গাজীপুরের নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট নিয়ে কী ঘটেছে | বিশ্ব | DW | 27.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

গাজীপুরের নির্বাচনে বিএনপির এজেন্ট নিয়ে কী ঘটেছে

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন৷ কিন্তু পরাজিত বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের নির্বাচনের দিন তৎপর দেখা যায়নি৷ তাছাড়া অনেক কেন্দ্রে এজেন্টই ছিল না৷ কেন এ রকম হয়েছে?

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার, সরেজমিন সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন সাংবাদিক আদিত্য রিমন৷ তিন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার সাকালে যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন, সেখানে তাঁর পোলিং এজেন্ট ছিল৷ কিন্তু এর বাইরে আমি আরো ১০টি কেন্দ্রে গেছি৷ তার মধ্যে মাত্র দু'টি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট পাওয়া গেছে৷ বাকি আটটিতে পোলিং এজেন্ট পাইনি৷ আমি এবং আমার সহকর্মীরা পোলিং এজন্ট না থাকার ব্যাপারে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা সবাই প্রায় একইরকম উত্তর দেন৷ তাঁরা জানান, ‘‘বিএনপি পোলিং  এজেন্টই দেয়নি৷ শুধু তাই নয়, আগে এজন্টদের যে কার্ড সংগ্রহ করতে হয় তাও তাঁরা করেননি৷''

অডিও শুনুন 02:56
এখন লাইভ
02:56 মিনিট

‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী কোনো চাপ বা ভয় ভীতির সৃষ্টি করেননি’

তিনি জানান, ‘‘কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট আসলেও দুপুরের আগে তাঁরা চলে যান৷ অন্য দলের পোলিং এজেন্টরা জানান, কোনো কোনো এজেন্ট মোবাইল ফোন নিয়ে এসেছিলেন৷ কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁরা মোবাইল ফোন রেখে আসার কথা বলে বের হয়ে গেলেও আর আসেননি৷''

বিএনপি প্রার্থীর মিডিয়া সেল প্রধান  ডা. মো. মাজহারুল আলম  ডয়চে ভেলের কাছে স্বীকার করেন যে অনেক কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্ট ছিল না৷ কেন ছিল না? – এই প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, ‘‘নির্বাচনের আগের রাতে আমাদের এজেন্টদের আটক করা হয়৷ বলতে গেলে গণগ্রেপ্তার করা হয়৷ ফলে নির্বাচনের দিন সকালেই এলাকায় এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে৷ এরপরও সকালে আমরা আবার নতুন করে এজেন্ট দেয়ার চেষ্টা করি৷ আমরা নতুন এজেন্ট দেই৷ কিন্তু নির্বাচন শুরুর সময় থেকেই আবারো আমাদের এজন্টদের কেন্দ্র থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়৷''

অডিও শুনুন 01:20
এখন লাইভ
01:20 মিনিট

‘এজন্টদের যে কার্ড সংগ্রহ করতে হয় তাও তারা করেননি’

তিনি দাবি করেন, ‘‘শতাধিক এজেন্টকে ধরে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত স্থানে রেখে পরে ঢাকার বাইরে নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘আটকের হুমকি দিয়ে এজেন্টদের ভয় দেখানো হয়৷ এটা আমরা আগে দেখিনি৷ এটা নতুন স্টাইল৷ আর এটা করেছে পুলিশ প্রশাসন৷ প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এটা করেছে বলে আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়নি৷''

তবে মোট কতজন এজেন্ট তারা নিয়োগ দিয়েছিলেন তা সঠিকভাবে বলতে পারেননি এই বিএনপি নেতা৷ তবে তিনি বলেন, ‘‘৪২৫টি কেন্দ্রে একাধিক বুথ ছিল৷ সেই সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে যতজন হয় ততজন  পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়েছিল৷''

তিনি আরো দাবি করেন, ‘‘বিএনপির কিছু নির্বাচনি ক্যাম্পও ভোটের দিন ভেঙে দেয় পুলিশ৷''

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল শেখ ডয়চে ভেলের কাছে বিএনপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেন৷

অডিও শুনুন 07:18
এখন লাইভ
07:18 মিনিট

‘নির্বাচনের আগের রাতে আমাদের এজেন্টদের আটক করা হয়’

তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্টকে আটক করিনি৷ তারা একশ'র বেশি পোলিং এজেন্টকে আটকের অভিযোগ করছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে৷ কিন্তু আমাদের কোনো থানায় বা নির্বাচন কমিশনে তারা কিন্তু অভিযোগ করেনি৷ আমাদের জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষকেও জানায়নি৷ তাদের শতাধিক নেতা-কর্মী যদি আটক হয়ে থাকে তবে তারা তাদের নাম বলুক৷ এখন পর্যন্ত একজনের নামও তারা বলেনি৷ আমরা তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করি৷ নির্বাচন কমিশনও আমাদের এ ধরনের অভিযোগের কথা বলেনি৷ কোনো লিখিত অভিযোগও নির্বাচন কমিশন পায়নি৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা গ্রেপ্তার করেছি আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্ট মামলার আসামিকে৷ গত ৩১ মার্চ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত আমরা ১০০৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছি মাদকবিরোধী অভিযানে৷ তাদের নিয়ে তো বিএনপি কথা বলছে না৷''

অডিও শুনুন 03:02
এখন লাইভ
03:02 মিনিট

‘আমরা গ্রেপ্তার করেছি আদালত কর্তৃক ওয়ারেন্ট মামলার আসামি’

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গির আলমের পক্ষে পাঁচ হাজারের বেশি পোলিং এজেন্ট ছিল৷ ৪২৫টি কেন্দ্রে ২৭৬১টি বুথে৷ প্রতিটি বুথে দু'জন করে পোলিং এজেন্ট ছিল বলে জানান মিডিয়া সেলের সদস্য মো. আলম৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সব কেন্দ্রে বিএনপি পোলিং এজেন্ট দেয়নি৷ আমাদের কাছে প্রমাণ আছে৷ যেসব কেন্দ্রে তারা এজেন্ট দিয়েছে, সেখানে এজেন্টরা ছিলেন৷ কিন্তু যেথানে এজেন্ট দেয়নি সেখানে ছিল না৷ তাই তাদের সুর্নিষ্ট করে বলা উচিত কোন কেন্দ্র থেকে কোন এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু তা তারা বলতে পারছে না৷ এখন রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির জন্য তারা নানা কথা বলতেই পারে৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের প্রার্থী কোনো চাপ বা ভয়-ভীতির সৃষ্টি করেননি৷ এমন অভিযোগও তাঁরা করেননি৷''

এ প্রসঙ্গে আপনার কোনো মন্তব্য থাকলে লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন