গ্রিসে ‘অনিয়মিত’ বাংলাদেশিরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে | বাংলাদেশ | DW | 23.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

গ্রিসে ‘অনিয়মিত’ বাংলাদেশিরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে

গ্রিসে ‘অনিয়মিত বাংলাদেশিদের’ গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেখানে বসবাসরত প্রবাসীরা৷ গ্রিক কর্তৃপক্ষ জোর করে দেশে ফেরত পাঠাতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের৷

শনিবার এথেন্সে বাংলাদেশিদের বিক্ষোভ

শনিবার এথেন্সে বাংলাদেশিদের বিক্ষোভ

এথেন্সে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে গ্রিক পুলিশ৷ এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেক বাংলাদেশি৷ সেখানে বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের৷ এমন অবস্থায় অনেকে ভয়ে ঘরে বন্দি জীবনযাপন করছেন৷ অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ তাদের থাকার জায়গাগুলোতেও হানা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন৷ তবে বাংলাদেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘নথিভুক্ত’ হননি, এমন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনার কোনো তথ্য তারা পাননি৷

ফেরত গেলে মৃত্যু ছাড়া উপায় থাকবে না’

গ্রেপ্তারের ভয়ে এথেন্সে আরো কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে এক সপ্তাহ ধরে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি রয়েছেন সম্রাট৷ ইনফোমাইগ্রেন্টসকে তিনি বলেন, ‘‘আমার আদালতের অনুমতিপত্র আছে৷ মেয়াদ চার মাস থাকলেও আমি ভয়ে বের হচ্ছি না৷ শুনেছি, তারা সবাইকে ধরছে৷ আমার কাগজ এমনিতেই দুর্বল৷ তাই ছয়-সাত দিন ঘরবন্দি হয়ে আছি৷ কাজেও যেতে পারছি না৷ আমাদের মতো যারা আছে, তারা সবাই গৃহবন্দি৷ পুলিশ এমনকি মেসে, রুমেও রেইড দিচ্ছে৷’’

২০১৯-এর শেষ দিকে ইরাক থেকে তুরস্ক হয়ে ‘অনিয়মিত’ পথে গ্রিসে আসেন তিনি৷ প্রথমদিকে এথেন্সের বাইরে একটি জেলায় কৃষি খামারে কাজ করতেন৷ সেখানে বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন পেতেন বলে জানান৷ এর মধ্যে আশ্রয় আবেদনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরে আদালত থেকে এক বছরের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করেন৷ এথেন্সে এসে কাজ নেন রেস্তোরাঁয়৷ সেখানকার বেতন থেকে মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন৷ কিন্তু ধরপাকড়ের খবরে সামনের সময় অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে তার জন্যে৷ সম্রাট বলেন, ‘‘দেশে ১৪-১৫ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছে৷ এখন ঋণ শোধ না করে বাড়ি যেতে হলে কী জবাব দেবো৷ আমার মৃত্যু ছাড়া উপায় থাকবে না৷ বাড়িতে জমিজমাও নেই যে, বিক্রি করে ঋণ শোধ করবো৷ যতদিন অভিযান বন্ধ না হয় ততদিন এভাবেই থাকতে হবে৷’’

শুধু সম্রাট নন এথেন্সে অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের অনেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছেন৷ বাংলাদেশি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, ‘‘এই মাসের ১৩ তারিখ থেকে অভিযান শুরু হয়েছে৷ আমরা শুনেছি, পুলিশ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গণহারে গ্রেপ্তার করে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিচ্ছে৷ কারো রেসিডেন্স পারমিট (বসবাসের অনুমতি) থাকলে তা পরীক্ষা করে পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে৷ বাকিদের রেখে দেয়া হচ্ছে৷ ‘এথেন্স বিডি টোয়েন্টি ফোর ডটকম’ নামের একটি সংবাদ পোর্টালের এই সাংবাদিক দাবি করেন, ‘‘এথেন্স থেকে তিন শতাধিক ব্যক্তিকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়েছে৷ গতকাল (সোমবার) বিকালে একটি মেস থেকেও প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে আটক করার খবর শুনেছি আমরা৷’’

বাংলাদেশিদের উদ্বেগ যে কারণে

গত ডিসেম্বরে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ১৯ বাংলাদেশিকে ঢাকায় ফেরত পাঠায় এথেন্স৷ সেই সময় গ্রিসের অভিবাসী ও শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী নোতিস মিতারাচি জানান, বাংলাদেশের সরকারের সহযোগিতায় পাঁচ বছর পর অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি৷ গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আওতায় যারা নেই, তাদেরকে ফেরত পাঠাচ্ছে গ্রিস৷’’ অনিয়মিত অভিবাসী ফেরত নিতে ঢাকা সহযোগিতা করায় বৈধপথে বাংলাদেশ থেকে গ্রিসে মৌসুমি কর্মী আনার সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানান তিনি৷

পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নোতিস মিতারাচির ঢাকা সফরে দুই দেশের সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়৷ গ্রিসের অভিবাসী ও শরণার্থী মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এর মধ্য দিয়ে বছরে চার হাজার বাংলাদেশিকে মৌসুমি কাজের ভিসা দেবে গ্রিস৷

বর্তমানে দেশটিতে বসবাস করছেন এমন ১৫ হাজার বাংলাদেশিকেও দেয়া হবে সাময়িক কাজের অনুমতি৷ পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে লড়াই ও অবৈধভাবে যারা বসবাস করছে, তাদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে৷’’

এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশিরা উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম৷ গ্রিসের প্রবাসীদের ধারণা, ফেরত পাঠানোর জন্যই এখন এমন ধরপাকড় শুরু করেছে দেশটির আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী৷ এ নিয়ে তারা গত শনিবার এথেন্সে একটি বিক্ষোভেরও আয়োজন করেন৷ বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ গ্রিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘গ্রিস সরকারের নিশ্চয়ই একটা টার্গেট আছে, সেটা কী আমরা বুঝতে পারছি না৷’’

কেন অভিযান চালাচ্ছে গ্রিস

‘সংগঠিত অপরাধের’ বিরুদ্ধে এথেন্সে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো৷ সংবাদমাধ্যম টিওসি গত রোববার প্রকাশিত তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলমান অভিযানে ৬০০ পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন৷

অভিযানে প্রয়োজনীয় নথিবিহীন ৩৬১ জন অভিবাসী, বিদেশিকে ‘আটক কেন্দ্রে’ পাঠানো হয়েছে৷ ১৪ জনকে মাদক, নয় জনকে মানবপাচার, দুই জনকে ভুয়া কাগজের জন্য গ্রেপ্তারের করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে পুলিশের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে৷

যোগাযোগ করা হলে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তারা কোনো তথ্য পাননি৷ একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি গ্রিক সরকারের পুলিশ এখানে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে৷ এ ধরনের কার্যক্রমে বাংলাদেশিদের সংশ্লেষ নেই, কাজেই তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই৷ তবে যেহেতু বাংলাদেশি অনেক অনিয়মিত অভিবাসী গ্রিসে থাকেন, তাদের কেউ হয়ত এই ধরপাকড়ের মধ্যে পড়েও যেতে পারেন৷’’

দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, গ্রিসে মোট ৩০-৩৫ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন৷ এর মধ্যে বৈধভাবে অনুমতি নিয়ে বসবাস করছেন এমন সংখ্যা সাড়ে বারো হাজার৷ দূতাবাসের এই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘‘প্রায় ২৩ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশির মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রিস ফেরত পাঠিয়েছে৷ এটা প্রতীকী৷ ওরাও চায় না বাংলাদেশের অবৈধদের ফেরত পাঠাতে৷ কারণ, এখানে অনানুষ্ঠানিক খাতে বিদেশি শ্রমিকের একটা চাহিদা রয়েছে৷ ওদের বছরে ১৫ হাজার শ্রমিক লাগে৷ তার মধ্যে চার হাজার বাংলাদেশ থেকে নেবে এমন চুক্তি হয়েছে৷ এপ্রিলে সংসদে অনুমোদিত হলে এর প্রক্রিয়া শুরু হবে৷ বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকেও যেসব বাংলাদেশি অবৈধ হয়েছেন, তাদেরকে পর্যায়ক্রমে নিয়মিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে গ্রিসের মন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছেন৷ এই বিষয়ে দূতাবাস নিবিড়ভাবে গ্রিস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে৷ কিন্তু সংখ্যাটা এখানে এত বেশি যে তার ব্যবস্থাপনাটা অনেক জটিল৷’’

প্রথম প্রকাশ: ২২ মার্চ, ২০২১ ইনফোমাইগ্রেন্টস

অভিবাসী বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্রেন্টস তিনটি প্রধান ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের নেতৃত্বে একটি যৌথ প্লাটফর্ম৷ প্লাটফর্মটিতে রয়েছে জার্মানির আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে, ফ্রান্স মিডিয়া মোন্দ, এবং ইটালিয়ান সংবাদ সংস্থা আনসা৷ এই প্রকল্পের সহ-অর্থায়নে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়