গাছের শিকড়ের অনুকরণে অভিনব রোবট | অন্বেষণ | DW | 15.10.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গাছের শিকড়ের অনুকরণে অভিনব রোবট

গাছের শিকড় মাটির নীচে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তা আমরা দেখতে পাই না৷ কিন্তু সেই ক্ষমতা অনুকরণ করে বিজ্ঞানীরা অভিনব রোবট তৈরি করেছেন৷ মহাকাশ অভিযান থেকে অস্ত্রোপচার – নানা ক্ষেত্রে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যেতে পারে৷

বিজ্ঞানীরা এমন রোবট তৈরি করছেন, যেগুলি গাছের শিকড়ের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়া নকল করতে পারে৷ নানা ক্ষেত্রে এই ক্ষমতার প্রয়োগ সম্ভব৷ শিকড়ের মতো রোবট তৈরি করার আগে গবেষকদলকে মাটির নীচে আসল শিকড়ের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে হয়েছিল৷ কিন্তু সেই কাজ মোটেই সহজ ছিল না৷ জীববিজ্ঞানী বারবারা মাজোলাই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘গাছের শিকড় অত্যন্ত জটিল পরিবেশে বেড়ে ওঠে৷ মাটির গভীরে বেড়ে উঠতে তাদের অনেক চাপ সৃষ্টি করতে হয়৷ তাছাড়া শুধু অসমোসিস বা শিকড়ের অগ্রভাগেই শিকড় বেড়ে ওঠে৷ প্রথমে মাটি থেকে পানি ও অন্যান্য উপাদান শুষে নিয়ে এবং তারপর কিছু অংশ ও মৃত কোষ বর্জন করে শিকড় নিজের আকার-আয়তন বাড়িয়ে নেয়৷ একইসঙ্গে তারা এক ধরনের আধা তরল পদার্থ সৃষ্টি করে, যার সাহায্যে শিকড় বেড়ে উঠতে এবং মাটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে৷'' 

এক ইউরোপীয় গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানীদের সবার আগে রোবটকে মাটি খুঁড়ে গভীরে প্রবেশ করানোর পদ্ধতি সৃষ্টি করতে হয়েছিল৷ খোঁড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোবটকে নিজের জন্য জায়গাও করে নিতে হয়েছে৷ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আলি সাদেগি বলেন, ‘‘নতুন উপাদান যোগ করে প্রকৃতিতে বৃদ্ধি ঘটে৷ সেই প্রক্রিয়া অনুকরণ করে আমরাও ‘গ্রোয়িং সিস্টেম' নামের প্রণালী গড়ে তুলেছি৷ রোবটের মধ্যে কৃত্রিম ফিলামেন্ট বা আঁশ ঢুকিয়ে দেই৷ রোবট তখন নিজেই একটি কাঠামো তৈরি করে মাটি খুঁড়ে প্রবেশ করে৷ নিজেই শরীর গঠন করে, সেই শরীর দীর্ঘায়িত করে মাটি ফুঁড়ে এগোতে পারে৷''রোবটের শিকড় স্বাভাবিক শিকড়ের মতোই উদ্দীপনায় সাড়া দেয়৷ বাধা পেলে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যায়৷ একই সঙ্গে সেই শিকড় পুষ্টি ও পানির খোঁজ করে৷ বারবারা মাজোলাই বলেন, ‘‘শিকড়ের এই আঁকাবাঁকা গতিপথ আমরা দুভাবে অনুকরণ করছি৷ প্রথমত, আমরা ইলেকট্রো-বায়োলজিক্যাল তরল ব্যবহার করছি৷ তার উপর কী ধরনের ইলেকট্রিক চার্জ প্রয়োগ করা হয়, সেই অনুযায়ী ঘনত্বের হেরফের ঘটে৷ সেইসঙ্গে রোবটের পাশের দিকে কৃত্রিম উপাদান যোগ করে তার শরীর বাঁকাতে পারি৷''

মাটির মধ্য দিয়ে চলার সময় দৃষ্টিশক্তি ও অনুভূতি সম্ভব করতে রোবটের মধ্যে নরম অথচ মজবুত উপকরণ দিয়ে উন্নত সেন্সর বসানো রয়েছে৷ ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার লুচিয়া বেকাই বলেন, ‘‘এইসব সেন্সর আশেপাশের পরিবেশ ও বস্তু সম্পর্কে তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা রাখে৷ স্পর্শ করলে সেন্সর তা টের পায়৷ তাদের সামনে যে কোনো শক্তির চাপ তারা বুঝতে পারে৷''

এই রোবোটিক শিকড় মহাকাশ অভিযানে অথবা মাটির নীচে পুষ্টি, তেল ও মাইন শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে৷ কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তির আরো সাহসি প্রয়োগ করতে চান৷ ভবিষ্যতে এমনকি মস্তিষ্ক অপারেশনের সময় এমন নমনীয় রোবট ব্যবহার করা হতে পারে, যা নিজের আকার পরিবর্তন করতে পারে৷ এয়ারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার এডোয়ার্ডো সিনিবাল্ডি বলেন,‘‘অস্ত্রোপচারের জন্য ছোট আকারের, নমনীয়, আকার বদলাতে সক্ষম – এমন সরঞ্জাম তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ৷ সমস্যা হলো, ছোট আকারের অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম কিছু ধরনের অপারেশনের জন্য কম কার্যকর ও নিখুঁত না-ও হতে পারে৷ তাই ভবিষ্যতে এমন এক সরঞ্জাম তৈরি করতে হবে, যা একইসঙ্গে নমনীয় ও মজবুত হবে৷''

শেষ পর্যন্ত যা-ই হোক না কেন, গবেষকরা মনে করছেন যে, রোবটের মাধ্যমে অভিযানের এক নতুন যুগের সূচনা ঘটছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

বিজ্ঞাপন