গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপি নেতা-কর্মীরা | বিশ্ব | DW | 31.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপি নেতা-কর্মীরা

বিএনপি নেতা-কর্মীর গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন৷ কারণ মঙ্গলবার রাতে দলের দুই নেতা গয়েশ্বর ও অমিতকে গ্রেপ্তার এবং ঢাকায় প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মীর বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ৷ তাই এখন অনেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন৷

মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিশেষ আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় হাইকোর্টের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়৷ এ সময় হামলার শিকার হন পুলিশ সদস্যরা৷ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘তারা পুলিশকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে, রাইফেল ভেঙে ফেলেছে, লেগ গার্ড ভেঙে ফেলেছে, এমনকি প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে দু'জন আটককে ছিনিয়ে নিয়েছে৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘এই ঘটনায় ঢাকায় মোট তিনটি মামলা হয়েছে৷ আটক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ বিএনপির আরো শতাধিক নেতা-কর্মী এই মামলার আসামি৷ তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে হত্যাচেষ্টা, পুলিশের ওপর হামলা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগ আনা হয়েছে৷''

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে দলের চেয়ারপর্সন খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়কে পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে আটক করা হয়৷ এছাড়া জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে শান্তিনগরের বাসা থেকে ঐ দিন রাত ১২টার দিকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ৷

অডিও শুনুন 01:55
এখন লাইভ
01:55 মিনিট

‘যে দু'জনকে আটক করেছি তারা মামলার আসামি’

এরপর রাতে আরো প্রায় ৫০ জন নেতা-কর্মীর বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ৷ তাছাড়া মঙ্গলবার বিকেলে হাইকোর্টের সামনে থেকে আটক করা হয় আরো ১৮ জনকে৷ বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান ডয়চে ভেলের কাছে দাবি করেন, ‘‘মঙ্গলবার হাইকোর্টের সামনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়িত না৷ এটা একটা সাজানো ঘটনা৷ এর সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগ নেই৷ বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালাতেই এই ঘটনা সাজানো হয়েছে৷''

কেন এই গ্রেপ্তার অভিযান প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘‘সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে৷ এই মামলার রায় হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি৷ এর আগে ‘প্যানিক' সৃষ্টি করা হচ্ছে৷ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঘরের মধ্যে রেখে রায় ঘোষণা করতে চায় তারা৷ ঐ দিন যাতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা মাঠে না থাকতে পারেন, আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে যাতে সব কিছু থাকে, সেজন্যই এই গ্রেপ্তার অভিযান৷''

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপির নির্বাহী কমিটির বৈঠক করারও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না৷ সরকার বাধা দিচ্ছে৷''

বুধবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘গতকাল (মঙ্গলবার) যে ঘটনাটা হাইকোর্টের সামনে ঘটেছে, তা ইতিমধ্যেই সমস্ত পত্র-পত্রিকায় এসেছে৷ আমরা নিজেরাই ছেলেদের চিনতে পারছি না৷....আমরা আশঙ্কা করছি, অনুপ্রবেশকারীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে৷''

অডিও শুনুন 04:18
এখন লাইভ
04:18 মিনিট

‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়িত না’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা যে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি, শান্তিপূর্ণভাবে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি, সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এটাকে বিনষ্ট করবার জন্য কাজ করছে৷''

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘আবারও চক্রান্ত বাতাসে উড়ছে৷ আবারও ষড়যন্ত্র-পেট্রল বোমার গন্ধ পাচ্ছি৷ পুলিশের ভ্যান জঙ্গি স্টাইলে ভাঙা হলো, রাস্তায় গোলমালের জন্য নিয়োজিত বিএনপির সন্ত্রাসীরা কর্মীদের ছিনিয়ে নিল৷''

তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলবারের ঘটনার আলামত খারাপ৷ উদ্দেশ্য নোংরা৷ খালেদা জিয়ার আদালতে যাওয়া মানেই রাজপথে বিশৃঙ্খলা, একটি নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি৷''

উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমানের কথায়, ‘‘আমরা কোনো রাজনৈতিক কারণে তাদের আটক করছি না৷ যে দু'জনকে আটক করেছি তারা মামলার আসামি৷ পুলিশের ওপর হামলার তিনটি মামলায় যারা আসামি, এখন তাদের সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে৷''

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেছেন, ‘‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়িত না৷ এটা একটা সাজানো ঘটনা৷’’ প্রিয় পাঠক, আপনিও কি তাই মনে করেন? আপনার মতামত জানান নীচের ঘরে্৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন