ঘরের মধ্যেই বিশ্ব গড়ে তুলেছেন শিল্পী | অন্বেষণ | DW | 05.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

ঘরের মধ্যেই বিশ্ব গড়ে তুলেছেন শিল্পী

ভিন্ন সংস্কৃতির স্বাদ পেতে যেমন দেশ ভ্রমণ করা যায়, তেমন সেই সব সংস্কৃতির ছোঁয়া ঘরের মধ্যেও আনা যায়৷ বার্লিনে এক শিল্পী দম্পতি দেশ-বিদেশের নানা সামগ্রী নিয়ে নিজেদের ঘর সাজিয়ে এক অভিনব পরিবেশ গড়ে তুলেছেন৷

বার্লিন শহরের মাঝে পুরানো এক বাড়ি৷ পায়াম শরিফি সেখানে থাকেন৷ তিনি ইরানীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক৷ শিল্পী হিসেবে গোটা বিশ্বে তাঁর বিচরণ৷ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিজের ফ্ল্যাট সাজানোর প্রেরণা পান৷ বিভিন্ন দেশের শিল্পসামগ্রী ও আসবাবপত্র তাঁর বাসায় শোভা পাচ্ছে৷ প্রত্যেকটি বস্তুর নিজস্ব কাহিনি রয়েছে৷ পায়াম বলেন, ‘‘ঘরের মাঝে এই বস্তুটি এক পোলিশ শিল্পীর হাতে তৈরি ভাস্কর্য৷ তাঁর নাম অস্কার ডাভিৎস্কি৷ ভাস্কর্যের নাম ‘স্পিচ ইজ সিলভার'৷ মানুষের গলার আদলে তৈরি এই সৃষ্টিকর্ম মধ্যযুগীয় শাস্তির প্রতীক৷ সে যুগে ধর্মের অবমাননা বা প্রচলিত মতের বিরোধিতা করলে গলায় রুপো ঢেলে দেওয়া হতো৷''

সাদা দেওয়ালের গাম্ভীর্য ভাঙতে রংয়ের ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে৷ আগের রংয়ের স্তর সরিয়ে সিলিং-এর একটা অংশ মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে৷ ঘরের মাঝে চেক কিউবিজম শৈলির এক ঝাড়লণ্ঠন শোভা পাচ্ছে৷ পায়াম শরিফি বলেন, ‘‘গত প্রায় ১৫ বছর ধরে আমরা এই বস্তুটি ঘরে আনতে চাইছি৷ ২০০০ সাল নাগাদ প্রাগে প্রথম সেটি দেখি৷ কিন্তু সেটির মূল্য আমাদের সামর্থ্যের বাইরে ছিল৷ তখন আমাদের বাবা-মা নিজেদের জন্য সেটি কিনেছিলেন৷ ১৩-১৪ বছর পর নিজেদের বাড়ির জন্য এমন একটি ঝাড়লণ্ঠন কেনার সামর্থ্য হলো৷''

প্রায় ১০০ বর্গ মিটার বড় ফ্ল্যাটে থাকেন পায়াম শরিফি ও তাঁর স্ত্রী৷ ঘর সাজানোর প্রশ্নে শেষ কথা বলেন স্ত্রী৷ পায়াম বলেন, ‘‘ইনি কাশা, আমার পার্টনার৷ তিনিই গোটা অ্যাপার্টমেন্ট ডিজাইন করেছেন৷ মরক্কো থেকে আনা দরজা দিয়ে কাজ শুরু করেছেন৷ বার্লিনেই কাশা-র এক বন্ধুর কাছে এমন একটা বাড়তি দরজা ছিল৷ সৌভাগ্যবশত আমরা সেটা পেয়েছিলাম৷ এটা দিয়েই ঘর সাজানো শুরু হয়েছিল৷ এই দরজার বৈশিষ্ট্য হলো, এর মধ্যে দিয়ে গেলে যেন অন্য জগতে পৌঁছে যাওয়া যায়৷ আমার সঙ্গে আসুন৷''

শয়নকক্ষের মেঝের টাইলস যেন ভূমধ্যসাগরীয় পরিবেশের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ পায়াম শরিফি বলেন, ‘‘আসলে যেন এক মাইক্রোক্লাইমেট সৃষ্টি হয়৷ সবাই জানে, জানালা খুলে রেখে বাতাস বইতে দেবার চেয়ে বন্ধ অবস্থাতেই শীতল পরিবেশ থাকলে ভালো৷ এখানে সেই পরিবেশ আপনাকে মুড়ে দেয়৷''

এশিয়া ও আফ্রিকার নানা বস্তুর সমাহারে বার্লিনের মাঝেই এক ভিন্ন স্বাদের পরিবেশ উপভোগ করা যায়৷ কাঠের চেয়ার, পশম ও হাতে বোনা গালিচা এক অপরূপ আবহ সৃষ্টি করে৷ ফলে শহরের মধ্যেই ভিন্ন স্বাদের রূপ ফুটে ওঠে৷ এই শিল্পী-দম্পতি আরামদায়ক এক বাসা পছন্দ করেন৷ ফ্ল্যাটের প্রাণকেন্দ্র হলো ঘরের কোণে বসার জায়গা, যেটিকে নানা কাজে ব্যবহার করা যায়৷ পায়াম শরিফি বলেন, ‘‘একে বলে তখত৷ আমরা একে নদীর বিছানা বলি৷ ইরানের মতো দেশে নদী, কাফে বা পার্কের কাছে এমন আসবাব দেখা যায়৷ যেখানে অবিবাহিত নারী-পুরুষ সহজে মেলামেশা করতে পারে না, সেখানে এই তখতই তাদের সেই অভিনব সুযোগ দেয়৷''

প্রাচ্যের হাতের কাজের সঙ্গে সমসাময়িক শিল্পের মেলবন্ধনের ফলে অভিনব এক বাসস্থান সৃষ্টি হয়েছে৷ বিভিন্ন ধরনের শৈলি একই সঙ্গে দূরের হাতছানি ও ঘরের পরিচিত অনুভূতি এনে দেয়৷ বার্লিনের এক পুরানো বাড়ির মধ্যে বহু সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এক শিল্পকর্ম গড়ে উঠেছে৷

ডামলা কাইনাক/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন