গণআয়োজনে ঘর বাঁধলো কয়েক হাজার জুটি | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 03.02.2011
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

গণআয়োজনে ঘর বাঁধলো কয়েক হাজার জুটি

এক স্বর্গীয় বন্ধনে আবদ্ধ হবে যুবক-যুবতী, এমনটাই চায় ধর্ম৷ বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মভীরু সমাজে একমাত্র বিয়েই প্রাপ্তবয়স্কের সম্পর্ককে বৈধতা দেয়৷ কিন্তু অনেকের বিয়ের সাধ থাকলেও সাধ্যটা থাকে না৷

default

ভারতে বিয়ে (ফাইল ফটো)

সেই অসাধ্যদের জন্য আয়োজন গণবিয়ের৷ ভেন্যু ভারতের মধ্যপ্রদেশের আমরাবতি৷ সেখানে বুধবার একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ৩,৬০০ জুটি৷ খোলা আকাশের নিচে সাজানো মঞ্চে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা৷

বিবাহিতের তালিকায় ২,৪৩৩ হিন্দু, ১৫০ মুসলিম, ৭৪৯ বৌদ্ধ আর ১৫ খ্রিষ্টান দম্পতি ছাড়াও ছিল ২৫৩ আদিবাসী জুটি৷ এদের অধিকাংশের পরিবার ঋণের দায়ে জর্জরিত৷ তাছাড়া খরাও কেড়ে নিয়েছে ফসল৷ তাই বিয়ে এক অসাধ্য স্বপ্ন ছিল এই জুটিদের৷ গণ আয়োজনে প্রতিবন্ধী এবং বামন জুটিরাও ঘর বাঁধার সুযোগ পেয়েছেন৷

ইউনিফিকেশন চার্চ এই গণবিয়ের আয়োজক৷ চার্চটি ষাটের দশক থেকেই এধরনের বিয়ে পরিচালনা করছে৷ এর মুখপাত্র আমোল চাওয়ান জানান, জুটিদের বিবাহ আইনসম্মতভাবে নথিভুক্ত হয়েছে৷ স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে সহায়তা করেছে৷

বুধবার বিয়ের আয়োজনস্থলে ছিল দেখার মতো ভিড়৷ বিবাহিচ্ছু তরুণীরা নানা রংয়ের শাড়ী পরে উৎসবস্থলে হাজির হন৷ অন্যদিকে পুরুষের পোশাক ছিল স্যুট-টাই৷ কেউ কেউ অবশ্য ভারতের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাকেও হাজির হন৷ সেখানে দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে৷

বলাবাহুল্য, এমন এক সময় এই বিয়ের আয়োজন করা হলো যখন ভারতের কৃষকদের মধ্যে নানা হতাশা চলছে৷ বিশেষত ঋণের বোঝা আর খরা ভারতের দুর্গম অঞ্চলের কৃষকদেরকে ব্যাপক সমস্যায় ফেলেছে৷ গণবিয়েতে অংশ নেওয়া প্রায় এক হাজার জুটি এসেছে কৃষক পরিবার থেকে৷ এদের অন্তত অর্ধেক জুটির অভিভাবকরা ঋণের দায়ে বিভিন্ন সময়ে আত্মহত্যা করেছে৷

উল্লেখ্য, ভারতে গণবিয়ের আয়োজন নতুন নয়৷ অতিদরিদ্ররা বিয়ের খরচ বাঁচানোর আশায় এধরনের আয়োজনে যোগ দেন৷

প্রতিবেদন: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: হোসাইন আব্দুল হাই

সংশ্লিষ্ট বিষয়