গাছপালাই মাটি থেকে ধাতু সংগ্রহ করতে পারে! | অন্বেষণ | DW | 04.11.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

গাছপালাই মাটি থেকে ধাতু সংগ্রহ করতে পারে!

চাষ করে ধাতু সংগ্রহ করা যে সম্ভব, এ খবর ক'জন জানে? আলবেনিয়ার এক খেতে বিশেষ ফসলের মাধ্যমে নিকেল আহরণ করা হচ্ছে৷ শেষে মাটিও উর্বর হয়ে উঠবে৷

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

আলবেনিয়ার পূর্বাঞ্চলে চাষিরা এবার অ্যালিসাম চাষ করছেন৷ এই গাছ মাটি থেকে নিকেল শুষে নিতে পারে৷ এর মাধ্যমে চাষিরা মাটি থেকে ধাতু হিসেবে নিকেল তুলে নিয়ে বিক্রি করতে চান৷ ২০ বছর পর মাটি এতটাই ধাতুমুক্ত হয়ে উঠবে, যে সেখানে স্বাভাবিক চাষবাস করা সম্ভব হবে৷

কৃষিবিজ্ঞানী হিসেবে গিয়োম এচেভারিয়া এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷ এক মোবাইল এক্স-রে যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি ফসল পরীক্ষা করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি গাছের বিভিন্ন অংশে নিকেলের অনুপাত পরীক্ষা করছি৷ পাতায় এক থেকে দুই শতাংশ নিকেল রয়েছে৷’’

এই ফসল সত্যি একটা সাফল্য বটে৷ সূর্যের আলোয় শুকানোর জন্য গাছগুলি এবার কয়েক দিন ফেলে রাখা হবে৷ তারপর শুকনা গাছপালাগুলি ফ্রান্সে রপ্তানি করা হবে৷ সেখানে গবেষকরা নিকেল বার করে নেবেন৷

ফ্রান্সের নঁসি বিশ্ববিদ্যালয় গত কয়েক বছরে গাছপালা থেকে ধাতু নিষ্কাশনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে৷ শহরের উপকণ্ঠে এক গবেষণা কেন্দ্রে গিয়োম এচেভারিয়া ও তাঁর সহকর্মীরা আলবেনিয়া থেকে আনা ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যস্ত৷ সেই লক্ষ্যে গাছপালার অংশগুলি একটি চুলায় পোড়ানো হয়৷ ছাইয়ের মধ্যে নিকেল জমা হয়৷ গিয়োম এচেভারিয়া জানান, ‘‘এটাই আমাদের চূড়ান্ত পণ্য৷ ছাইয়ের রূপে অরগ্যানিক এক আকরিক৷ এই থলের মধ্যে প্রায় ৫ কিলোগ্রাম ছাই রয়েছে৷ তার মধ্যে প্রায় এক কিলো বিশুদ্ধ নিকেল পাওয়া গেছে৷’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নশাস্ত্রের গবেষণাগারে ছাই থেকে নিকেল বার করা হয়৷ তবে সেই ধাতু বিশুদ্ধ নয়৷ সেটা সম্ভব হলেও সেই প্রক্রিয়ার মূল্য অত্যন্ত বেশি৷ তার বদলে রসায়নবিদরা বিশেষ ধরনের নিকেল লবণ উৎপাদন করেন, যা ভালো বিক্রি হয়৷ রসায়নবিদ হিসেবে মারি-ওদিল সিমোনো বলেন, ‘‘শিল্পক্ষেত্রে সারফেস ট্রিটমেন্টের জন্য নিকেল লবণ ব্যবহার করা হয়৷ যেমন বিমান অথবা গাড়ি শিল্পে এর প্রয়োজন হয়৷ সেখানে নিকেল মেশানো তরল পদার্থে ধাতু ডুবিয়ে ক্ষয় থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়৷’’

ভবিষ্যতে ফসলের মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণ নিকেল সংগ্রহ করতে নঁসি শহরের বিজ্ঞানীরা এই ধরনের গাছপালা চাষের পদ্ধতি আরও নিখুঁত করে তোলার চেষ্টা করছেন৷ যেমন আরও ভালোভাবে গাছের শিকড়ের বিকাশের চেষ্টা চলছে৷ এমন গাছপালার সঙ্গে একযোগে চাষের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ষেগুলি মাটি আরও আলগা করে তোলে৷ ফলে ভবিষ্যতে ইয়েলো টাফট গাছের শিকড় মাটির আরও গভীরে প্রবেশ করে সেখান থেকেও নিকেল বার করে আনতে পারবে৷

গবেষকরা ইতোমধ্যে এও জানতে পেরেছেন, যে মাটির মধ্যে বিশেষ কিছু ব্যাকটিরিয়া ধাতু আহরণে আরও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে৷ নঁসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন গবেষণাগারে সেভেরিন লোপেস সেই ব্যাকটিরিয়া পরীক্ষা করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই সব ব্যাকটিরিয়া সরাসরি হাইপার অ্যাকুমুলেটর গাছপালার শিকড়ের আশপাশ থেকেই আসে৷ বিচ্ছিন্ন করে আমরা সেগুলির কার্যকলাপ পরীক্ষা করি৷ সেই কার্যকলাপ গাছপালার জন্য সুবিধা বয়ে আনে৷ গাছের বৃদ্ধির উন্নতি, মাটির মধ্যে ধাতুর সঞ্চালন অথবা গাছগুলিকে আরও ভালোভাবে ধাতু শুষে নিতে সেগুলি সাহায্য করে৷’’

তবে এই গবেষণা এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে৷ অদূর ভবিষ্যতে এই ব্যাকটেরিয়া ধাতুর ফসল আরও সফল করে তুলতে অবদান রাখতে পারে৷

আলবেনিয়ায় সেই উদ্যোগের সূচনা হয়েছে৷ এই ‘সুপার প্লান্ট’-এর ফলে চাষিরা এখনই উপকৃত হচ্ছেন৷ গবেষণা প্রকল্পের ফলে তাঁদের ভালো আয় হচ্ছে এবং মাটিরও উন্নতি হচ্ছে৷

ক্লাউস উয়রিশ/এসবি

গতবছরের ২ মে’র ছবিঘরটি দেখুন...

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন