‘ঘরের কথা′ বিদেশে বলে বিতর্কে জড়ালেন রাহুল | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 28.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

‘ঘরের কথা' বিদেশে বলে বিতর্কে জড়ালেন রাহুল

জার্মানি ও ব্রিটেন সফরে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী মোদী সরকার এবং হিন্দুত্ববাদীদের যেভাবে আক্রমণ করে এসেছেন, তা নিয়ে দেশে রীতিমতো ‘তরজা' চলছে৷ অনেকেই বলছেন, ঘরোয়া ইস্যু বিদেশের মাটিতে উগরে দেওয়া অনুচিত৷

বিদেশের মাটিতে মোদী সরকার এবং হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, আরএসএসকে যেভাবে লাগাতার আক্রমণ করে এসেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, তাতে বেজায় খাপ্পা বিজেপি৷ কী বলেছিলেন রাহুল গান্ধী ? মোদী সরকারের শুধু ব্যর্থতা তুলে ধরেই ক্ষান্ত হননি৷ সংঘ পরিবারকে আরব দুনিয়ার সন্ত্রাসবাদী মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে একাসনে বসিয়েছেন৷ মুসলিম ব্রাদারহুড এক নিষিদ্ধ সংগঠন৷ দুটি সংগঠনেই নারীদের স্থান নেই৷ রাহুলের মতে, আরএসএস ভারতের অন্যসব প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করতে চাইছে৷ আধুনিক ভারতের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করতে চাইছে৷ এই ধরনের কথাবার্তা ১২৫ কোটি ভারতবাসীকে অপমান করার শামিল৷

এরজন্য অবিলম্বে রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে বিজেপি৷ একজন সাংসদ, এক জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং সংসদে বিরোধী নেতা হিসেবে রাহুল গান্ধী কিভাবে এসব আপত্তিজনক কথা বলতে পারলেন- এই প্রশ্ন তুলে এজন্য রাহুল গান্ধীকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতেও বলেছেন বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র৷ সঙ্গে সঙ্গে আত্মপক্ষ সমর্থনে এগিয়ে আসে কংগ্রেস৷ দলের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান আনন্দ শর্মা মনে করেন, রাহুল আপত্তিজনক কিছু বলেননি৷ ব্রিটেনের লেবার পার্টি এবং শ্যাডো ক্যাবিনেট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাহুল গান্ধী স্রেফ ভারতের ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণশীলতা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অসাম্য ও অসহিষ্ণুতার কথাই তুলে ধরেছেন৷ এইসব ইস্যু কি বৈশ্বিক নয় ?

ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসকে সন্ত্রাসবাদী মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তুলনা কি ঠিক হয়েছে ? দুটো কি সমগোত্রীয় ? কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মার জবাব, ‘‘গণতন্ত্রে ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকতেই পারে৷ এটা একটা বৌদ্ধিক চর্চা৷ আদর্শগত বিতর্ক নয়৷ রাষ্ট্র বা জাতির বিরুদ্ধে কি কিছু বলা হয়েছে ? সেদিক থেকে ক্ষমা তো চাওয়া উচিত আগে মোদীর৷

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পূর্বসূরীদের অসম্মান করেছেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্বেও৷ প্রহসন হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনাবাসিক ভারতীয়দের সভায় এবং ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সৌলে মোদী যেসব বিতর্কিত কথা বলেছিলেন, তার জন্য কংগ্রেস মোদীকে ক্ষমা চাইতে বলেছিল৷ সৌলে নাকি মোদী বলেছিলেন, এককালে মনে করা হতো, ভারতে জন্মানো নাকি গত জন্মের পাপের ফল৷ কংগ্রেসের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই ধরনের মন্তব্য কি ভারতের গৌরব বাড়িয়েছে ?''

অডিও শুনুন 02:08

‘ক্ষমা তো চাওয়া উচিত আগে মোদীর’

এই প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলে প্রশ্ন রেখেছিল প্রবীণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানি ড. অমল মুখোপাধ্যায়ের কাছে৷ জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিদেশে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী যা যা বলেছিলেন, সেটা কি সমর্থনযোগ্য ? উত্তরে ড. মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘‘শুধু ভারতে নয়,আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘকালের একটা ঐতিহ্য ছিল, যখন কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক নেতা বিদেশে যাবেন, তখন সেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে একটি কথাও বলবেন না৷ আন্তর্জাতিক স্তরে সর্বত্র এটা অনুসরণ করা হয়েছে এবং ভারতেও অটল বিহারি বাজপেয়ী পর্যন্ত সবাই সেই ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে এসেছেন৷

কিন্তু দেখা গেল, গত চার বছরে নরেন্দ্র মোদী প্রথমেই যখন বিদেশে গেলেন, তখনই তিনি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন এবং তাঁর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল কংগ্রেস৷ শুধু তাই নয়, এমনকি তিনি বোঝাতে চেয়েছেন জওহরলাল নেহেরুর জমানায় বিশেষ কিছু উন্নতি হয়নি৷ এইভাবে মোদী দীর্ঘকালের একটা স্থায়ী রীতি বা ঐতিহ্য ভঙ্গ করেছেন৷ কাজেই আজ যখন রাহুল গান্ধী বিদেশে গিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন সম্পর্কে কথা বলছেন, মতামত প্রকাশ করছেন, আমার মনে হয়, এজন্য রাহুল গান্ধীকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না৷ কারণ, মোদী স্বয়ং যখন এই দরজাটা খুলে দিয়েছেন, সেই দরজা দিয়ে অন্যরা হাঁটবেন, এটাই স্বাভাবিক৷''

বিজেপির প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী বর্তমানে বিজেপির বিদ্রোহী নেতা যশবন্ত সিনহার মতে, নেতাদের উচিত বিদেশে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় তুলে ধরা থেকে সংযত থাকা৷ কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা টুইট করে বলেছেন, ‘‘আরএসএস, সরকার, এমন কি প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করা আর ভারতকে আক্রমণ করা এক কথা নয়৷ ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কংগ্রেস এবং কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে সমানে নিশানা করে গেছে বিজেপি৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন