গুমের শিকারদের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ, পুলিশের অস্বীকার | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 15.03.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

গুমের শিকারদের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ, পুলিশের অস্বীকার

বাংলাদেশে গুমের শিকারদের পরিবারকে হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা৷ পুলিশের দাবি, হয়রানির ঘটনা ঘটেছে বলেই তাদের জানা নেই৷

(ফাইল ছবি) মানবাধিকারকর্মীদের হিসাবে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে অন্তত ৬০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন

(ফাইল ছবি) মানবাধিকারকর্মীদের হিসাবে ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে অন্তত ৬০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন

জাতিসংঘের  মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এ দাবি জানান৷ বিবৃতিতে বলা হয়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর র‌্যাবের কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের কর্মীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ হুমকি, চাপ প্রয়োগ ও হয়রানি শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে৷

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, গুমের শিকার ১০ জনের পরিবারের সদস্য ও স্বজনের বাড়িতে গত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে গভীর রাতে অভিযান চালানো হয়৷ অভিযানের সময় তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি ও ভয় দেখানো হয়৷ সাদা কাগজে বা আগে থেকেই লিখে রাখা বক্তব্যে তাদের সই করতে বাধ্য করা হয়৷ সেই বক্তব্যে উল্লেখ করা ছিল যে, পরিবারের সদস্য গুমের শিকার হননি, বরং তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছেন৷

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অরো বলা হয়, বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে বেশির ভাগ গুমের ঘটনার সঙ্গে র‌্যাবের জড়িত থাকার বিষয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে, যা জাতিসংঘের গুম বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে৷ আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বাংলাদেশ এসব গুরুতর অভিযোগের ব্যাপারে সঠিক অনুসন্ধান এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য দায়বদ্ধ৷ র‌্যাবসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে তদন্ত ও ফৌজদারি দায় থেকে রেহাই দেয়া উচিত নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়৷

অডিও শুনুন 03:13

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে: নূর খান

আসকের বিবৃতি
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-ও গত জানুয়ারি মাসে এ  বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিল৷ সেখানে তারাও একই ধরনের অভিযোগ করেছিল৷ তারা বিবৃতিতে বলেছিল, ‘‘বিভিন্ন সূত্র থেকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানতে পেরেছে যে, বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গত কিছুদিন ধরে নানাভাবে যোগাযোগ করছেন এবং নানা ধরনের প্রশ্ন বা তথ্য জানতে চাওয়ার মাধ্যমে তাদের হয়রানি করছেন৷ একই সঙ্গে পরিবারগুলোর কাছ থেকে জোর করে লিখিত কাগজে সই নেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যেখানে লেখা রয়েছে যে, ওই ব্যক্তি গুমের শিকার হননি, তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন৷’’

আসকের সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, পুলিশের এই ধরনের তৎপরতা এখনো অব্যাহত আছে৷ তিনি বলেন, ‘‘হয়ত পুলিশ চাইছে তাদের মতো করে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ৷ এতে গুমের  শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে৷’’

তিনি দাবি করেন, ২০১৩ সাল থেকে কমপক্ষে ৬০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন৷ এর মধ্যে ২০০ জনের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ বাকিরা কেউ ফিরে এসেছেন, কাউকে আটক দেখানো হয়েছে৷ আবার কারো লাশ পাওয়া গেছে৷

ভিডিও দেখুন 02:54

গুম, খুনের শিকারদের পরিবারের দুঃখগাঁথা



দুই পরিবারের কথা
গুমের শিকার এরকম দুইজনের পরিবারের সঙ্গে মঙ্গলবার কথা বলেছে ডয়চে ভেলে৷ ২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকার অদূরে সোনারগাঁ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ঢাকার সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সে সময়ের সভাপতি মাহবুব হাসান সুজন৷ তার কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি৷ তার বাবা আবদুল জলিল মঙ্গলবার বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর একদিন রাতে পুলিশ আমাদের বাসায় আসে৷ তারা তাদের লেখা একটি কাগজে আমাকে সই করতে বলেছিল, কিন্তু আমি করিনি৷’’

সেই কাগজে কী লেখা ছিল- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের কাগজে লেখা ছিল আমরা পুলিশকে বিভ্রান্ত করছি৷ আমরা কোনো মামলা বা জিডি করিনি৷ আসলে আমরা জিডি করেছি সোনারগাঁ থানায়৷ সবুজবাগ থানা তখন আমাদের জিডি নেয়নি৷’’ তিনি আরো বলেন, ‘‘এরপর অবশ্য পুলিশ আমাদের সাথে আর যোগাযোগ করেনি৷ তবে আমরা এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে আছি৷’’

২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নিখোঁজ আরেকজন হলেন ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার তখনকার ছাত্রদল নেতা মো. সেলিম রেজা পিন্টু৷ তার বোন রেহানা বানু মুন্নি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর পুলিশ আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছে৷ আমরা আদালতে মামলা করেছিলাম৷ আদালত পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে৷ পুলিশ জানতে চেয়েছে পিন্টুর কোনো খোঁজ আছে কিনা৷ আমরা জানিয়েছি, না, এখনো কোনো খোঁজ নেই৷ থানা থেকে পাঠানো একটি কাগজে আমরা তার খোঁজ না পাওয়ার  কথা লিখে দিয়েছি৷’’

অডিও শুনুন 02:04

পুলিশের কাগজে লেখা ছিল আমরা পুলিশকে বিভ্রান্ত করছি: আবদুল জলিল

পুলিশ কোনো ভয় দেখিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘না, পুলিশ কোনো ভয়-ভীতি আমাদের দেখায়নি৷ তবে একটি প্রশ্ন করেছে যে, পিন্টু বাসায় আসে কিনা৷ গত পরশু দিনও পুলিশ খোঁজ নিয়েছে৷’’

পুলিশ সদর দপ্তর যা বলছে
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরেরর এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান বলেন,‘‘গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কখনোই বাংলাদেশ পুলিশ কোনো ধরনের হয়রানি করেনি৷ পুলিশ যদি তাদের পরিবারে গিয়ে থাকে, সেটা তদন্তের স্বার্থে, যৌক্তিক কারণে, সময়ের প্রয়োজনেই গিয়েছে৷ ভয়-ভীতি দেখানোর কোনো কারণ নেই, এ ধরনের কোনো ঘটনাও আমার জানা মতে ঘটেনি৷’’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কোনো তদন্তের কাজে গেলে সেখানে সই নেয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে৷ সেটা কেউ ইচ্ছুক না হলে জোর করে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে নয়৷ এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার কারণ নেই এবং আমার জানা মতে ঘটেনি৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন