গাড়ির জগতের দিশারী হয়ে উঠেছেন সুইজারল্যান্ডের ফ্রাংক | অন্বেষণ | DW | 25.02.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

গাড়ির জগতের দিশারী হয়ে উঠেছেন সুইজারল্যান্ডের ফ্রাংক

অতীতের স্বপ্নই আজকের বাস্তব – আধুনিক যুগের অনেক উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে এমনটা বলা চলে৷ সুইজারল্যান্ডের এক মানুষ এমন ভবিষ্যতধর্মী গাড়ি সৃষ্টি করেন, যা অটোমোবাইল শিল্পকে নতুন মডেল তৈরির প্রেরণা জোগায়৷

সুইজারল্যান্ডের ফ্রাংক রিন্ডারক্নেশট এমন সব গাড়ি তৈরি করেন, যেগুলি দেখলে স্বপ্নময় মনে হবে৷ যেমন ১৯৩৮ সালের এক ভিন্টেজ গাড়ির আধুনিক সংস্করণ৷ গাড়ি নিয়ে নিজের আবেগ ব্যাখ্যা করে ফ্রাংক বলেন, ‘‘মোবিলিটি বা গতিশীলতা আমাকে সারা জীবন প্রেরণা জুগিয়েছে৷ ভিন্ন ধরনের গাড়ি রাখা বা তৈরি করা আমার কাছে আবেগের বিষয়৷ সেটা করতে গিয়ে আমাকে প্রথাগত ভাবনাচিন্তার বাইরে কিছুটা পাগলামির আশ্রয় নিতে হয়৷’’

ফ্রাংক জুরিখ শহরের কাছে রিনস্পিড কোম্পানির কর্ণধার৷ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং প্রথা-বিরোধী গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে এই কোম্পানি নজর কাড়ছে৷ ২০০৭ সালে ‘এক্স্যাসিস’ গাড়ি তৈরি করতে গিয়ে নতুন উপকরণ হিসেবে স্বচ্ছ প্লাস্টিক নিয়ে পরীক্ষা করেছিল এই কোম্পানি৷

প্রতি বছর রিনস্পিড একটি করে প্রোটোটাইপ বা নমুনা তৈরি করে, যা গাড়ি শিল্পের জন্য প্রেরণা হতে পারে৷ ফ্রাংক বলেন, ‘‘ধ্যানধারণা, আইডিয়া ছড়িয়ে আমি অন্যদের উদ্বুদ্ধ করার, ইতিবাচক আবেগ দেবার চেষ্টা করতে পারি৷ কোম্পানির নামের মধ্যেই সেই দ্রুততা ও দূরদর্শিতার আদর্শের প্রতিফলন ঘটছে৷’’

১৯৯৬ সালে ‘ইয়েলো ট্যালবো' গাড়ি তৈরি করে এই কোম্পানি প্রথম খ্যাতি অর্জন করে৷ এই গাড়ির ডিজাইন অতীত ও ভবিষ্যতের গুণাগুণের সংমিশ্রণের ফসল৷ সে সময়ে জাঁকজমকপূর্ণ ডিজাইনের উপরই মূল নজর দেওয়া হতো৷

ভিডিও দেখুন 04:40

ফ্রাংকের গাড়ি দেখে অটোমোবাইল শিল্প প্রেরণা পায়

তারপর অসামান্য গুণাগুণ বাড়তি গুরুত্ব পায়৷ যেমন ২০০৬ সালে ‘স্প্ল্যাশ' নামের উভচর গাড়ি চালিয়ে ফ্রাংক রিন্ডারক্নেশ্ট রেকর্ড সময়ে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে দেখিয়েছিলেন৷ তিনি বলেন, ‘‘তরুণ বয়সেই মেন স্প্রিংয়ের স্বপ্ন দেখতাম৷ বারবার বিষয়টি তাড়িয়ে বেড়াতো৷ তখনই নিজের গাড়ি করে ইংলিশ চ্যানেল পার হবার কথা ভেবেছি৷ সেই স্বপ্নের প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল৷ আমি হাল ছাড়ি নি৷ এই স্বপ্ন আমাকে জীবনে অনেক কিছু দিয়েছে৷’’

২০০৮ সালে তিনি নিজের অন্য একটি স্বপ্ন পূরণ করেন৷ শখের ডুবুরি হিসেবে তিনি ‘স্কুবা’ নামের বিশ্বের প্রথম গাড়ি তৈরি করেন, যেটি পানির নীচে ডুব দিতে পারে৷ জুরিখ হ্রদে ফ্রাংক ও তাঁর সহকর্মীরা মাছের মতো চলাফেরা করে দেখালেন৷ সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করে ফ্রাংক বলেন, ‘‘তাপমাত্রা ছিল বড়জোর তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস, ভীষণ ঠান্ডা৷ গাড়ির ভেতরে উত্তেজনায় তা টের পাওয়া কঠিন৷ সবাই ভেবেছিল নাটক হবে, গাড়ি চলবে না৷ সৌভাগ্যবশত সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চলেছে৷ আজও স্কুবা আমাদের প্রতীকি গাড়িগুলির মধ্যে পড়ে৷ ফলে গতিশীলতার সঙ্গে যে আবেগও জড়িয়ে রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে যায়৷’’

ভিডিও দেখুন 05:00

রূপকথার ভিত্তিতে অভিনব গাড়ি তৈরি করেন বেকন

গত কয়েক দশকে ফ্রাংক রিন্ডারক্নেশটের প্রোটোটাইপগুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের স্বপ্ন তুলে ধরেছে৷ তাঁর ‘স্ন্যাপ' সিরিজের গাড়িগুলি আসলে এক মডিউলার সিস্টেম৷ অর্থাৎ মানুষ বহনকারী স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিমেষে মালপত্র পরিবহণের উপযোগী করে তোলা যায়৷ এভাবে সম্পদ সাশ্রয় করে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে পরিবহণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে৷

পাগলামিভরা মানুষটি কি এবার কিছুটা দমে গেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রাংক রিন্ডারক্নেশট বলেন, ‘‘পাগলামি মানেই টেকসই ধারণা ত্যাগ করা নয়৷ আমরা এখনো দুটোই করার চেষ্টা করছি৷ সেই অর্থে আমি খুশিমনেই পাগলামি করে যাচ্ছি৷ জার্মান ভাষায় পাগলামির মধ্যে নড়াচড়া শব্দটিও লুকিয়ে রয়েছে৷’’

ফ্রাংক রিন্ডানক্নেশট গাড়ির ইতিহাসে এক অসামান্য অধ্যায় লিখেছেন৷ তিনি মনে করেন, ‘‘গত ২৫ বছরে শুধু পৃথিবী নয়, আমার গাড়িগুলি ও আমি নিজেও অনেক বদলে গিয়েছি৷ প্রত্যেকটি গাড়ি যুগ অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ আজকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমি ২৬টি গাড়িই অন্যভাবে তৈরি করতাম৷’’

অটোমোবাইল জগত ফ্রাংক রিন্ডারক্নেশটের পরবর্তী সৃষ্টিকর্মগুলির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে৷

গেয়ারহার্ড সনলাইটনার/এসবি

২০১৯ সালের নভেম্বরের ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন