গোটা উত্তর ভারত জুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 11.06.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

গোটা উত্তর ভারত জুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ

উত্তর ভারত জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ৷ সঙ্গে রাজধানী দিল্লিসহ আশেপাশের এলাকায় চলছে লাগাতার বিদ্যুৎ সংকট৷ আবহাওয়া বিভাগের অশনিসংকেত: বৃষ্টিপাত হবে স্বাভাবিকের চেয়ে কম৷ অবস্থা মোকাবিলায় মোদী সরকার ‘‘অ্যাকশন-প্লান’’ হাতে নিয়েছে৷

রাজধানী দিল্লি তথা উত্তর ভারত তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে৷ দিল্লির তাপমাত্রা এখন ঘোরাফেরা করছে ৪৬-৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে৷ সম্ভবত তারই জেরে গত এক সপ্তাহের বেশি দিন ধরে দৈনিক দফায় দফায় ১ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং ও জলকষ্ট৷ জনজীবনে ত্রাহি ত্রাহি রব৷ ঘেরাও করা হয়েছে দিল্লি প্রশাসনের সচিবালয়৷

মোদী সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল দিল্লির উপ-রাজ্যপাল নাজিব জঙের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকের পর, বিদ্যুৎ সংকেটের জন্য সাবেক কংগ্রেস জামানার নীতি-পঙ্গুত্ব এবং বিদ্যুৎ নীতিতে ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন৷ সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিদ্যুৎ সংকটের সমাধানের জন্য জরুরি ‘‘অ্যাকশন-প্ল্যান'' হাতে নিয়েছে৷ দু-একদিনের মধ্যে দিল্লিবাসীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে দূর হবে৷

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখানে কম নেই৷ সমস্যার আসল কারণ ‘ট্র্যান্সমিশন' এবং বণ্টন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা৷ সপ্তাহ খানেক আগে প্রবল ঝড়-তুফানে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ পরিবাহী টাওয়ারগুলির ক্ষতি হয়েছে, বলেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী৷ তবে দিল্লির কাছে বাওয়ানা পাওয়ার প্লান্টের উৎপাদন ক্ষমতা ১৫০০ মেগাওয়াট হওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন হতো মাত্র ২৯০ মেগাওয়াট৷ নতুন সরকারের নির্দেশে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করায় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেয়ায় বিদ্যুতের জোগান অতিরিক্ত ৪০০ মেগাওয়াট বেড়ে গেলে, আগামী ২/১ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই মিটে যাবে বলে মনে করেন মোদী সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী৷ কারণ, ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও তা পরিবহন এবং বণ্টনের মতো ক্ষমতা বর্তমানে নেই৷ তার জন্য কিছু সময় লাগবে৷ এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চলেছে লাগাতার চাপানউতোর৷

অন্যদিকে আবহাওয়া বিভাগ যে অশনিসংকেত দিয়েছে, তাতে মোদী সরকারের কপালে ভাঁজ৷ আবহ বিভাগের পূর্বাভাষ: গত চার বছরের মধ্যে এ বছর বৃষ্টি হবে সবথেকে কম৷ আর এল নিনোর আশঙ্কা ৭০ শতাংশ৷

প্রশান্ত মহাসাগরীয় বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে বৃষ্টিপাতের একটা যোগ আছে এবং তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বে৷ ফলে দেশের কোনো কোনো রাজ্য যেমন মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, গুজরাট ও রাজস্থান – যেখানে পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা নেই – সেখানে খরা মোকাবিলা করাই হবে মোদী সরকারের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ৷ কারণ দেশের আর্থিক উৎপাদনের ১৪ শতাংশের বেশি এই কৃষি৷ ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক কৃষি-নির্ভর৷ বর্ষার সঙ্গে পল্লি ভারতের জীবন ও জীবিকা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত৷ কৃষিজীবীদের আয় পড়ে গেলে ভোগ্যপণ্যের চাহিদাও কমবে সেই অনুপাতে, এমনটাই বললেন দিল্লির জাতীয় কৃষি অর্থনীতি কেন্দ্রের অধিকর্তা রমেশ চাঁদ৷

সেজন্য ভোগ্যপণ্য কোম্পানিগুলি কিছুটা চিন্তিত৷ দেখা দিতে পারে মুদ্রাস্ফীতিও৷ তবে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি মেটাতে মোদী সরকার নিজেদের তৈরি রেখেছেন৷ রাজ্যগুলিকে আগে থেকেই যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত করার নির্দেশ দিয়েছেন৷ মোদী সরকারের কৃষিমন্ত্রী রাধামোহন সিং জরুরি ‘‘অ্যাকশন-প্ল্যান'' হিসেবে সেচ পাম্পের জন্য ডিজেলে ভরতুকি, নামমাত্র সুদে কৃষি ঋণ এবং সস্তায় বীজ সরবরাহ করার কথা বলেছেন৷ শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে থাকবে কৃষি পণ্য বিষয়ক বিমাব্যবস্থাও৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন