ঘূর্ণিঝড়ের হুমকি বাড়ায় বিপদে জেলেরা | বিশ্ব | DW | 11.03.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ঘূর্ণিঝড়ের হুমকি বাড়ায় বিপদে জেলেরা

বঙ্গোপসাগরে গেল ৩০ বছর ধরে মাছ ধরেন আবুল কালাম মাঝি৷ কিন্তু দিন দিন শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারির সংখ্যা বাড়ায় কাজটি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে তার জন্য৷

কালাম মাঝির মতো বাংলাদেশের দ্বীপগুলোতে বসবাসরত জেলেদেরকে ঝড়ের এই মৌসুমে মাসের অর্ধেক সময়ই বসে পার করতে হয়৷ ‘‘আমি এর আগে কখনও এত বেশি ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি হতে দেখিনি৷ এখন আমরা গ্রীষ্ম আর বর্ষা মৌসুমে মাসের ১০ থেকে ১৫ দিনই সমুদ্রে যেতে পারি না৷'' থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে বলছিলেন ৬৪ বছর বয়সি এই জেলে৷  

এই অঞ্চলের জেলেদের সবারই ঝড়ের কবলে পড়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ যার কারণে তাঁরা এখন আর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন না বলেও জানান তিনি৷

স্মৃতি হাতড়ে দুই বছর আগের এক ঘটনার কথা মনে করেন কালাম মাঝি৷ মাছ ধরার জন্য তাঁরা গিয়েছিলেন সমুদ্রে৷ এ সময় তার সঙ্গীরা ঘূর্ণিঝড়ের একটি সতর্কবার্তা পায়৷ তাঁদেরকে দ্রুত উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়৷ ‘‘কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে৷ তীরে পৌঁছানোর আগেই আমাদের মাছ ধরার নৌকায় ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে৷ উপকূল থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে একটি ছোট্ট দ্বীপে আমরা আটকা পড়ি,'' বলছিলেন তিনি৷ একদিন পর তাঁরা নৌকাটি বের করতে সক্ষম হন এবং বাড়ি ফিরে আসেন৷

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম৷ প্রতি বছর সাধারণত গ্রীষ্মের শুরু আর বর্ষার শেষদিকে  উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়  আঘাত হানে৷ যার সংখ্যা এখন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া কর্মকর্তারা৷ সরকারি হিসেবে, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ২০১৮ সালে মোট ১২টি ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই জেলেদের দুই থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে৷

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, সবমিলিয়ে ২০১৮ সালে ৭৫ দিন জেলেদের উপকূলে অবস্থান করতে বলেছেন তাঁরা৷ ‘‘গত বছরের প্রথম পাঁচ মাস বাদ দিলে আমরা প্রতিমাসে কম করে হলেও একটি পূর্বাভাস বা সতর্কতা সংকেত দিয়েছি,''  বলছিলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা৷

কাজ নাই তো খাবারও নাই

সমুদ্রে মাছ ধরার সুযোগ যত কম মিলে আর্থিকভাবে ততটাই বিপাকে পড়ে জেলে পরিবারগুলো৷ ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা ছাড়াও ইলিশের প্রজনন মৌসুমে অক্টোবর মাসের ২২ দিন সমুদ্র ও উপকূলীয় নদীগুলোতে সরকারের নির্দেশে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে৷ কালিরচর গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক জানান, মাছ ধরার সময় কমে আসায় তাঁর আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে৷ ‘‘একারণে আমরা সন্তানদের শিক্ষা আর চিকিৎসার খরচ মেটাতে পারছি না৷ এমনকি তাদেরকে দৈনিক তিন বেলা খাবারও দিতে পারি না,'' বলছিলেন মালেক, যিনি ২৭ বছর মাছ ধরে জীবিকা উপার্জন করছেন৷ বহু জেলে পরিবার এখন অনাহারে দিন কাটায় বলেও জানান তিনি৷

Bangladeschs Fischer kämpfen mit zunehmender Bedrohung durch Zyklone (Reuters/R. Islam)

বাংলাদেশের জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির মুখে যেভাবে সংগ্রাম করছে

হাতিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ লিটন বলেন, ঘূর্ণিঝড় বা অন্য কোনো সতর্কতা জারির কারণে মাছ ধরতে যেতে না পারলে বিতরণকৃত কার্ডের বিনিময়ে জেলেরা সরকারের কাছ থেকে খাদ্য সহযোগিতা পায়৷ যদিও এই কার্ডের সংখ্যা খুবই নগণ্য এবং তা বাড়ানো উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷ সংকটকালীন সময়ে জেলেদের যাতে আরো সহযোগিতা দেয়া যায় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষে থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানান লিটন৷ জেলেরা যাতে সবজি কিংবা মাছ চাষের মতো বিকল্প উপায়ে জীবিকা উপার্জন করতে পারে সেই চেষ্টা করছে জাতিসংঘের উন্নয়ন বিষয়ক প্রকল্প ইউএনডিপি৷ এমন তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির কমিউনিটি উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রজমান ভূইয়াঁ৷ যদিও এত পরিমাণ অসহায় জেলের জন্য যথেষ্ট বিকল্প বের করাটা কঠিন বলেও মনে করেন তিনি৷

ভিডিও দেখুন 01:33

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জীবন৷ বাংলার মুখ

তবে তাঁদের জন্য মাছের খামার গড়ে তোলা বিকল্প আয়ের একটি ভালো উপায় হতে পারে বলেই মনে করেন ঢাকাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস' বা সিইজিআইএস এর সহকারী নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান৷ তিনি বলেন, ‘‘দেশের স্থলভাগের মতো উপকূলীয় অঞ্চলের খালগুলোতে খাঁচায় মাছ চাষের প্রক্রিয়া চালু করা যায়৷ এটি জেলেদের জন্য একটি বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা হতে পারে৷'' 

ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ব্যবস্থা জনপ্রিয় হয়েছে বলেও জানান তিনি৷

রফিকুল ইসলাম, এফএস/জেডএইচ (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন