গ্রিসে শরণার্থী কিশোররা শরীর বেচছে | জার্মানি ইউরোপ | DW | 25.04.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব

গ্রিসে শরণার্থী কিশোররা শরীর বেচছে

মার্কিন গবেষকদের এক প্রতিবেদন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে৷ সেখানে বলা হয়েছে, গ্রিসে উদ্বাস্তু কিশোররা এখন জার্মানির মতো দেশে যাবার অর্থ সংগ্রহ করছে ‘শরীর বিক্রি' করে৷

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার কেন্দ্রের ড. ভাসিলেইয়া  এবং প্রফেসর জ্যাকলিন প্রতিবেদনে  ‘গ্রিসে অভিবাসী শিশুদের যৌন শোষণ ও অপব্যবহারের ক্রমবর্ধমান মহামারীর'' কথা বলেছেন৷ ডয়চে ভেলের আন্থে কারাসাভা বিষয়টি পরখ করতে অকুস্থলে গিয়েছিলেন৷

গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের কেন্দ্রে পেদিয়ন তু আরেয়স নামের সুবিশাল যে উদ্যান আছে, তার কাছের একটি বাস স্টপে এখন এই ‘দেহ ব্যবসা' চলে৷ আলি নামের এক পাকিস্তানি কিশোর তার ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে আন্থেকে ‘ভালো দাম দেওয়ার' প্রতিশ্রুতি দেয়৷

আরেক কিশোর জানায়, আন্থে ছেলের বদলে মেয়ে পছন্দ করলে তারও ব্যবস্থা করে দেয়া যাবে৷ এই কিশোরের নামও আলী৷ দুই ‘আলি'-র বয়সই ১৭৷ এই দুই কিশোরের কাছ থেকে জানা যায়, তারা দশ- পনেরো ইউরোর জন্য ‘তা' করে থাকে, কন্ডোম ছাড়াই৷ এভাবে জার্মানি যাবার জন্য নগদ টাকা সংগ্রহ করছে বলেও জানায় তারা৷

অরক্ষণীয়

১১-১২ বছরের শিশুদেরও এভাবে অর্থ উপার্জন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন গবেষকরা৷ মনে রাখা দরকার, গ্রিসে যে ৬২,৩৭৫ অভিবাসী আটকা পড়েছে, তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ তাদের মধ্যে ২,৩০০ জন আবার অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গ্রিসে এসেছে৷

যে শিশুরা তাদের দেহ বেচছে, গোড়ায় তাদের মধ্যে আফগান আর সিরীয় শিশুর সংখ্যাই নাকি বেশি ছিল৷ তাদের কারো কারো বয়স নাকি ১০ বছরের বেশি ছিল না৷ পরে ইরাকি, ইরানি আর ক্রমেই আরো বেশি পাকিস্তানি এই ‘সেক্স মার্কেটে' আসতে শুরু করে৷ অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ৮ শতাংশ মেয়ে আর তাদের দশ জনের মধ্যে নয় জনের বয়সই ১৪ বছরের কম বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ৷

পার্কের মধ্যেই গাছের ডালে পর্দা টাঙিয়ে তার পিছনে ব্যবসা চলতে দেখেছেন আন্থে কারাসাভা৷ অথচ পার্কে বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ড থেকে শুরু করে উদ্যানকর্মী, সবই আছে৷

এক প্যাকেট সিগারেটের জন্য

হার্ভার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যৌন ব্যবসায়ের ক্রেতা বা গ্রাহকরা ৩৫ বা তার বেশি বয়সের পুরুষ৷ এই পার্কটি ও এর কাছের ভিক্টোরিয়া স্কোয়্যার বহু বছর ধরে মাদক আর দেহ ব্যবসায়ের কেন্দ্র ছিল এবং এখনও আছে৷ শুধু ‘বিক্রেতারা' এখন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু৷ এখন নাকি এক প্যাকেট সিগারেট কিংবা এক বেলা পেট ভরে খাওয়ার জন্যে ১৫ বছরের কিশোররা স্বেচ্ছায় অন্যের যৌন লালসার শিকার হয়৷

এ বছর এই অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১,৩৫২ জনকে আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ ৯০০ জন এখনও পথে৷ এছাড়া তাদের কেউই জার্মানি বা অনুরূপ কোনো দেশে যাওয়ার স্বপ্ন ছাড়তে কিংবা গ্রিসে থেকে যাওয়ার কথা ভাবতে রাজি নয়৷

আন্থে কারাসাভা/এসি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন