‘গরু′, ‘গুজরাট′ থাকবে, মুক্তি পাবে অমর্ত্যকে নিয়ে তৈরি ছবি | বিশ্ব | DW | 09.01.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

‘গরু', ‘গুজরাট' থাকবে, মুক্তি পাবে অমর্ত্যকে নিয়ে তৈরি ছবি

সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে অসম যুদ্ধে খানিকটা হলেও জয় পেল নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন-কে নিয়ে তৈরি ছবি ‘আর্গুমেনটেটিভ ইন্ডিয়ান'৷ জানিয়েছেন ছবির নির্মাতা সুমন ঘোষ৷

যুদ্ধ চলছিল অনেক দিন ধরেই৷ আপাতত সেই যুদ্ধে খানিকটা হলেও জয় পেলেন নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন৷ মোদী সরকার স্বভাবতই ব্যাকফুটে৷ সবশেষ খবর, ইন্ডিয়ান সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন মাত্র একটি শব্দ বাদ দিয়েই অমর্ত্য সেনের ওপর তৈরি তথ্যচিত্র ‘আর্গুমেনটেটিভ ইন্ডিয়ান'কে ছাড়পত্র দিতে রাজী হয়েছে৷

অমর্ত্য সেনের ছাত্র, তথা পরিচালক সুমন ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে ছবিটি তৈরি করেছেন৷ অমর্ত্য সেনের বিভিন্ন সময়ের ছবি সেখানে ধরা আছে৷ রয়েছে দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ের ওপর বিবিধ আলোচনা৷ আশ্চর্য হলেও সত্যি, ছবিটি দেখানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড৷ বলা হয়েছিল, ‘গরু', ‘গুজরাট', ‘হিন্দু', ‘হিন্দুত্ব',  এমনকি ‘ভারত' শব্দও যেখানে যেখানে ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে ‘বিপ' দিতে হবে, অর্থাৎ ওই শব্দগুলো শোনানো যাবে না৷ শুনে অবাক হয়েছিলেন আপামর দেশবাসী এবং অমর্ত্য ভক্তেরা৷ বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোড়নও সৃষ্টি হয়েছিল৷ পরিচালক সুমন ঘোষ জানিয়েছিলেন, ওই শব্দগুলিকে বাদ দিয়ে কোনওভাবেই তিনি ছবিটির স্ক্রিনিং করবেন না৷

দীর্ঘ টালবাহানার পর সেই সমস্যার ইতি হয়েছে বলেই খবর৷ ফিল্ম বোর্ডের বর্তমান চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সম্প্রতি সুমন ঘোষের একটি বৈঠক হয়৷ সুমন জানিয়েছেন, বোর্ড অধিকর্তা আগের বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন৷ যদিও বোর্ড সূত্রে খবর, অন্য শব্দগুলির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নিলেও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ সুগত বসুর সাক্ষাৎকারে ব্যবহৃত ‘গুজরাত' শব্দটিতে ‘বিপ' বসানোর আর্জি জানানো হয়েছে৷ সুমন অবশ্য জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও নোটিস আসেনি৷

নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি'র সঙ্গে অমর্ত্য সেনের দ্বৈরথ নতুন নয়৷ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রবল সমালোচক অমর্ত্য৷ প্রকাশ্যে এবং  বার বার মোদীবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি৷ বস্তুত, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ‘নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়'-র চ্যান্সেলর পদ থেকেও ইস্তফা দেন৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নিং বডিতে তিনি ছিলেন৷ কিন্তু পরবর্তীকালে সেই পদ থেকেও সরে যেতে বাধ্য হন৷

নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর পারিষদেরাও ছেড়ে কথা বলেননি৷ বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন সভায় সরাসরি অমর্ত্যকে টার্গেট করা হয়েছে৷ বলা হয়েছে, তিনি দেশে থাকেন না আর তাই নাকি তাঁর মুখে ভারত সম্পর্কে বড় বড় কথা মানায় না৷ এমনও বলা হয়েছে, ভারতীয় অর্থনীতি বিজেপি তাঁর চেয়ে ভালো বোঝে৷ বিতর্ক ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছায় মোদী নোটবন্দি বা পুরনো নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর৷ অমর্ত্য বলেছিলেন, এর ফলে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে৷ সে সময় বিজেপি এবং দক্ষিণপন্থি অর্থনীতিবিদেরা অমর্ত্যের সমালোচনা করলেও পরবর্তীকালে দেখা যায়, অমর্ত্যের কথাগুলি একে একে মিলে যাচ্ছে৷

সেই সময়েই সুমন ঘোষ অমর্ত্যের ওপর ছবিটি শেষ করেন এবং স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেন৷ অভিযোগ, অমর্ত্যের ওপর আক্রোশের কারণেই সে সময় বিজেপি'র হস্তক্ষেপে ছবিটি বন্ধ করার পরিকল্পনা করে ফিল্ম বোর্ড৷ তবে সেই চেষ্টা বানচাল করে কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখানো হয়েছিল৷

এসজি/এসিবি (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এএনআই)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন