চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাসে হামলা, আহত ১৪ | বিশ্ব | DW | 10.09.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাসে হামলা, আহত ১৪

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বহনকারী দুটি বাসে ককটেল ও পাথর ছোড়ায় ৮ শিক্ষকসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন৷ ঘটনার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

হামলায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ৷ বুধবার সকালে হাটহাজারী থানার নন্দিরহাটের বালুরটাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে৷ আহত ব্যক্তিদের মধ্যে যে নয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁরা হলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগের প্রভাষক সোনাম আক্তার ও সুনন্দা বৈদ্য, ফলিত পদার্থ বিদ্যা বিভাগের প্রভাষক সাবরিনা আলম, সমাজতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক ফাতেমা-তুজ-জোহরা, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিরিন আরা চৌধুরী, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দা হালিমা বেগম, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক রওশন আরা আফরোজ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যপাক মো. আশরাফুজ্জামান ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী অমৃতা নাগ৷ গাড়ির চালকসহ বাকি পাঁচজনকে মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্‍সা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিকেল অফিসার কাজী মো. সাইফুল্লাহ৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক এইচ এম কামরুল হাসান হামলার শিকার হওয়া একটি বাসে ছিলেন৷ তিনি জানান, সকালে শিক্ষকদের বহনকারী তিনটি বাস একসঙ্গে চট্টগ্রাম শহর থেকে রওনা হয়৷ বালুরটাল এলাকায় পৌঁছালে দুটি বাসে অতর্কিতে ককটেল ও পাথর ছোড়া হয়৷

হাটহাজারী থানার ওসি মো. ইসমাইল বলেন, ‘‘অটোরিকশায় করে এসে একদল যুবক শিক্ষক বাসে হাতবোমা হামলা চালায়৷ হলের সাধারণ ছাত্রদের নামে শিবির বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট আহ্বান করেছে৷ তাই শিবিরই এ হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছি৷'' বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হল খুলে দেয়ার দাবিতে সাধারণ ছাত্রদের নামে ৩১শে আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় ইসলামী ছাত্র শিবির৷ ওসি জানান, হামলার পর পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে৷ হাটহাজারীর এএসপি আ ফ ম নিজামউদ্দিন জানান, আটকদের মধ্যে দু’জন হামলায় জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে৷

গত ২৪শে আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইসলামী ছাত্র শিবির ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর 'সোহরাওয়ার্দি' হলে অভিযান চালায় পুলিশ৷ পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইসলামী ছাত্র শিবিরকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ হলটি বন্ধ করে দেয়৷ এর আগে গত ১২ই জানুয়ারি শিবির-ছাত্রলীগের সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর সিলগালা করে দেয়া হয় ‘শাহ আমানত হল'৷ এ হলটিও শিবির কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল৷

হল দু'টি খুলে দেয়ার দাবিতে 'হলের আবাসিক শিক্ষার্থী' ব্যানারে শিবিরকর্মীরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে ৩১শে আগস্ট থেকে থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়৷ ধর্মঘটের প্রথম দিন চৌধুরীহাট স্টেশনে শাটল ট্রেনে ককটেল ছোড়ে ধর্মঘটকারীরা৷ পরের দিন একই এলাকায় শিক্ষকবাস ভাঙচুর করা হয়৷গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইস্পাহানি রেল ক্রসিং এলাকাতেও একটি বাস ভাঙচুর করে ধর্মঘটকারীরা৷

চট্টগ্রামের সাংবাদিক হামিদউল্লাহ ডয়চে ভেলেকে জানান, বুধবারের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্যাম্পসে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন৷ সমাবেশ থেকে হামলার জন্য শিবিরকে দায়ী করা হয়৷ শিক্ষক সমিতি হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে মৌন মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে৷ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ফাঁকা হয়ে গেলেও শিবির তিনটি আবাসিক হল দখল করে আছে বলেও জানান৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন