গেম শিল্প আরো নারী ডিজাইনার চায় | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 21.08.2012
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞান পরিবেশ

গেম শিল্প আরো নারী ডিজাইনার চায়

প্রতি তিনজন জার্মানের মধ্যে একজন নিয়মিত কম্পিউটার গেম খেলেন৷ এবং গেমারদের অর্ধেকই নারী৷ যদিও এক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীদের পছন্দ ভিন্ন৷ সেই ভিন্নতা উপলব্ধি করেই এবার আরো বেশি নারী ডিজাইনার চাইছে গেম শিল্প৷

ক্যারোলিন গেপার্ট যখন তাঁর ছোট্ট সম্রাজ্যের দরজা খুলে দিল, তখন তাঁর মুখে ছিল হাসি৷ বার্লিনের শ্যোনেব্যার্গ এলাকার একটি পুরনো কিন্তু আলোবাতাসপূর্ণ ভবনে তাঁর এই সম্রাজ্যের অবস্থান৷ সেখানে তিনি এবং তাঁর ছয় সহকর্মী এক নতুন জগতের কাঠামো তৈরি করছেন৷ এক ভার্চুয়াল জগত - যেটি অত্যন্ত রঙিন, জটিল এবং রহস্যে ভরপুর৷

প্রতি তিনজন জার্মানের মধ্যে একজন নিয়মিত কম্পিউটার গেম খেলেন৷ এবং এই ধারা অব্যাহত রয়েছে৷ কিন্তু ঘর অন্ধকার করে শুধু হিংসাত্মক গেম খেলার প্রবণতা বোধহয় এখন আর আগের মতো নেই৷

কম্পিউটার গেম সকল বয়সি এবং সামাজিক গোষ্ঠীর কাছেই জনপ্রিয়৷ আরো মজার বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে গেমারদের অর্ধেকই হচ্ছে নারী৷ আর গেমের ক্ষেত্রে পুরুষের পছন্দের সঙ্গে অনেকক্ষেত্রেই নারীর কোনো মিল নেই৷

শুধু অ্যাকশন নয়, মেয়েরা এখন এমন গেম খেলতে পছন্দ করে, যা তাদের জন্য আরামদায়ক এবং অনেকটা কমিউনিটি নির্ভর হয়৷ সংশয়, মারামারি আর প্রতিযোগিতায় ভরপুর গেম তাদের বিশেষ পছন্দ নয়৷

Bildergalerie über Cosplay und Anime Kostüme Lili Rochefort

গেমের ক্ষেত্রে পুরুষের পছন্দের সঙ্গে অনেকক্ষেত্রেই নারীর কোনো মিল নেই

মেয়েদের পছন্দ হচ্ছে সামাজিক গেম, যেগুলো ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং বন্ধুদের সঙ্গে খেলা সম্ভব৷ এসব গেমের মাধ্যমে নারী নতুন জগৎ তৈরির চেষ্টা করেন৷ তাদের গেমে থাকে খামার রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা অশুভ আত্মার হাত থেকে কাল্পনিক বিভিন্ন জায়গা রক্ষার লড়াই৷

এসব সামাজিক গেমে সহিংসতা কিংবা শুটিং'এর উপস্থিতি খুব কমই থাকে৷ গেপার্ট বলেন, ‘‘মেয়েদের কাছে আবহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার৷ তারা আন্তরিক পরিবেশ চায়৷'' এক্ষেত্রে গেমের খুঁটিনাটি দিক যেমন, আলো এবং শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷

গেপার্ট ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার গেম খেলেন৷ ‘টেটরিস' থেকে ‘রেসিডেন্ট ইভিল' পর্যন্ত সব ধরনের গেমই খেলেছেন তিনি৷ ‘‘এমনকি সহিংস গেম, যেখানে আমার দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিপক্ষকে হত্যা করা, তেমন গেমও বাদ দেইনি'', বলেন তিনি৷ তবে মারামারি-কাটাকাটি নির্ভর গেম তিনি বিশেষ পছন্দ করেন না৷

চাহিদা সত্ত্বেও কম্পিউটার গেম নির্মাণের ক্ষেত্রে নারীর পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া এখনো বিশেষ সম্ভব হচ্ছে না৷ কেননা, গেম নির্মাতাদের অধিকাংশই পুরুষ৷ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই শিল্পে নারী ডিজাইনারদের সংখ্যা বেড়েছে বটে, কিন্তু তবুও সংখ্যাটা অনেক কম৷ ইন্টারঅ্যাকটিভ এন্টারটেনমেন্ট সফটওয়্যার বিষয়ক জার্মান বাণিজ্য সংগঠন বিইউআই'এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে গেম শিল্পে নারী ডিজাইনারের সংখ্যা মাত্র ২০ শতাংশ৷

এই শিল্পে যোগ দিতে আগ্রহী নারীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ জার্মানিতে ৪০টিরও বেশি সরকারি এবং বেসরকারি ইন্সটিটিউট বর্তমানে এই বিষয়ে ডিগ্রি গ্রহণ এবং গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে৷

Jo-Mei Berliner Entwickler von Computerspielen

বর্তমানে গেপার্ট এবং তাঁর ব্যবসা সহযোগী বোরিস মুনস'এর নিজস্ব একটি ছোট্ট সংস্থা রয়েছে৷ সেটার নাম ‘ইয়ো মেই'

এক্ষেত্রে গেমস অ্যাকাডেমি ‘আই বার্লিন'-এর কথা বলা যেতে পারে৷ দশ বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানে গেমিং ক্যারিয়ার শুরু করেন গেপার্ট৷ ১৮ বছর বয়সে একজন প্রশিক্ষিত ‘কমিক স্ট্রিপ' শিল্পী হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানে বৃত্তির আবেদন করেন তিনি৷ এবং তিনি হচ্ছেন মাত্র দু'জন নারীর একজন, যারা কিনা সেখান থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এবং গেমস ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার বেছে নিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘তখন এই শিল্পে নারী তেমন একটা ছিল না, ফলে আমরা দু'জন অনেকটা বহিরাগত প্রাণীর মতো ছিলাম৷'' গেপার্টের বেশিরভাগ সহশিক্ষার্থী ছিলেন পুরুষ৷ এতে করে তিনি অবশ্য বিশেষ অস্বস্তি বোধ করেননি৷

বর্তমানে গেপার্ট এবং তাঁর ব্যবসা সহযোগী বোরিস মুনস'এর নিজস্ব একটি ছোট্ট সংস্থা রয়েছে৷ সেটার নাম ‘ইয়ো মেই'৷ যৌথভাবে তাঁদের নির্মিত প্রথম গেম হচ্ছে ‘কোয়োটল'৷ গেপার্ট জানিয়েছেন, এই শিল্পে মেয়েদের উপস্থিতি এত কম কেন সেটা তাঁর বোধগম্য নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার দল এবং আমি সম্পূর্ণ নতন জগত গড়তে পারি৷ এবং মানুষ সেই জগত পছন্দ করে৷ পৃথিবীতে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো পেশা৷''

প্রতিবেদন: থেরেসা ট্রপার / এআই

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়