গাছ পুড়িয়ে চাষ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 12.06.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ

গাছ পুড়িয়ে চাষ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ

মধ্য অ্যামেরিকার দেশ বেলিজ ঐতিহ্যগত কৃষিকাজের ফলে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে৷ একটি এনজিও সেই বিপজ্জনক রীতির বিকল্প হিসেবে টেকসই কৃষি পদ্ধতির উপযোগিতা তুলে ধরছে৷

‘স্লাশঅ্যান্ডবার্ন' কৃষিপদ্ধতি

মধ্য অ্যামেরিকার দেশ বেলিজে এপ্রিল ও মে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ মাস৷ এমন সময়ে অগ্নিকাণ্ডও বেশি দেখা যায়৷ ইচ্ছাকৃতভাবে জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়৷ গাছ কেটে পোড়ানোর কাজ বহু সহস্রাব্দ ধরে এখানকার কৃষিকাজের অঙ্গ৷সংরক্ষণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি গুস্তাভো রেকেনা এই রীতি সম্পর্কে বলেন, ‘‘এর ফলে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হচ্ছে, জমির ক্ষতি হচ্ছে, ফসলেরও ক্ষতি হতে পারে৷ সমাজ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে৷ এতটাই ধ্বংসাত্মক এর প্রভাব৷ এটা মোটেই কৃষির সেরা পন্থা নয়৷''

‘স্লাশ অ্যান্ড বার্ন' – অর্থাৎ গাছ কেটে জ্বালিয়ে দেওয়াই এই পদ্ধতির নাম৷ এর ফলে পোড়া মাটি সাময়িকভাবে উর্বর হয়ে ওঠে,কারণ গাছের অবশিষ্ট অংশের পুষ্টি অনুর্বর জমিতে মিশে যায়৷ কিন্তু এই প্রক্রিয়ার ফলে বিশাল পরিমাণ কার্বন নির্গমন ঘটে৷

গাছ পোড়ানোরকুপ্রভাব

কখনো কখনো আগুনের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না৷ যেমন পাশের একটি খেতেও এবার আগুন ধরে গেছে৷ গুস্তাভো রেকেনা নিজেদের উদ্যোগের ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘আগুন সম্পূর্ণ দূর করা আমাদের লক্ষ্য নয়৷ কারণ এটা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ৷ জীববৈচিত্র্য ও অন্যান্য খামারগুলির সুরক্ষার স্বার্থে আমরা শুধু সেরা প্রক্রিয়াগুলি প্রয়োগ করতে চাই৷ কারণ বলগাহীন আগুন অন্যান্য খামারের কাছেও হুমকি৷ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে আগুন জনপদ ও মানুষের জীবনযাত্রার ক্ষতি করতে পারে৷''

ভিডিও দেখুন 04:17

গাছ পোড়ানো বন্ধ করার উদ্যোগ

অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে গাছে আগুন লাগানোর প্রক্রিয়ার বিকল্পের খোঁজ করতে হবে৷ সেই লক্ষ্যে গুস্তাভো রেকেনা ও তাঁর এনজিও একাধিক কৌশল প্রয়োগ করছে৷ যেমন পেশাদারি পদ্ধতিতে কোকো চাষ৷ এই এনজিও এক সংরক্ষিত অরণ্য ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে৷ সেখানে ক্ষুদ্র চাষিদের অরগ্যানিক কোকো চাষ শেখানো হচ্ছে৷ এর ফলে জঙ্গলের ক্ষতি না করেও তাঁদের আয় হচ্ছে৷ কারণ কোকো গাছের বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য গাছের ছায়ার প্রয়োজন হয়৷ কোকো চাষি হিসেবে জনসন ইকাল মনে করেন, ‘‘এই সংরক্ষিত এলাকায় কড়া নিয়ম ও বিধি রয়েছে, যা আমরা মেনে চলি৷ যেমন রাসায়নিক পদার্থ, কীটনাশকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ৷ আগুনের ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণ করা হয়৷''

বিকল্প পথ

সংরক্ষিত এলাকার বাইরে জঙ্গলের অন্য এক অংশে অদূর ভবিষ্যতে ভুট্টা ও বিন চাষ শুরু হবে৷ অতীতে সেখানে গাছ পোড়ানো হতো৷ আজ ইংগা গাছের কারণে জমি উর্বর হয়ে উঠেছে৷ চাষি হিসেবে অর্লান্দো কুকুল ৩ বছর আগে বীজ বপন করেছেন৷ ইতোমধ্যে খেত ভরে গেছে৷ সেইসঙ্গে গাছের ঝরে যাওয়া পাতা ও বীজের কল্যাণে মাটির উপর নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ পুষ্টিকর এক স্তর সৃষ্টি হয়েছে৷ ঠিক গাছ পোড়ানোর পর মাটি যেমন উর্বর হয়ে ওঠে, এ ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে৷ অর্লান্দো বলেন, ‘‘আপনি সেই স্তর দেখতে পারেন৷ এখন কালো মাটি দেখা যাচ্ছে৷ আমরা মাটি পুনরুদ্ধার করেছি৷ ফলে মাটি আরও উর্বর হয়ে উঠেছে৷''

এই এনজিও-র সাহায্যে অর্লান্দো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রথমবার ভুট্টার ফসল তুলবেন৷ তার আগে তিনি আলোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে গাছের উপরের অংশ ছেঁটে ফেলবেন৷ কিন্তু সেই অংশ আবার দ্রুত বেড়ে উঠবে৷

জীববৈচিত্র্যের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ

অর্লান্দো কুকুল আগে যখন গাছে আগুন লাগাতেন, তখন ফসল তোলার কয়েক বছর পর সেই জমিতে আর চাষ করা যেত না৷ এবার প্রাণীগুলিও ফিরে আসতে শুরু করছে৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রথমে আমি আশেপাশে কোনো পাখিও দেখি নি৷ খরগোশ বা হরিণও নয়৷ কয়েকদিন আগে একটা হরিণ এসেছিল৷ আমি বেশ খুশি৷ তারা আবার ফিরে আসছে, কাছে আসছে৷ আগুন লাগালে ধোঁয়া তাদের তাড়িয়ে দিতো৷ এমনকি প্রাণীরাও আগুন দেখলে ভয় পায়৷ তখন তাদের দৌড়তে হয়৷'' 

গুস্তাভো রেকেনা আরও বেশি চাষিকে টেকসই কৃষি পদ্ধতির কার্যকারিতা সম্পর্কে বোঝাতে চান৷ এই পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাঁর মনে কোনো সন্দেহ নেই৷

কাটিয়া ড্যোনে/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন