‘গৃহকর্মীকে পরিবারের সদস্য মনে করলেই আর সমস্যা থাকে না′ | আলাপ | DW | 10.07.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘গৃহকর্মীকে পরিবারের সদস্য মনে করলেই আর সমস্যা থাকে না'

প্রায় প্রতিদিনই শোনা যায় গৃহকর্মী নির্যাতনের খবর৷ মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দা সাবিহা মুন্নী ডয়চে ভেলেকে  বলেছেন, গৃহকর্মীদের নিয়ে নিজের ভাবনা ও অভিজ্ঞতার কথা৷

ডয়চে ভেলে: ঘর সামলে চাকরি করছেন, নিশ্চয় কাজের মানুষের সহযোগিতা নিতে হয়?

সাবিহা মুন্নী: অবশ্যই৷ আমাকে যেহেতু দীর্ঘ সময় অফিসে থাকতে হয়, তাই কাজের মানুষের সহযোগিতা তো নিতেই হয়৷

আপনার বাসায় কতজন গৃহকর্মী আছেন? কতদিন ধরে আছেন তাঁরা?

ড্রাইভার বাদে একজন গৃহকর্মী আছে৷ সে আছে অন্তত পাঁচ বছর ধরে৷

এর আগে নিশ্চয় গৃহকর্মী বদল করেছেন?

হ্যাঁ করেছি৷

বর্তমানে যিনি আছেন তাঁকে আপনি কীভাবে পেয়েছেন?

ওকে আমি পেয়েছি মূলত আমার একজন পরিচিতের মাধ্যমে৷ যে কাজ করছে, সে আমাদের পাশের গ্রামের৷ পরিচিতের মাধ্যমে ওই গ্রাম থেকেই আমি তাকে এনেছি৷

এখন তাঁর বয়স কত?

এখন ওর বয়স ১৬/১৭ বছর৷ আমি ওকে খুব ছোটবেলায় এনেছি৷ তখন ওর বয়স ছিল ১০/১১ বছর৷ আমি নিজে ওকে একটু একটু করে গড়ে তুলেছি৷

সে নিশ্চয়ই কাজে কিছু ভুল করে?

তা তো অবশ্যই করে৷ করবেই৷ আর ও তো ছোট মানুষ৷ আমার মেয়েরা যেমন ভুল করে, আমি যেমন ভুল করি, সেভাবে ও ভুল করে৷ ভুল তো করবেই৷

অডিও শুনুন 06:54

‘ভালোবাসলে অনেককিছুই স্বাভাবিক হয়ে যায়’

সেটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

আমি সেটাকে স্বাভাবিকভাবেই নেই৷ কোনো ভুল করে ও যদি ভয়ও পেয়ে যায়, আমি সেটাকে ইজি করার চেষ্টা করি৷ ওকে বলি, ভুলটা তো আমারও হতে পারতো৷ এটা নিয়ে মন খারাপের কিছু নেই৷ ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুল না হয়, সেজন্য সাবধান করি৷ কাজটা ওকে ভালোভাবে দেখিয়ে দেই৷ এরপর ও ইজি হয়ে যায়৷

কোনো গৃহকর্মী কি আপনার জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়েছে?

আমি এদিক দিয়ে লাকি৷ এমন কখনও ঘটেনি৷ উলটো আমি তো দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি করি৷ আমার বাসায় আগেও গৃহকর্মী ছিল৷ তাদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা চলে গেছে৷ এখনও তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে৷ আমি অসুস্থ্ হলে এখনও তারা আমাকে দেখতে আসে৷ আমার মেয়েদের দেখতে আসে৷ ফোনে যোগাযোগ করে৷ ওদের সঙ্গে আমার এখনো খুব ভালো যোগাযোগ আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এখন যে গৃহকর্মী আছেন, তাঁর ব্যাপারে পুলিশকে কি কোনো তথ্য দিয়েছেন?

ফরম পূরণ করে পুলিশের কাছে দিয়ে রেখেছি৷ এ সংশ্লিষ্ট যেসব ফর্মালিটিজ আছে, তার সবকিছুই আমি করেছি৷

এখন যে গৃহকর্মী আছেন, তাঁকে আপনি কীভাবে ছুটি দেন?

ওর যখন ছুটির দরকার হয়, ওর মা আমাকে ফোন করে৷ আমি আগেই বলে রেখেছি, ওর ছুটি দরকার হলে যেন আমাকে ১০/১৫ দিন আগে জানায়৷ তখন আমি বিকল্প ব্যবস্থা করি৷ ৩/৪ মাস পর ও বাড়ি যায়৷ তখন আমি ওকে ১০/১৫ দিনের ছুটি একসঙ্গে দিই৷ ওর চাহিদা মতো ওকে ছুটি দেই এবং ও বাড়ি থেকে ঘুরে আসে৷

তিনি তো নিশ্চয়ই আপনার বাসায় থাকেন...

হ্যাঁ, আমার বাসায়ই থাকে৷

তাঁকে আপনি কোথায় থাকতে দেন ?

ওর জন্য আলাদা জায়গা আছে, ও ওখানেই থাকে৷

তাঁর বিনোদনের ব্যবস্থা আছে?

আমার ছোট মেয়ের সঙ্গে ও খেলতে যায়৷ কাজ শেষ করে ও টিভি দেখে৷ ওদের জন্য আলাদা টিভি আছে৷ কারণ, আমি যেটা দেখছি, ওরা সেটা না-ও পছন্দ করতে পারে৷ এ কারণে আমার মেয়েরা এবং ও একসঙ্গে টিভি দেখে৷ একটা টিভিতে আমরা দেখি, আরেকটাতে মেয়েরা এবং ও দেখে৷

তাঁর পছন্দের পোশাক কি কিনে দেন?

অবশ্যই ওর পছন্দের কাপড় কিনে দেই৷ বিশেষ করে ঈদের সময় আমি ওকে সঙ্গে করে মার্কেটে যাই৷ সেখানে ওর পছন্দমতো কাপড় কিনে দেই৷ অনেক সময় যদি বুঝি ও আমাকে বলতে দ্বিধাবোধ করছে, তখন ও আমার মেয়েদের মাধ্যমে ওর পছন্দ বলে৷ আমি নিজেও মেয়েদের কাছ থেকে ওর পছন্দের কথা জানার চেষ্টা করি৷ কারণ, ও আমাদের মেয়েদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ট৷ ওদের বয়সও কাছাকাছি৷ ও যেভাবে পছন্দ করে, আমি সেভাবেই ওকে পোশাক কিনে দেই৷

তিনি যখন বাড়িতে যান ,তখন তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য কিছু কিনে দেন?

ও যখন বাড়ি যায়, তখন ওর মায়ের জন্য আমি কিছু না কিছু কিনে দেই৷ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দেই৷ শাড়ি কিনে দেই৷ একবার মোবাইল ফোনও কিনে দিয়েছি৷

তিনি কি আপনার ওখানে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, নাকি গ্রামে ফিরে যেতে চায়?

আমার তো মনে হয়, ও এখানে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে৷ কারণ ওর একটা বড় বোন আছে৷ সে একবার জোর করে ওকে নিয়ে অন্য জায়গায় কাজে দিয়েছিল৷ ওই বাসা থেকে ও কৌশলে বেরিয়ে আমার বাসায় চলে আসে৷ আমাকে বলে, ও কাজ করলে এখানেই করবে৷ পরে ওর বোন-মা ওর সিদ্ধান্ত মেনে নেয়৷ এরপর থেকে ও আমার বাসাতেই থাকে৷

গৃহকর্মীর অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চয় আপনার জানা আছে?

হ্যাঁ, আছে৷

সেদিকে আপনি কতটা সচেতন?

আমি চেষ্টা করি৷ ঈদের সময় বোনাস দেয়া, ও অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, ওর থাকার জায়গাটা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার৷ আসলে ওকে আমার পরিবারের সদস্যই মনে করি৷ আমি যা করি, তা ওর জন্য করি৷ ওকে আমরা আলাদাভাবে দেখি না৷

আপনার মেয়েরা যে তাঁর সঙ্গে মেশে, সেটা আপনি কীভাবে দেখেন?

আমি মোটেও বিরক্ত হই না৷ বরং আমি নিজে ওকে আমার মেয়েদের সঙ্গে খেলতে পাঠাই৷ আমি ওকে ছোটবেলা থেকে এনেছি তো! ওকে আমি অনেক কিছু নিজের মতো করে শিখিয়েছি৷ যেমন, একটু লেখাপড়া শিখিয়েছি৷ ও বাংলা পড়তে পারে৷ সুন্দর করে শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারে৷ ইংরেজিতে ওর নাম লিখতে পারে৷ কিছু কথা ইংরেজিতে বলতেও পারে৷ কিভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হয়, সেগুলো ওকে শিখিয়েছি৷

গৃহকর্মী নির্যাতনের বিষয়ে আপনি কতটা সচেতন?

আমি আমার আশপাশের অনেক বাসায়ও এটা দেখি৷ আমার খুবই খারাপ লাগে৷ আমি বিষয়টাকে এভাবে দেখি, আমি নিজেও তো কোনো একটা জায়গায় চাকরি করি৷ ও যেভাবে আমার বাসায় কাজ করছে৷ আমারও তো দু'টো মেয়ে আছে৷ ও তো আমার মেয়েদের বয়সি৷ আসলে একটু সহানুভূতির চোখে দেখলেই হয়৷ ওকে পরিবারের সদস্য মনে করলেই আর কোনো সমস্যা থাকে না৷ ও যে ভুলটা করছে, সেটা তো আমার মেয়েরাও করতে পারে৷ তাহলে ওকে কেন নির্যাতন করতে হবে৷ ও গরিব বলেই তো এই বয়সে বাবা-মাকে ছেড়ে আমার বাসায় থাকছে, কাজ করছে৷ আসলে ভালোবাসলে অনেককিছুই স্বাভাবিক হয়ে যায়৷

অন্য গৃহকর্ত্রীর প্রতি আপনার পরামর্শ কী হবে?

আমি সবাইকে বলবো, ওদের সহানুভুতিশীল দৃষ্টিতে দেখার জন্য৷ মানবিক দৃষ্টিতে দেখার জন্য৷ আমি দেখেছি, গৃহকর্মীদের ঠিকমতো খাবার দেয় না৷ বাসী খাবার দেয়৷ এটা আমাকে খুবই কষ্ট দেয়৷ আমি মনে করি, ওদের চাহিদা ঠিকমতো পূরণ করলে কিন্তু একটা সময় ওদের চাহিদা কমে যায়৷ সেটা খাবার হোক বা অন্য যা কিছুই হোক না কেন৷

সৈয়দা সাবিহা মুন্নীর সঙ্গে আপনি একমত? মন্তব্য লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন