গৃহনির্যাতন বন্ধ করুন: জাতিসংঘ | বিশ্ব | DW | 06.04.2020

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

গৃহনির্যাতন বন্ধ করুন: জাতিসংঘ

করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে গৃহনির্যাতন, বিশেষ করে নারীদের প্রতি সহিংসতা মারাত্মাক মাত্রায় বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

রোববার রাতে এক ভাষণে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘‘অনেক নারী ও মেয়েদের ক্ষেত্রে যেখানে নিজ বাড়িতে তাদের সবচেয়ে নিরাপদে থাকার কথা ছিল, সেখানেই তারা সবচেয়ে বড় হুমকিতে রয়েছেন৷ 

‘‘তাই আমি আজ আপনাদের কাছে বাড়িতে শান্তি এবং সারা বিশ্বের সব বাড়ির ভেতর নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার নতুন একটি আবেদন নিয়ে এসেছি৷''

দেশের নাম প্রকাশ না করে তিনি আরো বলেন, ‘‘এই সময়ে কয়েকটি দেশে নারীদের সহায়তা কেন্দ্রে ফোন করে সাহায্যের আবেদন করার সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গেছে৷''

করোনা সংকট মোকাবেলায় সব দেশেই স্বাস্থ্যসেবাদানকারী এবং পুলিশ সদস্যদের দিনরাত এক করে কাজ করতে হচ্ছে, দেখা দিয়েছে কর্মী সংকট৷ লকডাউনের কারণে স্থানীয়ভাবে সহায়তা দেওয়া দাতব্য সংস্থাগুলোও কাজ করতে পারছে না৷ অনেকেই তহবিল সংকটে পড়েছে৷ গৃহনির্যাতনের শিকারদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোও একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷ যেগুলো খোলা সেগুলোতে উপচে পড়া ভিড়৷ গুতেরেস বলেন, ‘‘আমি সব সরকারের কাছে অনুরাধ করছি, আপনারা কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে যে পরিকল্পনা করছেন সেখানে নারীদের গৃহে নির্যাতনের শিকার হওয়া প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিন৷''

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস সংকট শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে গৃহনিপীড়ন প্রতিরোধে কাজ করা অনলাইন সার্ভিসগুলোতে ফোন অনেক বেড়ে গেছে৷ 

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে ভারতে করফিউ ‍জারির প্রথম সপ্তাহে দেশজুড়ে লিঙ্গভিত্তিক নৃশংসতার ঘটনা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে৷ তুরস্কে গত ১১ মার্চ থেকে জনগণকে ঘরে অবস্থানের নির্দেশ জারি করা হয়৷ তারপর সেখানে গৃহনির্যাতন এবং নারীদের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার হার ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে৷ 

দক্ষিণ আফ্রিকায় লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার প্রায় ৯০ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে৷

অস্ট্রেলিয়ায় অনলাইনে গৃহনির্যাতনের বিরুদ্ধে সহায়তা দান করা প্রতিষ্ঠানের খোঁজ আগের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে খোদ দেশটির সরকার৷

ফ্রান্সের এক মন্ত্রী জানান, দেশটিতে লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে দেশজুড়ে গৃহনির্যাতন ৩২ শতাংশ বেড়ে গেছে৷ রাজধানী প্যারিসে এই হার আরো বেশি, প্রায় ৩৬ শতাংশ৷

আশঙ্কাজনক এই পরিস্থিতিতে গুতেরেস বলেন, ‘‘যেভাবে আমরা একজোট হয়ে করোনা ভাইরাসকে হারাতে লড়াই করছি৷ ঠিক একই ভাবে একসঙ্গে কাজ করে আমরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মানুষের বাড়ি, সব জায়গায় নৃশংসতাকে প্রতিরোধ করতে পারবো, আমাদের পারতেই হবে৷''

এর আগে গত ২৩ মার্চ সারা বিশ্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন গুতেরেস৷

এসএনএল/কেএম (এপি)

সংশ্লিষ্ট বিষয়