গরিবের জন্য ছোট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কথা বললেন ড. ইউনূস | বিশ্ব | DW | 11.01.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

গরিবের জন্য ছোট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার কথা বললেন ড. ইউনূস

গরিবের জন্য ব্যাংক হোক৷ আকারে ছোট, কম পুঁজির এবং আঞ্চলিক৷ ভারতে দরিদ্রদের স্বনির্ভর করার উপায় বাতলালেন অর্থনীতিবিদ, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস৷

ভারতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ এ কারণে আচমকা সিদ্ধান্তে বড় অঙ্কের নোট বাতিল করেছেন৷ কিন্তু গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর খারাপ প্রভাব পড়েছে৷ কৃষিকাজে, জনমজুরিতে যথেষ্ট টাকার জোগান না থাকায় বহু শ্রমিক উপার্জনহীন হয়ে আছেন৷ সুপ্রিম কোর্টে সরকার অন্যদিকে স্বীকার করেছে, রাষ্ট্রায়াত্ত্ব ব্যাংকের গ্রামীণ শাখায় যেমন বাতিল হয়ে যাওয়া পুরনো টাকার আসল-নকল যাচাই করে নেওয়ার ব্যবস্থা নেই, তেমনি নেই যথেষ্ট নতুন নোটের জোগান৷ ফলে কার্যত বিপর্যস্ত গ্রামীণ অর্থনীতি৷ এই অবস্থায় বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাস্তা দেখালেন৷ কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিশতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় ড. ইউনূস বললেন, ‘‘ভারতে বড় ব্যাংক মূলত বিত্তবানের সেবা করে৷ গরিব মানুষ, বিশেষত যাঁরা গ্রামাঞ্চলে বাস করেন, তাঁরা ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুবিধা বিশেষ পান না৷ যে কারণে ভারতে ব্যাংকিং আইনের সংশোধন করে, কম পুঁজির এবং ছোট আকারের ব্যাংক জেলায় জেলায় চালু করা উচিত৷ যেখান থেকে গরিবেরা, কৃষক, শ্রমিকেরা ঋণ পেতে পারেন৷''

সহজ কথায় বোঝাতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘‘বড় ব্যাংক হলো বড় জাহাজের মতো৷ অনেক সম্পদ তার ভেতরে৷ দীর্ঘ সময়ের জন্য সেই জাহাজ সাগর পাড়ি দেয়৷ কিন্তু গরিব মানুষের ব্যাঙ্কের সাগর পাড়ি দেওয়ার দরকার নেই৷ সেই গ্রামীণ ব্যাংক হবে যেন ছোট ডিঙি নৌকা, যা খাল-বিল বেয়ে পৌঁছে যাবে দরিদ্র মানুষের কাছে৷''

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আলোচনা সভার শীর্ষক ছিল ‘‌ডিজাইন ইকনমিক্স টু রিডিজাইন দ্য ওয়ার্ল্ড'‌৷ নতুন নকশার সেই অর্থনীতির ভবিষ্যতের রাস্তা দেখাতে গিয়ে, বাংলাদেশে মাইক্রো ফিন্যান্স ব্যবস্থার জনক ড. ইউনূস বলেন, ‘‘ভারতে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প চালু করেছে, ভালো কাজ করছে৷ কিন্তু পুঁজির জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় অন্য আর্থিক সংস্থার ওপর৷ ড. ইউনূসের প্রস্তাব, এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে সীমিত ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স দেওয়া হোক৷ ল্যাটিন অ্যামেরিকা এবং আফ্রিকায় সেই মডেলে কাজ হচ্ছে৷ কিন্তু তার জন্যে আইনের বদল দরকার৷ কারণ আইন আদতে একটা ছাঁচের মতো৷ একবার সেটা তৈরি হয়ে গেলে, সেই ছাঁচে ফেলেই সব কাজ হতে থাকে৷ তাই ছাঁচটা পাল্টানো দরকার৷

এদিকে নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত এবং চিটফান্ড তদন্তে দুই দলীয় সাংসদের গ্রেপ্তারি, এই দুইয়ের প্রতিবাদে বুধবারও তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ-আন্দোলন জারি ছিল৷ পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি জেলায় রেলপথ অবরোধ করে তৃণমূল কর্মীরা৷ রিজার্ভ ব্যাংকের সামনে এবং সিবিআই-এর কলকাতা দপ্তরের সামনে নেতাদের ধর্ণা চলে৷ অন্যদিকে দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদরা এদিন রাইসিনা হিলসে রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনে গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান৷ তারপর যান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানাতে৷ 

বন্ধু, এ বিষয়ে কি আপনার কিছু বলার আছে? লিখুন নীচে, মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন