গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা চলছেই, বাড়ছে প্রাণহানি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.05.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্য

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা চলছেই, বাড়ছে প্রাণহানি

রোববার গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন৷ গত সপ্তাহে শুরু হওয়া সংকটের পর এটি একদিনে সেখানে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা৷ 

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের নিচে প্রাণের খোঁজে উদ্ধারকারীরা

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের নিচে প্রাণের খোঁজে উদ্ধারকারীরা

গাজায় হামলার তীব্রতা আরো বাড়িয়েছে ইসরায়েল৷ রোববার ভোরের আগেই নতুন করে বিমান হামলায় গাজার তিনটি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে৷ এতে অন্তত ৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে আট শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়৷ আরো অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন৷

বার্তা সংস্থা এএফপি দুই পক্ষের কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় গাজায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৮১ জনে৷ অন্যদিকে ইসরায়েলে মোট মৃতের সংখ্যা ১০ জন৷

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার তারা হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইয়েহইয়েহ সিনওয়ার বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে৷ স্থাপনাটি তাদের সামরিক অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলেও দাবি করা হয়৷

এদিকে, দক্ষিণ ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোঁড়া অব্যাহত রেখেছে হামাসও৷ তাদের নেতা ইসমাইল হানিয়ে শনিবার কাতারের দোহায় ফিলিস্তিনপন্থিদের একটি ব়্যালিতে বলেছেন, ‘‘ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধ  উচ্চ স্তরে বাড়বে৷’’

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘‘দেশটির সামরিক বাহিনী যতক্ষণ প্রয়োজন গাজায় আঘাত হানা অব্যাহত রাখবে৷’’

এর আগে শনিবার আশ-শাতি শরণার্থী শিবিরে একটি তিনতলা ভবনে বোমা হামলায় দশজন মারা যান, যাদের মধ্যে আট শিশু ও দুই নারী ছিলেন৷ এছাড়া আল-জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) এর কার্যালয় থাকা একটি বহুতল ভবন গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে৷ উভয় ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যে হামলা করেছে৷ কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরা হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে গণমাধ্যমকে চুপ করাতে এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অপরাধ ঢাকতে এই হামলা চালানো হয়েছে৷  

এপির প্রধান নির্বাহী গ্যারি প্রুইট এই হামলায় বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন৷ পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থাটি বলেছে, গুড়িয়ে দেয়া ভবনটিতে তারা হামাসের অস্তিত্ব বা কার্যক্রম থাকার বিষয়ে কখনও কোন চিহ্ন দেখতে পায়নি৷ এ বিষয়ে ইসরায়েলকে প্রমাণ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে এপি৷

পরবর্তীতে গ্যারি প্রুইটকে ফোন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন৷ তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সমর্থন ব্যক্ত করেন৷

গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলায় উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশনও৷ এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালাতে দিতে চায় কীনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি৷ বলেছে, গাজায় অন্য সংবাদমাধ্যমের কার্যলায়গুলোর নিরাপত্তাও এখন প্রশ্নের সম্মুখীন৷

বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

রোববার জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টুইটারে৷ তিনি মনে করেন, যে বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত পরিণতি বয়ে আনতে পারে৷ সহিংসতা থামিয়ে দুই পক্ষকে দুই-রাষ্ট্র বিষয়ক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান৷

নিরীহ মানুষজন হতাহত ও শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন পোপ ফ্রান্সিস৷ ‘‘মানুষ ভবিষ্যত গড়তে নয়, ধ্বংস করতে চায় - তাদের মৃত্যু সেই সংকেতই দিচ্ছে... এই ঘৃণা আর প্রতিশোধ আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে?'' সেইন্ট পিটার্স স্কয়ারে সাপ্তাহিক বক্তৃতায় বলেন ফ্রান্সিস৷

এদিকে, রোববার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ৷ ইইউ এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জরুরি আলোচনায় বসবেন মঙ্গলবার৷ অন্যদিকে ৫৭ দেশের অর্গানাইজেন অব ইসলামিক কোঅপারেশন- ওআইসি রোববার জরুরি বৈঠক ডেকেছে৷ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের পর এটি তাদের প্রথম উদ্যোগ৷

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করা হচ্ছে উল্লেখ করে ইসরায়েলের প্রতি নিন্দা জানিয়েছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ৷ সামরিক অভিযান বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি৷

শনিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় শহরগুলোতে ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রতিবাদ ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন মানুষ৷

এফএস/এআই (এএফপি, এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়