ঘাটতি নেই, তবু কেন রমজানে দাম বাড়ে? | বিশ্ব | DW | 18.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

ঘাটতি নেই, তবু কেন রমজানে দাম বাড়ে?

বরাবরের মতো এবারও রোজার শুরুতেই নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে৷ কিন্তু বাজারে এইসব পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরা৷ তারপরও পণ্যের দাম কেন রোজায় বাড়ে?

রোজার কয়েকদিন আগে থেকেই নিত্যপণ্যসহ কাঁচা সবজির বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে৷ একইসঙ্গে দাম বেড়েছে মাছ ও মুরগির মাংসের৷ গরুর মাংসের দাম বেঁধে দেয়া হলেও সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম নিচ্ছেন৷ দাম বেড়েছে ছোলাসহ ডাল জাতীয় ভোগ্যপণ্যের৷ এই পরিস্থিতি চলবে পুরো রমজান মাস জুড়ে৷ 

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবার রমজানে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে৷  নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের কোনো ঘাটতি নেই৷ আমদানী করা এবং দেশে উৎপাদিত পণ্য সবকিছুর সরবরাহ পর্যাপ্ত৷''

অডিও শুনুন 01:00
এখন লাইভ
01:00 মিনিট

‘পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে’

তারপরও দাম বাড়ছে কেন রমজানে? শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘রোজার মাসে ভোগ্যপণ্য কেনার যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে৷ তিনমাসে যা কেনেননি তা একমাসে কিনছেন সাধারণ মানুষ৷ আমরাদের তো পাগল হওয়ার মতো অবস্থা৷ ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘এই মাসে মানুষ বেশি কিনছেন৷ কেউ পুরো মাসের বাজার  একসঙ্গে করছেন৷ কেউ প্রয়োজনের চেয়েও বেশি কিনছেন৷ আবার সাধারণ মাসের চেয়ে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের ব্যবহারও বেশি হয়৷ এসব কারণে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়ে যায়৷'' তবে তাঁর দাবি, এবার পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়েনি৷

আর ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি নেসার উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এবার নতুন করে ডাল আমদনি করতে হয়নি৷ আমরা গত বছর যে বিভিন্ন ধরনের ডাল আমদানি করেছি তা থেকেই চাহিদা পূরণ হচ্ছে৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যানজট৷ আমাদের চট্টগ্রাম থেকে ডাল ঢাকায় আনতে হয়৷ রোজার কয়েকদিন আগে থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট শুরু হয়েছে৷ ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে গেছে৷ এ কারণে দামও কিছুটা বেড়েছে৷ তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার রোজায় দাম তেমন বাড়েনি৷''

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা দোকানগুলোয় প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়৷ প্রতি লিটার সয়াবিন ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে৷ আর পাঁচ লিটারের বোতল কোনো কোম্পানি ৫৪০ টাকা, কোনও কোম্পানি ৫৫০ টাকায় বিক্রি করছে৷ প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়৷

অডিও শুনুন 00:46
এখন লাইভ
00:46 মিনিট

‘সমস্যা হচ্ছে যানজট’

রমজানে বেড়েছে মসুর ডাল, কাঁচা মরিচ, শসা, বেগুন ও লেবুর চাহিদা বেড়েছে৷ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪০ টাকার প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ৩৫-৪০ টাকার কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ২০-২৫ টাকার হালি দরের লেবু ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে৷ মসুর ডাল মুদি দোকানগুলোয় ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করতে দেখা গেছে৷ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে৷

ঢাকার হাতিরপুল সবজি বিক্রেতা রহমত আলী বলেন, ‘‘ রোজার সময় সবাই কম-বেশি বাজার করে৷ এর ফলে এ সময় সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বাড়ে৷ আর চাহিদা বাড়লে বাড়ে পণ্যের দাম৷ আমরা সারা বছর যা বিক্রি করি তার বড় একটি অংশ এই রমজান মাসে বিক্রি করি৷ মানুষ কেনেও বেশি৷ আর আমরাও এই সময়েই মূলত ব্যবসা করি৷ এ আর নতুন কী!''

আর শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী আলি হোসেন বলেন,‘‘ক্রেতার হাবভাব দেখে মনে হয়, বাজারে সব পণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে৷ কিনতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হবে৷ অনেক সময় ক্রেতারা দাম-দর জিজ্ঞেস না করেই অতিরিক্ত পরিমাণ পণ্যের অর্ডার দিতে থাকেন৷ এক কেজির স্থলে দুই কেজি, দুই কেজির স্থলে ৫ কেজি, ৪ কেজির স্থলে ১০ কেজি পণ্য কেনেন৷ এতে বাজারে একটু চাপ পড়ে৷ এ কারণেই অনেক সময় সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়৷ আর এই সুযোগটি গ্রহণ করেন ব্যবসায়ীরা৷''

অডিও শুনুন 04:54
এখন লাইভ
04:54 মিনিট

‘মনিটরিং টিম ঠিকমতো কাজ করছে বলে মনে হয় না’

এদিকে সরকারের নির্দেশ অনুসারে বাজারের প্রবেশমুখে নিত্যপণ্যের দর টানিয়ে রাখার বিধান থাকলেও তা মানছেন না কেউই৷ সিটি কর্পোরেশন গরুর মাংসের দাম ঠিক করে দিয়েছে প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা৷ কিন্তু ৫০০ টাকার নীচে তা পাওয়া যাচ্ছে না৷ ব্রয়লার ও পাকিস্তানি উভয় জাতের মুরগির দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত৷ মুরগি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘‘ এমনিতেই গত শীতে মড়কের কারণে মুরগির উৎপাদন কম৷ আর রোজায় চাহিদা বেড়েছে৷ তাই দামও বাড়তি৷ এক হালি কক মুরগি আগে ছিল ৯ শ' টাক, এখন ১২শ' টাকা৷ মাছের দামও বেড়েছে৷

সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের একটি শক্ত সিন্ডিকেট আছে আমাদের দেশে৷ তারা অতিরিক্ত মুনাফার জন্য শুধু রোজা নয়, বিভিন্ন সময় বাজার নিয়ন্ত্রণ করে৷ ফলে অনেক ভোগ্যপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কম হলেও আমাদের এখানে বেশি৷ আর দেশীয় ভোগ্যপণ্যে মধ্যস্বত্বভোগীরা মুনাফার জন্য রমাজানে চাহিদার দিকে খেয়াল করে দাম বাড়িয়ে দেয়৷ ভারতে পিঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১২ রুপি আর সেই পিঁয়াজ আমাদের এখানে ৩৫-৪০ টাকা কেজি৷ এটা কিভাবে হয়?''

রমজানে  নিত্যপণ্যের বাজার সামলাতে আছে সরকারের ১১ সংস্থা৷ এই ১১ সংস্থার প্রায় ৩০-৩৫টি টিমের বাজার মনিটর করার কথা৷ কিন্তু  ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে ঠিকই মুনাফা লুটে নিচ্ছে৷ তাঁরা বলছেনন, এসব সংস্থার নির্দেশ অনেকেই মানছে না৷ কখন কোন সংস্থা কোন নির্দেশ দিচ্ছে, তা কে মানছে আর কে মানছে না, তা তদারকির কেউ নেই৷

অডিও শুনুন 00:31
এখন লাইভ
00:31 মিনিট

‘ইসলাম এই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে’

বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ও সিটি কর্পোরেশন৷ এর বাইরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করার কথা৷  একইসঙ্গে বাজারে আগে থেকেই কাজ করছে সরকারের চারটি গোয়েন্দা সংস্থা৷ ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজারে মূল্য পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ৫টি নিত্যপণ্য মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি, খেজুর ও ছোলা বিক্রি করছে৷ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে খোলা বাজারে বিক্রি করছে৷

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘এই মনিটরিং টিমগুলো ঠিকমতো কাজ করছে বলে মনে হয় না৷ বাজারে তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি দরকার৷ আগে আমরা বিক্রেতারা দাম বেশি নেয়ায় তাদের শাস্তির আওতাও  আনতে দেখেছি৷ এখন আর সেরকম হচ্ছে না৷ এইসব দৃশ্যমান তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অযথা দাম বাড়ানোর প্রবণতা কমবে৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘টিসিবি'র মাধ্যমে  কিছু পণ্য বাজারে ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে তাতে আসলে কোনো ফল আসবে না৷ প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই পণ্যের দাম ঠিক করতে হবে৷ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে৷ আমদানি পণ্যের সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে৷ মধ্যস্বত্বভোগীদের দূর করতে হবে৷''

আর ইসালামি বিশ্লেষক মুফতি নুসরাতুল্লাহ কাশেমি ডয়চে ভেলেকে বলেন,  ‘‘পুঁজিবাদী মানসিকতার কারণে একটি গোষ্ঠী রোজার মাসে মানুষকে জিম্মি করে, সিন্ডিকেট করে অতিরিক্তি মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করে৷ আমরা এটা অনেক দিন ধরেই দেখে আসছি৷ কিন্তু ইসলাম এই সিন্ডিকেট ও পণ্য জমা করে দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে বলেছে৷ মুসলমান হিসেবে আমাদের এই মানসিকতা পরিত্যাগ করা উচিত৷''

দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কী করা দরকার? লিখুন নীচের ঘরে৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও