‌গা জ্বালানো রসিকতা | বিশ্ব | DW | 31.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‌গা জ্বালানো রসিকতা

পেট্রোল-ডিজেলের দামের ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত সংশোধিত হয় জ্বালানির দাম৷ সেই বৃদ্ধি সম্প্রতি বাঁধনছাড়া৷ কিন্তু কেন্দ্র সরকার নির্বিকার!‌

ভারতে জ্বালানির দামের হ্রাস-বৃদ্ধির ওপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ উঠে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রতিদিন সংশোধিত হয় পেট্রোপণ্যের দাম৷ অর্থাৎ অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়লে ভারতেও জ্বালানির দাম বাড়ে, আর কমলে ভারতেও কমে৷ বলা হয়েছিল, এতে সুবিধে হবে গ্রাহকেরই৷ আন্তর্জাতিক দর ওঠানামার ফল গ্রাহক হাতেহাতে পাবেন৷ কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত দেশে ঘটলো ঠিক উল্টো!‌ নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এসেছেন ২০১৪ সালে৷ সেই সময় থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের দাম ধারাবাহিক হারে কমতে থেকেছে৷ কিন্তু সাধারণ মানুষ নয়, তার সুযোগ নিয়েছে সরকার৷ নভেম্বর ২০১৪ থেকে জানুয়ারি ২০১৬-র মধ্যে নয় দফা জ্বালানির ওপর কেন্দ্রীয় শুল্ক বেড়েছে৷ টাকার অঙ্কে পেট্রোলের ক্ষেত্রে সেটা ১১ দশমিক ‌৭৭ টাকা, আর ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৩ দশমিক ‌৪৭ টাকা শুল্কবৃদ্ধি৷ কেন্দ্র সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যন তখনই সতর্ক করেছিলেন সরকারকে যে, এরপর যখন অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়বে, এই বর্ধিত কেন্দ্রীয় শুল্ক তার সঙ্গে যোগ হয়ে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে সাধারণ মানুষের৷ এবং ঠিক হলোও তাই৷ কর্ণাটকে বিধানসভা ভোট ছিল বলে টানা ১৯ দিন রাষ্ট্রায়ত্ব তেল সংস্থাগুলিকে দাম সংশোধন করতে দেয়নি কেন্দ্র সরকার৷ ঠিক যেদিন ভোট শেষ হলো, ক্রমাগত বাড়তে শুরু করল জ্বালানির দাম এবং লাগাতার ১৬ দিন ধরে বাড়তেই থাকল৷ শেষ এক মাসে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বেড়ে এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যা গত পাঁচ বছরে হয়নি৷

সদ্য এর সঙ্গে যোগ হলো সরকারি রসিকতা৷ ১৬ দিন ধরে দেশের চার মেট্রো শহরে ৩ দশমিক ‌২২ থেকে ৩ দশমিক ‌৯৯ টাকা দাম বাড়ার পর ১৭তম দিনে দাম কমলো ১ পয়সা৷ তার পরের দিন পেট্রোলে আরও ৭ পয়সা, ডিজেলে ৫ পয়সা৷ কেন্দ্রীয় জ্বালানি মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রথমে আশ্বাস দিয়েছিলেন, দাম কমবে৷ একদিন পরেই তিনি বললেন, হঠাৎ করে দাম কমানো যাবে না৷ এ ব্যাপারে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে৷ কিন্তু কী সেই পরিকল্পনা, তার সামান্যতম আন্দাজও দিতে পারছেন না মন্ত্রী মহোদয়৷ তবে এটাও ঠিক, কেন্দ্র সরকারকে কিছু একটা করতে হবেই, কারণ, পরের সাধারণ নির্বাচনের আর এক বছরও দেরি নেই৷ কিন্তু কতটা কী করা যাবে, সন্দেহ আছে সে নিয়ে৷ কারণ, ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজেই বলেছেন, গত বছরের থেকে এ বছর জ্বালানি আমদানির খরচ বাড়বে৷ অর্থাৎ, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়বে এবং তার জেরে মার্কিন ডলারের তুলনায় টাকার দাম আরও পড়বে, যা এর মধ্যেই বেড়ে ৬৮ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে৷

বিরোধীরা স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ জোরদার করছে৷ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি টুইট করেছেন, ‘‘জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষিকাজ থেকে পরিবহণ, সবকিছুতে৷ বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে৷ কেন্দ্র সরকার কিছু করছে না কেন?''‌

যুব তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বুধবার কলকাতায় একটি অবস্থান বিক্ষোভের আয়োজন হয়েছিল৷ সেই সমাবেশে তৃণমূল যুব নেতা, সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি বলেছেন, কেন্দ্র যদি সাড়া না দেয়, তাহলে তৃণমূল এই আন্দোলন দিল্লিতে নিয়ে যাবে৷ ওদিকে পশ্চিমবঙ্গের বেসরকারি পরিবহণ ক্ষেত্রে বড় মাপের ধর্মঘটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ এমনিতেই সারা দেশের ট্রাক পরিচালকদের সংগঠন ‘‌অল ইন্ডিয়া মোটর কংগ্রেস'‌ ১৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, যাতে শামিল হবে পশ্চিমবঙ্গের ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ট্রাক৷ এই ধর্মঘট যদি সত্যিই শুরু হয়, তা হলে রাজ্যের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে৷ বিশেষত ভিনরাজ্য থেকে যে মাছ, ডিম, শাকসবজি, চাল, ডাল, মশলা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর যে নিয়মিত জোগান আসে, তা বন্ধ হয়ে যাবে৷ একইভাবে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট করার হুমকি দিয়েছে বেসরকারি বাস এবং ট্যাক্সি ইউনিয়নগুলি৷  

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়