গণহত্যার স্বীকৃতি পেতে ৩০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ | বিশ্ব | DW | 26.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

গণহত্যার স্বীকৃতি পেতে ৩০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে এবার ৩০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ এই স্বাক্ষর জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বন্ধু দেশগুলোর কাছেও পাঠানো হবে৷

আগামী ১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হচ্ছে৷ সেখান থেকেই এই উদ্যোগের শুরু হবে৷ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি এই উদ্যোগ নিয়েছে৷

এই সংগঠনের সভাপতি শাহরিয়ার কবীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সরকারি উদ্যোগেও এখন কেন যেন ভাটা পড়ে গেছে৷ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও যেভাবে উৎসবের সঙ্গে শুরু হয়েছিল, এখন তেমন গতি নেই৷ তাই আমরা এবার ৩০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছি৷ জাতীয় সংসদের সদস্যদের দিয়ে ১ এপ্রিল এই কার্যক্রম শুরু হবে৷ শুধু দেশের নয়, বিদেশেও যারা আমাদের বন্ধু আছেন, তারাও এখানে স্বাক্ষর করবেন৷ এরপর এই স্বাক্ষরগুলো আমরা জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে পাঠাবো৷ আসলে এতবছর পর গণহত্যার স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব, কিন্তু কঠিন৷ এই কারণে আমরা আগে জনমত গঠনের কাজে নেমেছি৷ আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বহুবার বলেছি, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছে চিঠি পাঠাতে৷ কিন্তু কেন তারা পাঠায়নি, আমরা জানি না৷ এমনকি ভারতের কাছেও চিঠি পাঠায়নি৷ তাহলে তারা তো আগে স্বীকৃতি দিতো? ৯০ বছর পর আর্মেনিয়া গণহত্যার স্বীকৃতি পেয়েছে৷ সেখানে সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করেছে৷ এখানেও যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি, তাহলে গণহত্যার স্বীকৃতি আদায় সম্ভব৷’’

অডিও শুনুন 06:22

সরকারি উদ্যোগেও এখন কেন যেন ভাটা পড়ে গেছে: শাহরিয়ার কবির

৫০ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে নিরীহ বাঙালিদের ওপর গণহত্যা চালায়৷ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন৷ ১৬ ডিসেম্বর  দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত নয় মাস ধরে এই গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ চলে৷ যুদ্ধে পাকিস্তান বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে এবং দুই লাখ নারী ও মেয়ে শিশুর ওপর যৌন সহিংসতা চালায়৷

তবে ২৫ মার্চ রাতে যে গণহত্যা, সেটার এখন আর স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করেন শাহরিয়ার কবীর৷ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ ১৯৬টি দেশ সেখানে সই করেছে৷ এর মধ্যে বাংলাদেশও আছে৷ ফলে এখন আর বলার সুযোগ নেই যে, আমরা এটা মানি না৷ তাই আমাদের এখন ৯ মাসের যুদ্ধে যে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে সেটার স্বীকৃতি পেতে হবে৷ অনেক বড় দেশই এটার বিরোধিতা করবে তারপরও এটা আদায় করা সম্ভব৷ কারণ, যুক্তরাষ্ট্র, চীন তো তখন পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, ফলে তারা চাইবে না৷  

অডিও শুনুন 03:19

একাত্তরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যে তারবার্তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে সেখানে গণহত্যার কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: অধ্যাপক মিজানুর রহমান

গণহত্যার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবতা অভিশাপগ্রস্থ কি-না সে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘এটা আন্তর্জাতিক অপরাধ৷ এর স্বীকৃতি হতে হবে আন্তর্জাতিকভাবেই৷ কারণ, এখানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্রে, চীনসহ অনেক দেশই তো তখন পাকিস্তানের পক্ষে ছিল৷ আমরা তো দেখেছি, একাত্তরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যে তারবার্তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে সেখানে গণহত্যার কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে৷ তারপরও নিক্সন সেদিকে কর্ণপাত করেননি৷ তিনি পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়ে গেছেন৷ ফলে তারা চাইবে না এটার স্বীকৃতি হোক৷ যেমন যুদ্ধাপরাধের বিচারেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসেনি৷ বাংলাদেশ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধের বিচারকরেছে৷ এটা তো যারা স্থানীয় অপরাধী তাদের বিচার করা গেছে৷ কিন্তু যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তারা তো পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে এখন অবস্থান করছেন৷ তাদের তো বিচার হতে হবে৷ এমনকি তাদের মরনোত্তর বিচার করাও সম্ভব৷ তা না হলে আইনী ন্যায্যতা আসবে না৷’’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ বিভাগের খন্ডকালীন শিক্ষক ও প্রবীণ সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সকালে আমি নিজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই গণহত্যার শিকার হওয়া মানুষের লাশ দেখেছি৷ মাটিচাপা দেওয়ার পরও দেখা গেছে, কারো হাত কারো পা বের হয়ে আছে৷ যুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে৷ এটা কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আর কখনো হয়নি৷ যেসব দেশে গণহত্যা হয়েছে, সেখানে কিন্তু একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের যুদ্ধ হয়েছে৷ আমাদের এখানে কিন্তু শান্তিপূর্ণ নিরীহ মানুষের উপর গণহত্যা চালিয়েছে৷ আমরা পাল্টা হিসেবে আমরা যুদ্ধ শুরু করি৷ এটার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না হওয়ার একটা বড় কারণ মনে হয়, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত একটি দেশ, অর্থনৈতিক পুনর্হঠনসহ এই কাজগুলোতে বেশি মনোযোগ দিয়েছি৷ যুক্তরাষ্ট্র, চীন তো অস্ত্র দিয়ে এই গণহত্যায় সহযোগিতা করেছে৷ ফ্রান্স, বৃটেনসহ আরো অনেক দেশই তখন সরাসরি এই গণহত্যার বিরোধিতা করেনি৷ এই কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থানটা খুব জোরালো ছিল না৷ এখনও এটার সময় যায়নি৷ এটার স্বীকৃতি পেতে হলে দালিলিক প্রমাণ দিতে হয়৷ সেগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে৷ আমার মনে হয় সবাই মিলে কাজগুলো করতে পারলে এটার স্বীকৃতি পাওয়া যাবে৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়