গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু | বিশ্ব | DW | 08.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

গান্ধী পরিবারের নামে তিনটি ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এ বার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালো কেন্দ্রীয় সরকার। যা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ফের সরাসরি গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ কেন্দ্রের বিজেপি শাসিত সরকারের। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে গান্ধী পরিবারের সঙ্গে জড়িত তিনটি ট্রাস্টের বিরুদ্ধে বিশেষ তদন্ত করা হবে। অভিযোগ, তিনটি ট্রাস্টই নানাবিধ আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। কংগ্রেস অবশ্য অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। তাদের বক্তব্য, লাদাখ সমস্যা থেকে চোখ ঘোরানোর জন্যই কেন্দ্রীয় সরকার এ কাজ করেছে।

নেহরু-গান্ধী পরিবার স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। পরবর্তীকালে তাঁর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর পুত্র রাজীবও দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অনেকেরই অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেসকে কুক্ষিগত করে রেখেছে এই গান্ধী পরিবার। এখনও কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গাঁধী। তাঁর দুই সন্তান রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে।

গান্ধী পরিবার নিয়ে বিতর্ক বহু দিনের। তবে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিকবার ব্যক্তিগত আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। মোদী-সহ বিজেপি নেতারা সরাসরি আক্রমণ করেছেন রাহুল, প্রিয়ঙ্কা এবং সোনিয়াকে। শুধু তাই নয়, প্রিয়ঙ্কার স্বামী রবার্ট বঢরার সংস্থাকেও একাধিকবার নাস্তানাবুদ করেছে প্রশাসন। তবে রাজীব গান্ধী এবং ইন্দিরা গান্ধীর নামে তৈরি হওয়া ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, এটাও কার্যত ব্যক্তিগত আক্রমণেরই সামিল।

যে তিনটি ট্রাস্টের বিরুদ্ধে তদন্তের কথা বলা হয়েছে সেগুলি হলো, রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন, রাজীব গান্ধী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অভিযোগ, এই ট্রাস্টগুলি আইন ভেঙে বিদেশ থেকে টাকা নিয়েছে। আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও গরমিল করেছে। এমনকী, টাকা নয়-ছয় বা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, এনফোর্সমেন্ট ডিরোক্টোরেটের একজন স্পেশাল অফিসার তদন্ত করবে।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা আরও বড় অভিযোগ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ প্রধানমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকেও এই সংস্থাগুলিকে টাকা পাইয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ১৯৯১ সালে মনমোহন সিংহ যখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন, তখন বাৎসরিক বাজেটেও রাজীব গান্ধী ট্রাস্টের নামে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন, যা বেআইনি। তার আগে বিজেপির অভিযোগ ছিল, চীনের কাছ থেকে রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন ৯০ লাখ টাকা পেয়েছে।

কংগ্রেস স্বাভাবিক ভাবেই এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমান সমস্যাগুলি থেকে চোখ ঘোরানোর জন্যই এ কাজ করছে। লাদাখে ভারত-চীন সীমান্ত বিতর্ক থেকে তারা মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে চাইছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের কোনও কোনও নেতা সরাসরি নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, করোনা-কালে প্রধানমন্ত্রী রিলিফ ফান্ডকে সামনে না রেখে মোদী একটি নতুন ফান্ড তৈরি করেছেন। পিএম কেয়ার ফান্ড। যে ফান্ডের কোনও অডিট হবে না। অভিযোগ, সেই ফান্ডের টাকা থেকে গুজরাটে ভেন্টিলেটর কেনার টাকা দেওয়া হয়েছে। সেই ভেন্টিলেটরগুলি আসলে অকেজো বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের অভিযোগ, পিএম কেয়ার ফান্ড থেকে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।  ওই তহবিলবেও বিদেশি অর্থ আসার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, এ বছরের শেষেই বিহারে ভোট। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে নতুন কিছু সামনে আনতে মরিয়া বিজেপি। করোনা লকডাউন এবং লাদাখ সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নতুন বিষয়কে ভোটের এজেন্ডা হিসেবে সামনে আনার জন্যই গান্ধী পরিবারের ট্রাস্টের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি সত্যিই এই ট্রাস্টগুলিতে অনিয়ম হয়ে থাকে, তা হলে এত দিন কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

এসজি/জিএইচ (পিটিআই, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)  

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন