‘গো ব্যাক পিএম’ শ্লোগানে কী প্রমাণ করছি? | আলাপ | DW | 20.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ব্লগ

‘গো ব্যাক পিএম’ শ্লোগানে কী প্রমাণ করছি?

প্রবাসে প্রায়ই বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা সফরে গেলে সেখানে নানা রকম স্লোগানে মেতে ওঠেন সরকার প্রধানের পক্ষ-বিপক্ষের রাজনৈতিক দলের প্রবাসী নেতাকর্মী সমর্থকরা৷ নানান কর্মসূচি দেন৷ প্রায়ই তা দেশের জন্য হয় অসম্মানজনক৷

কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে দাদার দোকান বলে একটি চায়ের দোকান ছিল৷ এখনো আছে কিনা জানা নেই৷ শহরের কেন্দ্রে পুরোনো কাঠের দরজা, টেবিল চেয়ার৷ সবশেষ যেবার গিয়েছিলাম, তখনও দেখলাম আশেপাশের সব বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি দাদার দোকান৷ দোকানের কাঠের রং আরো কালো হয়েছে৷ মানচিত্রের মতো মাকড়সার জাল এখনো ঝুলছে অন্ধকার কোণগুলোতে৷ দোকানের চা এখনো আগের মতোই কড়া৷ চুমুকেই খাড়া হয়ে যায় মস্তিষ্কের শিরাগুলো৷ এই চায়ের কাপেই একটা সময় শিল্প, সাহিত্য, ঢের আলোচনা হতো৷ তবে সবকিছুই শেষ হতো রাজনীতিতে গিয়ে৷

পাড়ার দোকানে বা নির্দিষ্ট দোকানে প্রতিদিনের আড্ডা জমানোর বিষয়টি জার্মানদের ভেতরেও খুব আছে৷ জার্মানির লোকদের এই একটি বিষয় তাই আমাকে নস্টালজিক করে৷ এখানে অলিগলিতে পুরোনো বারগুলোতে ঢুঁ মারলেই একেবারে দাদার দোকানের একটি ইউরোপীয় রূপ আমি দেখতে পাই৷ এর কোনো কোনোটিতে এখানকার পরিচিতদের সঙ্গে যাওয়াও হয়েছে৷ যেমন, বন শহরে বনশ্ নামের একটি খাবারের দোকান ও বার আছে৷ এ দোকানটি স্থানীয় এক ব্যক্তি দীর্ঘকাল আগে দিয়েছিলেন শহরের কেন্দ্রে৷ সেখানেও দেখেছি কফি বা বিয়ারের মগে নানা বিষয়ে ঝড় তোলেন অনেকেই৷

HA Asien | Zobaer Ahmed

যুবায়ের আহমেদ, ডয়চে ভেলে

বনে খুব বেশি বাংলাদেশি নেই৷ এদের সবাইকে এখনো চিনেও উঠতে পারিনি৷ যে গুটি কয়েককে চিনেছি, তাদের সঙ্গে কখনোসখনো আড্ডা হয়৷ তাদের সঙ্গে আমিও গিয়েছি, এই বনশে৷ আড্ডায় নানা বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব পায় রাজনীতিটাই৷ যারা বলেন, বিদেশে এলে মানুষ দেশ নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু প্রকৃতই দেশ নিয়ে ভাবেন না৷ আমি বিদেশে আসার পর দেখেছি, তাদের কথা পুরোপুরি সত্য নয়৷ একে তো এই প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাঠান দেশে৷ দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখেন৷ তার ওপর দেশে থাকলে যে ‘ছোট ছোট' বিষয়গুলোও আমাদের ভাবায় না, তা নিয়েও এরা অনেক ভাবেন৷ অনেক সময় বেশিই ভাবেন৷ এর কারণ ঠিক এখনো ঠাহর করতে পারিনি৷ পেশাগত কারণে আমাকে এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়, কিন্তু যে মানুষটি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন দিনভর, কষ্ট করে অর্থ সংগ্রহ করে দেশে পাঠাচ্ছেন, তাঁর ভাবনার কিন্তু আরো অনেক কিছুই আছে৷ তিনি দেশ বা রাজনীতি নিয়ে কেন এতটা ভাববেন?

এই ভাবনার জায়গা থেকে অনেকে আবার প্রত্যক্ষ রাজনীতিতেও জড়িয়ে যান৷ তাই পৃথিবীর অনেক দেশেই বড় দলগুলো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ, বিএনপির ‘শাখা' আছে৷ আইনগতভাবে এরা শাখা খুলতে না পারলেও মুখে মুখে এই গোষ্ঠীগুলোকে তারা শাখাই বলে থাকেন৷ হয়ত কোনো রেস্টুরেন্টে বা কারো বাসায় নিয়মিত ‘রাজনৈতিক' আড্ডায় বসেই তারা এই শাখার কমিটি করেন৷ তবে হয়তো আশীর্বাদ থাকে দেশের বড় দলগুলোর শীর্ষ কোনো কোনো নেতার৷

এরাই যখন দলের নেতা দেশ থেকে আসেন, তখন সংবর্ধনা দেন৷ আবার বিরোধী নেতা আসলে পালটা কর্মসূচি দেন৷ সেখানে অনেক নেতিবাচক স্লোগান বা প্ল্যাকার্ড দেখি আমরা৷ এই কর্মসূচি কেন দেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলেছেন যে, বিশ্ববাসীকে দলের সমর্থন যেমন দেখানো দরকার, তেমনি বিপক্ষের যে কোনো সমর্থন নেই তা-ও দেখানোর দরকার আছে৷

এসব করতে গিয়ে এরা যেমন চেয়ার টেবিলও ভাঙচুর করেন, তেমনি মারামারি হাতাহাতিও করেন৷ সেটি দুই দলের সমর্থকদের মাঝে যেমন হয়, তেমনি এক দলের ভেতরও হয়৷ এগুলো মূলত অতিউৎসাহী সমর্থকদের কাজ৷ কারণ, এসব করে তারা দলের ভাবমূর্তি ‘উজ্জ্বল' করতে গিয়ে দেশের ভাবমূর্তি অনুজ্জ্বল করেন৷

প্রবাসীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা হয়ত প্রয়োজন রয়েছে৷ তারা যেমন দলের জন্য অর্থের জোগান দিতে পারেন, তেমনি কূটনীতিতেও ভুমিকা রাখতে পারেন৷ বিশেষ করে বাংলাদেশে, যেখানে রাজনীতিকরা জনগণের চেয়ে বিদেশি প্রতিভূদের মুখাপেক্ষী বেশি বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়, সেখানে তাদের ভূমিকা হয়তো গুরুত্বপূর্ণ৷ কিন্তু অর্থের জোরে মনোনয়ন কেনা, দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার অভিলাসের পেছনে আসলে ফিকে হয়ে আসে দেশপ্রেমের গল্পটা৷ আর বলাই বাহুল্য, চুমুকের পেয়ালা খসে মাটিতে পড়লে তা কিন্তু নিজেদেরই পরিষ্কার করতে হবে৷

প্রিয় পাঠক, আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন