গ্যাসলাইন নিয়ে জার্মান-অ্যামেরিকা বিতর্কের সমাধান | বিশ্ব | DW | 22.07.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি

গ্যাসলাইন নিয়ে জার্মান-অ্যামেরিকা বিতর্কের সমাধান

দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত বিস্তৃত নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপ লাইন নিয়ে অ্যামেরিকা ও জার্মানির মধ্যে বিতর্ক ছিল। বুধবার তার অবসান হলো।

বিতর্ক ছিল। সমালোচনা ছিল। রাজনীতিও ছিল। শেষপর্যন্ত তার অবসান হলো। নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইন নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছালো জার্মানি ও অ্যামেরিকা। মনে করা হচ্ছে, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সাম্প্রতিকতম মার্কিন সফরের পরেই বরফ গললো।

তবে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য জার্মানি এবং অ্যামেরিকা দুই দেশই নিজেদের অবস্থান থেকে সরেছে। ইউক্রেনের সুরক্ষার কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি এই পাইপলাইন যাতে ভূরাজনীতিতে রাশিয়াকে কোনো বিশেষ সুবিধা দিতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখা হবে বলে স্থির হয়েছে।

কী আছে চুক্তিতে

বুধবার দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি সই হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে জার্মানি পর্যন্ত নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপ লাইন তৈরিতে আর কোনো বাধা থাকবে না। কিন্তু জার্মানিকে খেয়াল রাখতে হবে, রাশিয়া যেন এই পাইপ লাইনকে ক্ষমতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে। পাইপ লাইনটি যাবে ইউক্রেনের উপর দিয়ে। দেখতে হবে, ইউক্রেন যেন ট্রানসিট ফি থেকে বঞ্চিত না হয়। গ্যাস এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দিক দিয়ে রাশিয়া অত্যন্ত সমৃদ্ধ। অন্যদিকে ইউরোপ এ বিষয়ে খানিকটা রাশিয়ার মুখাপেক্ষি। রাশিয়া যাতে সেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক সুযোগ হিসেবে না দেখে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাশিয়া যেন ইউক্রেনের উপর আর কোনো আগ্রাসন না চালায়। যদি এই ঘটনাগুলি ঘটে, তাহলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে কড়া পদক্ষেপ নেবে জার্মানি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির ব্যবস্থা করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও জার্মানি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে উৎসাহী করবে।

প্রতিটি প্রস্তাবই জার্মানি মেনে নিয়েছে। তারপরেই চুক্তি সই হয়েছে। অ্যামেরিকাকেও পিছু হঠতে হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই পাইপ লাইনের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। জো বাইডেনও এই পাইপ লাইন কখনো সমর্থন করেননি। অ্যামেরিকা বরাবরই বলেছে, এই পাইপ লাইন ভূরাজনীতিতে রাশিয়াকে অনেকটা অ্যাডভান্টেজ দেবে। যা তারা কোনো ভাবেই হতে দিতে চায় না। অ্যামেরিকায় গিয়ে এ বিষয়ে বাইডেনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন ম্যার্কেল। শেষপর্যন্ত বাইডেন সমঝোতায় আসতে রাজি হন। জার্মান রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সেপ্টেম্বরে ক্ষমতা ছাড়ার আগে আঙ্গেলা ম্যার্কেলের অন্যতম বড় সাফল্য এই চুক্তি।

ইউক্রেন নীতি

চুক্তিতে ইউক্রেন নিয়ে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করেছে দুই দেশ। জার্মানি এবং অ্যামেরিকা যৌথ ভাবে ইউক্রেনে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। ইউক্রেনে গ্রিন এনার্জি তৈরির জন্য এই অর্থ ব্যয় হবে। ইউক্রেনকে প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য শুধুমাত্র রাশিয়ার মুখাপেক্ষি যাতে না হতে হয়, তার জন্য এই ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার আলোচনার ব্যবস্থা করবে জার্মানি। যাতে পাইপ লাইন ইউক্রেনের উপর দিয়ে যাওয়া বাবদ ট্রানসিট অর্থ পায় দেশটি।

ম্যার্কেল-পুটিন কথা

বুধবার চুক্তি সই হওয়ার পরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনকে ফোন করেন ম্যার্কেল। চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে দুইপক্ষের। কীভাবে দ্রুত পাইপ লাইনের কাজ শেষ করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, ডিপিএ)