণতন্ত্র অবজ্ঞা করে, এমন গান শোনাটা কারও পছন্দ-অপছন্দের বিষয় না৷’’ এ ঘটনার কোনো তথ্য থাকলে সেনা সদস্যদের তা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন বার্টেলস৷ তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র রক্ষা করা সেনা সদস্যদের কাজ, গণতন্ত্র অবজ্ঞা করা নয়৷’’

জার্মান সেনাবাহিনীর কলঙ্ক

কালভের চরম ডানপন্থি ঘটনা বেশ কয়েকমাস ধরে জার্মান সেনাবাহিনীতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার পুনরাবৃত্তি৷

এ বছরের এপ্রিলে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফ্রাঙ্কো এ নামের এক সেনা লেফট্যানেন্টকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ পরে জানা যায়, ফ্রাঙ্কোর চরমপন্থি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ২০১৪ সাল থেকেই জানতো সেনা কর্তৃপক্ষ৷ এই ঘটনাতেও সমালোচনায় পড়তে হয় বুন্দেসভেয়ার কর্তৃপক্ষকে৷

এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেই তদন্ত কর্মকর্তারা ডোনাউয়েশিঙেন ব্যারাক থেকে নাৎসি বাহিনীর কিছু স্মারক উদ্ধার করেন৷ এর মধ্যে হিটলারের সেনাবাহিনী – ভেয়ারমাখটের হেলমেটও ছিল৷ বুন্দেসভেয়ার প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫৫ সালে৷ একসময় হিটলারের ভেয়ারমাখটে কর্মরত অনেক সেনাই পরবর্তীতে যোগ দেন বুন্দেসভেয়ারে৷

এডিকে/ডিজি (ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন