গ্রেপ্তারকৃত হেফাজত নেতাদের মুক্তি দাবি করলেন বাবুনগরী | বিশ্ব | DW | 19.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

গ্রেপ্তারকৃত হেফাজত নেতাদের মুক্তি দাবি করলেন বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলামের গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেছেন সংগঠনটির আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী৷ তবে, পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতায় জড়িতদের গ্রেপ্তার অব্যাহত থাকবে৷

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সোমবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় পুরনো মামলায় তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘২০২১ সালে এসে কেন ২০১৩ সালের মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতদিন কোথায় ছিলেন আপনারা? এসব মামলায় যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে সবই মিথ্যা মামলা।’’

বাবুনগরী বলেন, ‘‘আজিজুল হক ইসলামবাদী, জুনায়েদ আল হাবীব ও মামুনুল হকসহ এ পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের সবাইকে মুক্তি দিতে হবে।’’ 

অডিও শুনুন 00:52

‘নেতারা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন’

হেফাজত বাংলাদেশের বড় একটি অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘প্রতিষ্ঠার ১১ বছরেও কোনো পার্টির সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সম্পর্ক ছিল না৷’’ 

হেফাজতের শীর্ষনেতা বাবুনগরী বলেন, ‘‘হেফাজত শান্তি-শৃঙ্খলা চায়। কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে নামানো হেফাজতের উদ্দেশ্য নয়। কোনো পার্টি বা দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হেফাজত ইসলামের উদ্দেশ্য নয়।’’

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘রমজানে প্রশাসন হেফাজতের নেতাকর্মীদের ও তৌহিদী জনতাকে হয়রানি করছে, গ্রেপ্তার করছে। নেতাকর্মীরা ভয়ে বাসায় আসতে পারেন না, সারারাত বাহিরে থাকতে হয়। ইফতার ও সেহরির সময়ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘এ কেমন হয়রানি, এ কেমন জুলুম নির্যাতন। এভাবে তো একটি দেশ চলতে পারে না। অবিলম্বে এই ধরপাকড়, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা, হয়রানি বন্ধ করুন।’’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরবিরোধী হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিল না দাবি করে ভিডিও বার্তায় বাবুনগরী আরও বলেন, ‘‘কিছু কিছু বক্তা তাদের বক্তব্যে এ ব্যাপারে বললেও মোদী আসার বিষয়ে হেফাজতের কোনো কর্মসূচি ছিল না। অথচ এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত ২৬ মার্চ জুমার দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু দুর্ঘটনা ঘটে।’’

এদিকে, রবিবার হেফাজত নেতা মামুনুল হক গ্রেপ্তার হওয়ার পর সংগঠনটির অনেক নেতা এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা এই বিষয়ে বলেন, ‘‘পরিস্থিতি উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে৷ অনেকেই এখন ভীত হয়ে পড়েছেন৷ তারা এখন অনেকটা হতভম্ব৷’’

তার দাবি, কেউ কেউ নিজেদের রক্ষায় সুরও পাল্টে ফেলেছেন৷

প্রসঙ্গত, এপর্যন্ত হেফাজতের প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে৷ এরমধ্যে মামুনুল হকসহ ছয়-সাতজন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন৷ কিন্তু মামুনুল হককে গ্রেপ্তারই ছিলো পুলিশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ৷

মামুনুল হকের মোম্মদপুরেরর জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা ঢাকায় হেফাজতের সবচেয়ে বড় আস্তানা৷ আশপাশে আারো ৭০-৮০টি কওমী মাদ্রাসা আছে৷ কিন্তু মামুনুলকে  সেখান থেকে গ্রেপ্তার করতে কোনো বাধার মুখেই পড়তে হয়নি পুলিশকে৷ অথচ এই মামুনুলকে নারায়ণগঞ্জের রিসোর্ট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল হেফাজতের লোকজন৷

ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন," মামুনুল আগেই তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে৷ ফলে তার জন্য হেফাজতের তেমন আগ্রহ ছিল না৷ আর গ্রেপ্তারের পর কর্মসূচি কে দেবে? কর্মসূচি মামুনুলই দিতো৷ সেই যখন আটক তাহলে আর কী হবে৷”

হেফাজতের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা করা হয়৷ মোদীর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে ২৬ ও ২৭ মার্চ হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা ও নারায়াণগঞ্জে যে নাশকতা হয়েছে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে মামুনুলের রিসোর্ট কান্ড সুবিধা করে দেয়৷ তারপর করোনা বেড়ে যাওয়া ও লকডাউনে কওমী মাদ্রাসাগুলোও খালি করা হয়৷  আর মামুনুলকে নিয়েও হেফাজতের নেতারাও দুই ভাগ হয়ে যান৷

অডিও শুনুন 01:49

‘নাশকতার সাথে যাদের যোগ আছে তাদের সবাইকে ধরা হবে’

হারুন অর রশীদ জানান, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে৷ নাশকতার সাথে যাদের যোগ আছে তাদের সবাইকে ধরা হবে৷ নতুন  করে নাশকতার চেষ্টা করলেও তাদের ধরা হবে৷”

একাধিক সূত্র জানায়, আরো ২০-২৫ জনের মত হেফাজত নেতা এখন নজরদারিতে আছেন৷ হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীও তার মধ্যে রয়েছেন৷ আর তাদের ধরতে ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের মামলা, হেফাজতের সাবেক আমির মাওলানা আহমদ শফী হত্যা মামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ের মামলাগুলো কাজে লাগানো হচ্ছে৷

উপ পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশীদ ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনায় বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার করেছিলেন৷ তিনি বলেন," বাবুনগরীর নিজের ও অন্যদের মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি জবানবন্দি আছে৷ আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানন্দিও আছে৷ ”

জানা গেছে সারা দেশে এখন হেফাজতের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক খুবই তৎপর৷ তাই অনেক নেতা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন৷ সরকার চাইছে তারা যেন আর পায়ের নিচে মাটি না পায়৷ হেফাজতের বিকল্প নেতৃত্ব নিয়েও চিন্তা চলছে৷

এদিকে মামুনুলকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে৷ তার কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ৷ আর এটা নিয়েও হেফাজত আতঙ্কে আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়