গাছের পাতা দিয়ে অভিনব শিল্পসৃষ্টি | অন্বেষণ | DW | 26.06.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

গাছের পাতা দিয়ে অভিনব শিল্পসৃষ্টি

সামান্য গাছের পাতা যে শিল্পসৃষ্টির অসাধারণ উপকরণ হয়ে উঠতে পারে, স্পেনের এক শিল্পী তা দেখিয়ে দিচ্ছেন৷ পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে তাঁর সৃষ্টিকর্মের চাহিদা বাড়ছে৷ তিনি নিজেও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একাত্মতায় বিশ্বাসী৷

একটি ক্ষুদ্র পাতার মধ্যে যে নতুন কত কী রয়েছে!স্পেনের শিল্পী লোরেন্সো মানুয়েল দুরান-এর ফিলিগ্রি শিল্পকর্ম দেখলে সেই উপলব্ধি হয়৷গাছপালা, ঝোপঝাড়ের পাতা কেটে তিনি সৃষ্টির কাজে ডুবে রয়েছেন৷ লোরেন্সো বলেন, ‘‘জঙ্গলে গেলে আমি সবার আগে নীরবতা ও শান্তি খুঁজি৷ এখানেই আমার সৃজনশীলতা সবচেয়ে ভালো খোলে৷''

প্রতি বছর বসন্তকালে লোরেন্সো নিজের বাসভূমি, অর্থাৎ স্পেনের গুয়াদালাখারা প্রদেশের জঙ্গলে শিল্পসৃষ্টির জন্য উপযুক্ত পাতা খোঁজেন৷ টেকনিকাল ড্রাফটসম্যান হিসেবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই মানুষটি সপরিবারে মাদ্রিদের উত্তর-পূর্বে ত্রিখুয়েকে নামের ছোট শহরে বসবাস করেন৷ বাসভবনের মধ্যে নিজের শিল্পকর্মের একটি গ্যালারিও রয়েছে৷ প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক যোগই তাঁর সৃষ্টির মৌলিক ভিত্তি৷ লোরেন্সো মনে করেন, ‘‘একেবারে নিখুঁত পাতা বলে কিছু নেই৷ প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে পাতা বড় হয়, বিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে যেতে হয়৷ কিন্তু আমার মতে, এই অম্পূর্ণতাই তাকে তার পূর্ণ রূপ দেয়৷''

এমন শিল্পকর্ম সৃষ্টির পথ বেশ দীর্ঘ৷ সবার আগে তিনি তাজা পাতা চেপে রেখে কয়েকদিন ধরে শুকাতে দেন৷ সমস্যা হলো, কাজ শুরু করার আগে পাতাকে এতটা শুকনা হতে হবে, যে ইন্টারফেস যেন বিবর্ণ না হয়ে যায়৷ আবার তার ভেঙে যাওয়া এড়াতে যথেষ্ট আর্দ্রতাও থাকতে হবে৷ পাতা এক জায়গায় আটকে তার উপর মোটিফ-সহ টেমপ্লেট বসানো হয়৷ তারপর শিল্পী ছোট ছুরি চালিয়ে ধীরে ধীরে পাতার উপর কাজ করেন৷

শুধু কাটার কাজেই লোরেন্সো-র কখনো কখনো কয়েক দিন সময় লাগে৷ শান্ত পরিবেশে প্রায় ধ্যানের মতো এই কাজ তিনি বেশ উপভোগ করেন৷ অথচ তাঁর অতীত জীবন ছিল ব্যস্ততায় ভরা৷ ১৩ বছর আগে পর্যন্ত তিনি নির্মাণ শিল্পখাতে কাজ করতেন৷ তারপর বেকার হয়ে পড়েন৷ সেই সংকটের মধ্যেই শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হন৷

প্রথমে তিনি তেল রং ব্যবহার করে আঁকতেন৷ তারপর স্ক্যালপেল ও পাতা নিয়ে কাজ শুরু করেন৷ নতুন এই কাজের মাধ্যমে নিজের সম্পর্কেও তাঁর উপলব্ধি হলো৷ লোরেন্সো বলেন, ‘‘পাতার একদিক যেভাবে আলোর দিকে চেয়ে থাকে, তা যেন আমাদের ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন৷ ব্যক্তিত্বের এই অংশ বাকি জগতের সঙ্গে সংলাপ চালায়৷ পাতার অন্য দিকটি ছায়ায় থাকে৷ সেটি ব্যক্তিত্বের অস্পষ্ট অংশ৷ একদিক স্বচ্ছ, অন্যদিকটা গোপন৷''

লোরেন্সো তাঁর শিল্পকে এর মধ্যে পেশায় পরিণত করেছেন৷ তাঁর সৃষ্টিকর্ম ডিজাইন ব্লগ, আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, শিল্প সংক্রান্ত পত্রিকা ও বিভিন্ন বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে৷

বিভিন্ন কোম্পানির ভাবমূর্তি বাড়াতে প্রচার অভিযানেও তাঁর শিল্পকর্মের চাহিদা রয়েছে৷ গাছের পাতা বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড দূর করেঅক্সিজেন সৃষ্টি করে৷ তাই সুস্থ পরিবেশের আদর্শ প্রতীক হিসেবে গাছের পাতার তুলনা নেই৷ শিল্পী হিসেবে লোরেন্সো-র কাছেও টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ নীতি অত্যন্ত জরুরি বিষয়৷ লোরেন্সো মনে করেন, ‘‘মানুষ যে প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত, সেই বিষয়টি আমি তুলে ধরতে চাই৷ আজ আমরা সেই সংযোগ হারিয়ে ফেলেছি৷ মানুষ আবার নিজেকে প্রকৃতির অংশ হিসেবে দেখতে পারলে আমরা আবার পরিবেশকে শ্রদ্ধা করতে শিখতে পারবো৷''

ঠিকমতো সংরক্ষণ করলে তাঁর সৃষ্টিকর্ম ১০ বছর পর্যন্ত অক্ষত থাকতে পারে৷ কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম মেনে সেই পাতাও বিলীন হয়ে যায়৷ তবে আশার কথা হলো, লোরেন্সো নিত্যনতুন সৃষ্টির কাজ করে চলেছেন৷

ক্রিস্টিয়ান ভাইবেৎসান/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন