গাজীপুর সিটি নির্বাচনে এগিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী | বিশ্ব | DW | 26.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে এগিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী

এজেন্ট বের করে দেয়া ও জাল ভোটের অভিযোগ তুলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন বিএনপি'র মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার৷ কিন্তু নানা অভিযোগে ৭টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হলেও নির্বাচন শেষ হয়েছে৷

হাসান উদ্দিন সরকারের সব অভিযোগ নির্বাচন কমিশন  অস্বীকার করেছে৷  আর অভিযোগ তুললেও তিনি নির্বাচন বর্জনও করেননি৷

মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় শুরু হয়গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ভোট৷ শেষ হয় বিকেল ৫টায়৷ নানা অভিযোগে মোট ৭টি কেন্দ্রের ভোট স্থহিত করা হয়েছে৷ ভোট গ্রহণের শুরুতে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা যায়৷ তবে ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভোট গ্রহণে ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়৷ কিছু কেন্দ্রে ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ আসে৷ ব্যালট পেপারে সিল মারার একটি চেষ্টা প্রতিহত করে দেয় পুলিশ৷  বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ করেন, তাঁদের এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে৷ তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু কেন্দ্রে বিএনপি শুরু থেকেই এজেন্ট দেয়নি বা দিতে পারেনি৷

ভোটের আগের রাতেও তাদেরনেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছে বিএনপি৷ আর গত কয়েকদিনে দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে  আটক করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ৷ সোমবার রাতে বিএনপি নেতা মেজর (অব.) মিজানুর রহমান মিজানকে তাঁর গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ এনেছে৷ তবে তাঁর পরিবারের দাবি– মেজর (অব.) মিজানকে বিনা ওয়ারেন্টে বাসার দরজা ভেঙ্গে নিয়ে যায় পুলিশ৷

অডিও শুনুন 01:48
এখন লাইভ
01:48 মিনিট

‘দেশে কোনো আইন নাই’

সকালে ভোট দেয়ার পরই বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, ‘‘ভোটের পর দেশের জনগণ ফলাফল মেনে নিলে আমিও ফলাফল মেনে নেবো৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘আমি রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বলেছি, আপনাদের নির্দেশ থাকার পরও কেন আমার পোলিং এজেন্টদের গ্রেফতার করা হচ্ছে৷ তখন সিইসি আমাকে বলেছেন, ‘আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি৷' কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি৷'' 

দুপুরের পর সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বাতিলের দাবি জানান হাসান উদ্দিন সরকার৷ তিনি বলেন, ‘‘সকাল থেকে শতাধিক কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে সিল মারা হয়েছে৷ তাই নির্বাচন বন্ধ করতে হবে৷ আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে ভোট বন্ধের দাবি জানাচ্ছি৷'' এ সময় ইসির পদত্যাগ দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘যদি তাঁরা ভোটগ্রহণ বন্ধ না করে, তাহলে আমি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়ে যাবো৷'' গাজীপুরের প্রৌঢ় এ রাজনীতিবিদ বলেন, ‘‘ভোটে কী হয়েছে তা জাতি দেখেছে, সমগ্র বিশ্ব দেখেছে৷ নির্বাচন কমিশনের যদি লজ্জা থাকে, তাহলে তাঁরা পদত্যাগ করবেন৷'' নির্বাচন বর্জন করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমি নির্বাচন বর্জন করবো না৷ তবে নির্বাচন কমিশনকে বলছি, তারা যেন নির্বাচন বন্ধ করে৷ নইলে তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা উচিত৷''

অডিও শুনুন 00:44
এখন লাইভ
00:44 মিনিট

‘নিবাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং ভেটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন’

হাসান উদ্দিন সরকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট সোহরাব উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচন বর্জন করিনি, কারণ, দেশের মানুষ ও বিশ্ববাসী দেখুক কেমন নির্বাচন হয়েছে৷ প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে৷ অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে আমাদের এজন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে৷ আমরা অভিযোগ করেও কোনো ফল পাইনি৷'' 

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘দেশে কোনো আইন নাই৷ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও ভোটের আগের রাতে আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷''

এদিকে সকালে ভোট দেয়ার পর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি, গাজীপুরের মানুষ আমাকে ভোট দেবে৷ গাজীপুরে নৌকার বিজয় আনতে পারবো এ বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী৷ সব শ্রেণির ভোটারই যাতে কেন্দ্রে ভোট দিতে আসতে পারেন, সেজন্য সবাইকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছি৷'' জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আপনারা দেখছেন, সাধারণ মানুষ সুন্দরভাবে ভোট দিচ্ছেন৷ সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন৷ সবাই তাঁদের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিচ্ছেন৷''

বিএনপি প্রার্থীর ভোট বাতিলের দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আজমত উল্লাহ খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তারা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেননি যে, কোন কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে৷ তাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই৷ তাদের প্রার্থী পরাজিত হবে বলেই তারা নির্বাচন বাতিলের দাবি করেছে৷''

আজমত উল্লাহ খানের দাবী, ‘‘নিবাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন৷''

জেলা নির্বাচন অফিসার মো তারিফুজ্জামান জানিয়েছেন, ৭ টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে৷  অনিয়ম, ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালট পেপারে সিল ও সংঘর্ষের কারণে এসব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত  করা হয়৷ ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছু কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ৷ ওইসব কেন্দ্র থেকে পুলিশ ভোটারদের বের করে দেয়৷

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে  মোট মেয়র প্রার্থী ৭ জন৷ ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী ২৫৬ জন ও ১৯টি সংরক্ষি ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ৮৪ জন৷ সিটি কর্পোরেশনে ৫৭টি ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র মোট ৪২৫টি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়