গাড়ির মধ্যেই জ্বালানি উৎপাদনের ব্যবস্থা | অন্বেষণ | DW | 11.11.2014
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গাড়ির মধ্যেই জ্বালানি উৎপাদনের ব্যবস্থা

গাড়ির জন্য বিকল্প জ্বালানির খোঁজ চলছে অনেকদিন ধরে৷ কিন্তু গাড়ির মধ্যেই জ্বালানি উৎপাদন? তাও কি সম্ভব? গাড়ির নিজস্ব উত্তাপ কাজে লাগিয়ে জার্মান বিজ্ঞানীরা ঠিক সে রকম চেষ্টাই চালাচ্ছেন৷

জার্মানির রাস্তায় প্রায় ৬ কোটি গাড়ি চলে৷ তারা বিশাল মাত্রায় উত্তাপও সৃষ্টি করে৷ কারণ পেট্রোলের মধ্যে যে শক্তি রয়েছে, তা তাপে রূপান্তরিত হয়৷ একটা গোটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সারা বছর একই পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন করে৷

জার্মানির ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই উত্তাপ কাজে লাগাতে চান৷ তাঁরা থার্মো ইলেকট্রিক জেনারেটর নিয়ে কাজ করছেন, যা উত্তাপের তারতম্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে৷ ফ্রাইবুর্গ শহরের ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের ড. কিলিয়ান বার্টোলোমে বলেন, ‘‘এটা একটা থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউল, যা দুটি হিট এক্সচেঞ্জার-এর মাঝে বসানো রয়েছে৷ একটি আধারে গরম জল ও অন্যটিতে ঠান্ডা জল ভরে দিলে দেখা যাবে – হিট ফ্লো বা উত্তাপের স্রোত থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউলের মধ্য দিয়ে ঠান্ডা জলের আধারে বয়ে চলেছে৷ এর মাধ্যমে মডিউলের মধ্যে এক ইলেকট্রিক ভোল্টেজ সৃষ্ট়ি হয়৷ ইলেকট্রিক লোডের মাধ্যমে সেটি ব্যবহার করা সম্ভব৷ যেমন এই টর্চ হাতের উত্তাপে চলে৷ সেটি হাতে নিয়ে আমি তার মডিইউলের সারফেস গরম করি৷ ভেতরে একটি ‘হিট সিংক' রয়েছে, যেটি ঠান্ডা হয়ে যায়৷ তখন দেখা যায়, টর্চের এলইডি আলো কী ভাবে ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে৷''

থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউলের উপকরণের মধ্যে রয়েছে নানা ধাতুর মিশ্রণ – যেমন বিসমাথ, টেলারিয়াম, অ্যান্টিমনি অথবা ম্যাগনেসিয়াম ও সিলিকন৷ প্রচণ্ড চাপ ও প্রায় ১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো উচ্চ তাপমাত্রায় এগুলিকে কমপ্রেস করে কয়েন বা পয়সার মাপে আনা হয়৷

তারপর সেটিকে পালিশ করা হয়৷ এক বিশেষ করাত দিয়ে সামান্য কয়েক মিলিমিটার মাপের কিউব কেটে নেওয়া হয়৷ তার অ্যাসেম্বলি অর্ডার অত্যন্ত উচ্চ মানের৷ ড. বার্টোলোমে বলেন, ‘‘সাধারণত কোনো মেটিরিয়ালের ইলেকট্রিক কনডাক্টিভিটি বাড়ানো হলে, তার থার্মাল কনডাক্টিভিটিও বেড়ে যায়৷ কয়েকটি কৌশলে এই কন্ডাকটিভ কাপলিং আরও বাড়ানোর চেষ্টা করে যেতে হবে৷ যেমন ইলেকট্রিক কনডাক্টিভিটি আরও বাড়িয়ে থার্মাল কনডাক্টিভিটি কমাতে হবে৷''

এই সব মডিউল বা জেনারেটরের অ্যাসেমব্লির জন্য চাই হাই-প্রিসিশন দক্ষতা ও নিপুণ হাতের প্রয়োজন৷ মডিইউলগুলির গরম ও ঠান্ডা অংশের মধ্যে কয়েক হাজার ডিগ্রির তারতম্য ধারণ করার ক্ষমতা রাখতে হবে৷ এর ফলে যে ভোল্টেজ সৃষ্টি হয়, তার মাত্রা কম হলেও তার স্থায়িত্ব অনেক বেশি – যতক্ষণ তাপমাত্রার ফারাক থাকে, ততক্ষণ৷

গাড়িতে এমন মডিইউল বসানোর আদর্শ জায়গা হলো পিছনের গরম সাইলেন্সর বা এক্সস্ট পাইপ৷ ড. বার্টোলোমে বলেন, ‘‘সাইলেন্সরে থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউল বসানোর সুবিধা হলো, তার মধ্যে উচ্চ তাপমাত্রা থাকে – ৬, ৭ বা ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ গাড়িতে কুলিং ওয়াটার-ও রয়েছে৷ ফলে সেখানে মডিউলের তাপমাত্রা ৭০, ৮০, ৯০ ডিগ্রি কমানো যায়৷ অর্থাৎ তাপমাত্রার বিশাল তারতম্য রয়েছে, যা থার্মো-ইলেকট্রিক প্রক্রিয়ায় কাজে লাগানো সম্ভব৷''

সাইলেন্সরে বসানো পাত্র গরম হলে থার্মো-ইলেকট্রিক মডিউলে হিট ফ্লো সৃষ্টি হয়, যা ইলেকট্রিক ভোল্টেজ সৃষ্টি করে৷ এই ভোল্টেজ এসি জেনারেটর বা ডায়নামোর জন্য কাজে লাগানো যায়৷ অথবা ইলেকট্রিক গাড়ির ট্র্যাকের জন্য৷ জার্মানির সব গাড়িতে এমন ব্যবস্থা থাকলে একটা গোটা পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমান জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব৷

প্রতিটি গাড়িতে ৬০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব৷ তা দিয়ে ডায়নামোর চাহিদার অনেকটাই পূরণ করা যেতে পারে৷ এর ফলে পেট্রোলের ব্যবহার ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমতে পারে৷ পরিবেশ সংক্রান্ত আইন যেভাবে আরও কড়া করা হচ্ছে, তার ফলে গাড়ি শিল্প হয়তো থার্মো-জেনারেটরের বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়