ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীনতা | বিশ্ব | DW | 22.09.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

ঘরে-বাইরে নিরাপত্তাহীনতা

ভ্যান চালিয়ে যিনি কাপড় বেচতেন, সেই আপেল মাহমুদ নেমেছেন প্রতারণায়৷ খোলা রাস্তায় প্রকাশ্যে খুন করা হয়েছে নীলাকে৷ ঘরে ঢুকে দুই বোনকে হত্যা করেছে আরেক ঘাতক৷ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এমন অপরাধ আরো বাড়তে পারে৷

ঢাকা মহানগরে মামলার সংখ্যা বাড়ছে

ঢাকা মহানগরে মামলার সংখ্যা বাড়ছে

ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৫০টি থানায় গত মার্চে মামলার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৫টি৷ এপ্রিলে তা কমে দাঁড়ায় ৩৫২টিতে৷ মে মাসে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয় ৫১৮টি৷ আর জুনে তা আরো বেড়ে হয় ১ হাজার ১৭৭টি৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়া রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরাও লক্ষ্য করছি, অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে৷ আসলে চাকরি হারিয়ে বহু মানুষ এখন বেকার৷ নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের হাতে কাজ নেই৷ এই ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়৷ চুরি-ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ সামনে আরো বাড়তে পারে বলেও আমরা আশঙ্কা করছি৷ করোনার কারণে অনেকেই মানসিক স্ট্রেস নিতে পারবে না৷ ফলে আপনি দেখবেন গৃহ নির্যাতনও অনেক বেড়ে গেছে৷ আবার করোনায় নতুন করে আমরা প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছি৷ এখানেও প্রযুক্তিগত প্রতারণাও বেড়ে যাবে৷ ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন রক্তের প্লাজমা দেওয়ার নামে প্রতারণা হয়েছে৷ এখন সাইবার ক্রাইম কিন্তু আমাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ৷’’

অডিও শুনুন 04:51

নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের হাতে কাজ নেই: অধ্যাপক জিয়া রহমান

গত ১২ জুলাই আপেল মাহমুদ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ৷ আপেল মাহমুদ ভ্যানে করে জামা-কাপড় ও মৌসুমী ফল বিক্রি করতেন৷ করোনা মহামারি শুরুর পর তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়৷ এরপর তারা জীবন চালাতে প্রতারণা করে উপার্জনের সিদ্ধান্ত নেন৷ প্রতারণা করতে গিয়ে গত ২৪ জুন তারা সাঈদ নাগর নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাও করে ফেলে৷ টাকা দিতে না চাওয়ায় নির্যাতনের এক পর্যায়ে সাঈদ মারা যান৷ আরো কিছু মানুষের সঙ্গে প্রতারণার কথাও স্বীকার করেছেন আপেল মাহমুদ ও তার স্ত্রী৷

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, গ্রেফতারের পর এই দম্পতি প্রতারণা ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে যদিও এর আগে তাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনো অভিযোগ ছিল না৷ এই দম্পতির দাবি, করোনার কারণে উপার্জন না থাকায় তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন৷

শুধু এই দম্পতি নয়, এমন অসংখ্য অপরাধীর খোঁজ পাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ কয়েকদিন আগে গোয়েন্দা পুলিশ সিএনজি-চালিত অটোরিকশাচালক শফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগী সিদ্দিককে রাজধানীর ৩০০-ফুট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে৷ গ্রেফতারের পর শফিকুল স্বীকার করে, সিএনজি চালিয়ে এখন আর আয় হচ্ছে না বলে যাত্রীদের জিম্মি করে ছিনতাইয়ের পথে নেমেছেন৷ ফাঁকা রাস্তায় যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নেন তারা৷ পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মহামারির কারণে চাকরিহীনতা ও নিম্ন আয়ের মানুষদের আয় কমে যাওয়া এর জন্যে দায়ী৷ জীবন চালানোর জন্যে অনেকে অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন৷

অডিও শুনুন 03:50

চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ পুলিশ চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে: এ কে এম শহীদুল হক

এই পরিস্থিতিতে পুলিশের করনীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘‘গৃহ নির্যাতন পুলিশের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন৷ আবার প্রেম ঘটিত বিষয়েও হঠাৎ করে খুনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না৷ তবে এসব ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে৷ এখন কেউ যদি আগে থেকে পুলিশকে কোনো বিষয়ে অবহিত করে, তাহলে পুলিশের পক্ষে এগুলো দেখা সম্ভব৷ অর্গানাইজড ক্রাইম বা চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ পুলিশ চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে৷ টহল-চেকপোষ্ট, অভিযান বাড়িয়ে এগুলো দেখা সম্ভব৷ কিন্তু নতুন সংকটে মানুষের কাছে টাকা নেই, কাজও নেই৷ এই লোকগুলো অপরাধে নামলে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে? সেটার জন্য শুধু পুলিশ দিয়ে হবে না৷ রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, সমাজপতিসহ সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে৷ যাদের কাজ নেই, তাদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে৷ যার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, তাকে বিনা সুদে ঋণ দিতে হবে৷ সামাজিকভাবে চেষ্টা না হলে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করা যাবে না৷’’

গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিক্সায় করে বাসায় ফেরার সময় ছিনতাইকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন রড ব্যবসায়ী শুকুর আলী৷ গুলিস্তান সুপার মার্কেটের সামনে তিন ছিনতাইকারী তার বুকে গুলি করে সঙ্গে থাকা ৮ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়৷ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই ব্যবসায়ী জানান, কয়েকদিন ধরে গুলিস্তান সুপার মার্কেটের সামনে ছিতাইকারীদের উৎপাত বেড়ে গেছে৷ কিন্তু তারা গুলি করতে পারে একথা কখনো চিন্তাও করেননি তিনি৷

একই দিন সাভারে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ভাইয়ের কাছ থেকে অসুস্থ কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এক তরুণ৷ অভিযুক্ত তরুণের নাম মিজানুর রহমানকে (২০) এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ৷ কিশোরী নীলা রায় (১৪)৷ স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন৷

নীলার বড় ভাই অলক রায় স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, বাসা থেকে বেরিয়েই তারা মিজানকে দেখতে পান৷ তখন মিজান তাদের কিছু বলেনি৷ রিকশা নিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর পেছন থেকে এসে মিজান গতিরোধ করেন৷ তার হাতে দু'টি বড় ছুরি ছিল৷ রিকশার গতিরোধ করে মিজান তার বোনের সঙ্গে কথা আছে বলে রিকশা থেকে নামতে বলেন৷ তিনি বাধা দিলে মিজান তাকে হত্যার হুমকি দেন৷ এক পর্যায়ে মিজান তার বোনকে জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে নিয়ে যান৷ ভয়ে তিনি ও তার বোন চিৎকার করার সাহস পাননি৷ এমনকি তিনি তাদের পিছুও নেননি৷ মিনিট বিশেক পরে তিনি জানতে পারেন, মিজান তার বোনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়েছে৷

নীলার মা মুক্তি রায় বলেন, মিজান প্রায়ই নীলাকে উত্যক্ত করতো৷ বিষয়টি মিজানের মা-বাবাকে বলার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি৷ উল্টো মিজানের মা তার মেয়েকে মিজানের সঙ্গে কথা বলতে ও ফেসবুকে চ্যাট করার পরামর্শ দিতেন৷ এ অবস্থায় মিজানের অত্যাচারে বছরখানেক আগে তারা সাভারের বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের বালিরটেকে চলে গিয়েছিলেন৷

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ঘটনার পর থেকে মিজানকে  গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে৷ এমনকি মিজানের বাবা-মা-ও তাদের বাড়িতে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন৷ তাদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক অভিযান চলছে৷ এই বিষয়টি ঘটনার আগে পুলিশকে কেউ অবহিত করেনি৷ এই ঘটনায় মিজান ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে৷

রংপুর মহানগরীর মধ্য গণেশপুর এলাকায় পাশাপাশি রুমে দুই বোনকে হত্যা করা হয় গত শুক্রবার৷ একজনের মৃতদেহ মেঝেতে পড়ে থাকলেও অন্যজনের মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ৷ নিহত সুমাইয়া আক্তার মীম (১৫) কাপড় ব্যবসায়ী মোকছেদ আলীর মেয়ে ও জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ (১৩) বিদ্যুতের মিস্ত্রী মমিনুল ইসলামের মেয়ে৷ তারা আপন চাচাতো-জেঠাতো বোন৷ মীম রংপুরের একটি মাদ্রাসায় নবম শ্রেণির ছাত্রী ও মৌ বীরমুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন৷

রংপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহা. আব্দুল আলীম মাহমুদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এটা প্রেম ঘটিত ঘটনায় মার্ডার৷ আমরা হত্যাকারী যুবক মাহফুজার রহমান রিফাতকে গ্রেফতার করেছি৷ সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে৷ রিফাত শহরের মুলাটোল মদিনাতুল উলুম কামিল (এমএ) মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র ও এমদাদুল ইসলামের ছেলে৷’’

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন