ঘোর বিপদে আম আদমি পার্টি | বিশ্ব | DW | 24.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

ঘোর বিপদে আম আদমি পার্টি

একসঙ্গে ২০জন বিধায়ককে বরখাস্ত করার মতো ঘটনা ভারতে এর আগে ঘটেনি৷ জন্মের পর থেকেই আম আদমি পার্টি বিতর্ক সঙ্গে নিয়ে এগিয়েছে৷তবে এবারের বিতর্ক মহাবিপদে রূপ নিয়েছে৷

default

ফাইল ছবি

মন্ত্রীদের সহযোগী হিসেবে নির্বাচিত বিধায়কদের ‘‌সংসদীয় সচিব' পদ দেওয়া হয়েছিল৷ বিধায়কদের বরখাস্ত করা হয়েছে৷ প্রশ্ন উঠেছে, দিল্লিতে বিধায়করা বরখাস্ত হলে একই ‘‌অপরাধে'‌ বিজেপি-‌শাসিত হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর কিংবা ছত্তিশগঢ়ে হবে না কেন?‌

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা একাধিক ‘‌লাভজনক পদ'‌ দখল করে থাকতে পারেন না৷ অথচ তা-‌ই করেছেন আম আদমি পার্টি (আপ) বিধায়করা৷ প্রথমে না জেনেই তা করেছেন৷ পরে জেনে বুঝে জেদ বজায় রাখতে বহাল রাখা হয়েছে ২১জন বিধায়ককে৷ বছরখানেক আগে এক বিধায়ক পদত্যাগ করায় তিনি রেহাই পেয়েছেন৷ ক'‌দিন আগেই ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন আম আদমি পার্টির ২০ বিধায়ককে বরখাস্ত করার সুপারিশপত্র পাঠায় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে৷ তারপর রাষ্ট্রপতি সেই প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছেন৷

এদিকে, ‘‌বরখাস্ত'‌ হওয়া বিধায়কদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট ওই ২০টি আসনে পুন-‌নির্বাচন ঘোষণায় স্থগিতাদেশ জারি করেছে৷ বলা হয়েছে, আদালত নির্দেশ জারি না করা পর্যন্ত যেন নির্বাচন ঘোষণা না করে কমিশন৷ আপাতত এই ঘটনাকেই নৈতিক জয় হিসেবে দেখছে আম আদমি পার্টি৷

স্বভাবতই বিপাকে পড়েছেন ২০ জন বিধায়ক৷ মুখে আইনি লড়াইয়ের কথা বলছেন আপ নেতারা৷ যদিও তলে তলে ‘‌মিনি বিধানসভা নির্বাচন'‌-‌এর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে৷ দিল্লির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, এক্ষুণি ২০ আসনে ভোটগ্রহন হলে ২০১৫ সালের মতো এবার আর সবক'টি আসনে জয় ছিনিয়ে আনা কেজরিওয়ালের দলের পক্ষে সম্ভব নয়৷ যদিও আইনি পথে এর সুবিচার পাওয়া যাবে বলে এখনও আপ-‌এর আশা৷ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে যে মামলা করেছিল, সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে৷ নতুন করে একটি আবেদন জানাচ্ছে তারা৷

অডিও শুনুন 08:03
এখন লাইভ
08:03 মিনিট

‘আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে’

 

এ তো গেল একটা দিক৷ অন্যদিকও আছে৷ নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানোর পর আপ বিধায়করা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চেয়েছিলেন৷ রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বলা হয়, ‘‌‘‌রাষ্ট্রপতি দিল্লির বাইরে আছেন৷ তিনি ফিরলেই সাক্ষাতের বন্দোবস্ত করা হবে৷'‌'‌ কিন্তু, এরই ফাঁকে ছুটির দিনে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে সব শিবিরকে কার্যত অবাক করে দেয় রাষ্ট্রপতি ভবন৷ আপ নেতা সঞ্জয় সিংহের কথায়, ‘‘রাষ্ট্রপতির পদক্ষেপের পরে পুরো বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হচ্ছে৷ নতুন আদেশের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে দল৷''

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অচলকুমার জ্যোতি ‘‌লাভজনক পদ'‌ বিতর্কের সমাধান করলেন কর্মজীবন থেকে নিজের অবসর গ্রহণের ঠিক তিনদিন আগে!‌ কেন?‌ সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য অজানাই থেকে গেছে৷ যদিও আম আদমি পার্টি ছাড়া তা নিয়ে আর কারও মাথাব্যথা নেই৷ নতুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ওমপ্রকাশ রাওয়াত অবশ্য পুরোনো কমিশনারের সিদ্ধান্তে কোনও ত্রুটি খুঁজে পাচ্ছেন না৷ তিনি বলেছেন, ‌‘‘‌আপ বিধায়করা লাভজনক পদ বিতর্কে কমিশনের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগায়নি৷ দু'‌টো সুযোগ দেওয়া হয়েছিল৷ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁদের নোটিসও দেওয়া হয়েছিল৷'‌'

আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় বসু ডয়েচে ভেলে-কে জানালেন,‘‌‘‌মহামহিম রাষ্ট্রপতি বরখাস্ত করে দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু এটাই শেষ সিদ্ধান্ত নয়৷ এরপরেও আইনি পথ খোলা থাকে৷ স্বাধীন ভারতের ৭০ বছরের ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি৷ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে৷ সংসদীয় সচিব নিয়োগ করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁরা কেউই একটাকাও নেননি৷ সরকারি বাড়ি বা গাড়ি নেননি৷ কোনও অফিস পাননি৷ তাহলে কিসের জন্য বরখাস্ত করা হলো?‌ এছাড়াও আর একটি বিষয় হলো, ২০১৬ সালে দিল্লি হাইকোর্ট সংসদীয় সচিবের নিয়োগ বাতিল করেছিল৷ এখন প্রশ্ন, যে পদের অস্তিত্ব নেই, তার জন্য বিধায়কদের পদ খারিজ হবে কেন?‌'‌'

এদিকে, রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশন সুপারিশ পাঠানো মাত্রই শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন আপের বিধায়করা৷ আইনি লড়াইয়ের পথ ছাড়ছেন না৷ নতুন করে আবেদন করা হয়েছে৷ প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টেও যাবেন তাঁরা৷ এর মধ্যে শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক লড়াই৷ বরখাস্তের ঘটনায় এদিন দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিশোদিয়া দিল্লিবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি পোস্ট করেছেন টুইটারে৷ তাতে প্রশ্ন রেখেছেন, ‘‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এরকম অবৈধভাবে, অসাংবিধানিকভাবে বরখান্ত করা কি সঙ্গত হলো?‌‌ এভাবে নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হলো?‌''‌ বোঝা যাচ্ছে, ২০ আসনের উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে লড়াইয়ে নেমে পড়েছে আপ৷

আপের লড়াইয়ে সমর্থন আসছে উল্টো শিবির থেকেও৷ ‌আপ-‌এর দুর্দিনে সরাসরি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি৷ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সিদ্ধান্তকে ‘‌তুঘলকি'‌ বলেছেন বিজেপির মার্গ দর্শক যশোবন্ত সিংহ৷ একই সিদ্ধান্তের পেছনে ‘‌রাজনৈতিক প্রতিহিংসা'‌ দেখেছেন বিজেপি সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা৷ অসন্তোষ উগরে দিয়েছে শরিক দল শিবসেনাও৷ তাদের দলীয় মুখপত্র ‘‌সামনা'‌ বিধায়কদের ছাঁটাই করার হঠকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে৷ লিখেছে, ‘‘‌এভাবে হোলসেলে আপ বিধায়কদের পদ বাতিল হওয়ার ঘটনা অভূতপূর্ব। দুর্নীতি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচারের জন্যই সঙ্কটে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল৷''‌ সম্পাদকীয়তে লিখেছে, শীলা দীক্ষিত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ও, বহু বিধায়কের নামে লাভজনক পদ ধরে রাখার অভিযোগ ছিল৷ আরও অনেক রাজ্যে থেকে থেকে এমন অভিযোগ উঠেছে, তবে কাউকে এভাবে বরখাস্ত হতে হয়নি, মনে করিয়ে দিয়েছে ‘‌সামনা'‌৷ লিখেছে, ‘‘‌‌আপের ওই ২০ জন বিধায়ক নিজেদের সাফাই দেওয়ার সুযোগও পেলেন না!‌ এটা অন্যায়৷''

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং উপরাজ্যপাল অনিল বৈজালের অবিরত ঠোকাঠুকি লেগে থেকে, এবং মুখ্যমন্ত্রীকে হেনস্থা করার এতটুকু সুযোগ ছাড়েন না উপরাজ্যপাল, এমনও লেখা হয়েছে৷ মোক্ষম খোঁচাটি এইরকম, ‘‌‘‌কেজরিওয়ালের পরিবর্তে যদি বিজেপি‌র‌ কোনও মুখ্যমন্ত্রী থাকতেন, তাহলে উপরাজ্যপাল এমন ব্যবহার করার সাহসই পেতেন না!‌ বিজেপি‌‌র এজেন্টের মতো কাজ করছেন উনি!''

পাশাপাশি সম্পাদকীয়র বক্তব্য, ‘‌‘‌আপ বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ করতে যেভাবে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।'‌'‌ রাষ্ট্রপতিকে টুইটারে বিঁধেছেন আপ নেতা আশুতোষ৷ বলেছেন, ‘‌‘‌আশা করি, আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ জানেন যে, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিকে আর নারায়ণন সংবিধানের অভিভাবকের যোগ্য কাজ করেছিলেন, সাহসের সঙ্গে তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রস্তাব দু'‌বার ফিরিয়েছিলেন৷ উনি ছাপ–‌সর্বস্ব রাষ্ট্রপতি ছিলেন না, কার্যকরী রাষ্ট্রপতি ছিলেন৷‌''‌ ‌সবমিলিয়ে আপ বিধায়কদের বরখাস্ত ভারতে নতুন এক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে৷ জল কতদূর গড়ায় তা-ই এখন দেখার৷

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন