গডফাদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে র‌্যাব | আলাপ | DW | 28.02.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

গডফাদারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে র‌্যাব

র‌্যাবের মুখপাত্র এবং মিডিয়া ও ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্ণেল সারোয়ার বিন কাশেম ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘গডফাদার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে র‌্যাব৷'

ক্যাসিনোকান্ডসহ সম্প্রতি বেশ কিছু আলোচিত অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব৷ কিন্তু বারবার একটা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি, সেটা হল- যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের গডফাদার বা সুবিধাভোগীদের তালিকা কি করেছে র‌্যাব? কি ব্যবস্থা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে? র‌্যাবের মুখপাত্র এবং মিডিয়া ও ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের পরিচালক লে. কর্ণেল সারোয়ার বিন কাশেম ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘গডফাদার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে র‌্যাব৷'

ডয়চে ভেলে : ক্যাসিনোকাণ্ডে তো অনেকগুলো মামলা করেছেন, এগুলোর এখন কি অবস্থা?

লে. কর্ণেল সারোয়ার বিন কাশেম: গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনো বিরোধী যে অভিযান শুরু হয়েছিল সেই থেকে আমরা উল্লেখযোগ্য  নয়জনসহ ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছি৷ প্রায় ৬৬ কোটি টাকার এফডিআর এবং বিপুল পরিমান নগদ টাকা, বৈধ-অবৈধ অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে৷ এসব ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মামলা আমরা করেছি৷ প্রত্যেকটি মামলাই চলমান৷ এর মধ্যে কিছু মামলার চার্জশিট আমরা দিয়েছি৷ বাকীগুলো ঠিকমতোই কাজ চলছে৷

প্রথম যখন অভিযান শুরু হয়, তখন অনেকেই বিদেশে ছিলেন৷ পরে তারা দেশে ফিরে নির্বাচনও করেছেন৷ কিন্তু তাদের গ্রেফতারে নতুন কোন উদ্যোগ নেই কেন?

আমরা যতদূর জানি, অভিযানের কারণে যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন তারা কেউই এখনও দেশে ফিরে আসেনি৷ এবং দেশে এসে নির্বাচন করেছে এমন কোন তথ্যও আমাদের কাছে নেই৷ আপনাদের কাছে যদি এমন কোন তথ্য থাকে তাহলে আমাদের প্রদান করুন, তাদের বিরুদ্ধে যদি কোন মামলা থাকে তাহলে যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সেটা অবশ্যই নেওয়া হবে৷

অডিও শুনুন 05:50

কিছু মিডিয়া এমন কিছু প্রচার করেছে যা আমরা বলিনি: সারোয়ার

অনেকে দেশে ফিরে মিডিয়ায় প্রতিবাদ বা কোন কোন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে? তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

আমরা কিন্তু যে তথ্য পাইনি, সেই তথ্য কিন্তু মিডিয়াকে জানাইনি৷ তবে কিছু মিডিয়া এমন কিছু প্রচার করেছে যা আমরা বলিনি৷ তারপরও মামলা করবে সেটা একেবারেই যুক্তিযুক্ত না৷ আমার মনে হয়, এই বিষয়ে সবার একসঙ্গে থাকা উচিৎ৷ পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করার সাহসটা তারা পায় কোথায়? সবার এক হয়ে কাজ করা উচিৎ৷ আমাদেরও করা উচিৎ যেন ভুল তথ্য দিয়ে আমরা যেন জনগণকে বিভ্রান্ত না করি৷ এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে৷

অধিকাংশের বিরুদ্ধেই তো বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ আছে৷ এই টাকা উদ্ধারে দুদককে সম্পৃক্ত করে কোন উদ্যোগ আপনারা নিয়েছেন কি-না?

অবশ্যই৷ মানি লন্ডারিংয়ের যে মামলা সেগুলো কিন্তু সিআইডি দ্বারা পরিচালিত হয়৷ আমরা বিভিন্ন কারণে অপরাধীদের ধরে থাকি৷ এখানে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করে, যাদের যেটা নিয়ে কাজ করা উচিৎ তারা সেটাই করছে৷

যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের থেকে সুবিধাভোগীদের কোন তালিকা করেছেন কি-না? তাদের বিষয়ে আপনাদের কোন উদ্যোগ আছে?

আমি আগেও বলেছি, ৯ জন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি এবং এদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩২ জনকে আমরা গ্রেফতার করেছি৷ ৩২ সংখ্যাটা কিন্তু আমলে নেওয়ার মতোই একটা সংখ্যা৷ এখনও যাদের গ্রেফতার করছি, তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তাদের যে গডফাদার বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি৷

কাউকে ধরার পর সংবাদ সম্মেলনে যে তথ্য দেয়া হয় এতে তার বা তাদের প্রাইভেসি লঙ্ঘন করা হয় কি-না?

সংবাদ সম্মেলনে আমরা যেটা বলি, প্রাথমিকভাবে তার কাছ থেকে এই তথ্যগুলো পাওয়া গেছে৷ পরবর্তীতে আরো কিছু পাওয়া গেছে জানানো হবে৷ আমরা কিন্তু প্রাথমিক কোন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করি৷ আর যদি পুরাতন কোন মামলা থাকে তাহলে তো কথাই নেই৷ তাহলে অবশ্যই সে অপরাধী৷ আর নতুন যাকে পাওয়া যাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে যদি পুরাতন কোন মামলা না থাকে তাহলে আমরা বলি, তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে৷ বা অন্যান্য বাহিনীর উপর ছেড়ে দেই৷ এখানে প্রাইভেসি সংঙ্ঘনের সুযোগ আমরা রাখি না৷ আমরা যা করি, তা আইন সিদ্ধভাবেই করি৷

আদালত কর্তৃক অপরাধ প্রমানের আগেই অনেকের ছবি মিডিয়াতে প্রকাশ হচ্ছে? এটা কতটা যৌক্তিক?

মিডিয়া যে ছবিগুলো প্রকাশ করে তারা তো আইন মেনেই সেটা করেন৷ তারপরও এখানে আইনের কোন লংঙ্ঘন হচ্ছে কি-না তা মিডিয়ার যারা দায়িত্বশীল আছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন৷

অভিযান বা মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে কোন ধরনের চাপ আসে কি-না?

এমন কোন চাপ আমরা অনুভব করি না৷ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করি৷ আমাদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পজেটিভ বলেই মনে হয়েছে৷

এসব ঘটনা নিয়ে মিডিয়া যদি অনুসন্ধান করতে চায় তাহলে র‌্যাব কি সহযোগিতা করে?

অবশ্যই৷ দেখেন জনগনের বন্ধু হিসেবে মিডিয়ার কাছ থেকে আমরা অনেক তথ্য উপাত্ত পাই৷ এবং অসংখ্য, অসংখ্য অপারেশন আমরা পরিচালনা করেছি, মিডিয়ার কাছ থেকে তথ্য উপাত্ত পেয়ে এবং তাদের কাছ থেকে প্রত্যক্ষ তথ্য পেয়ে ও সহযোগিতা পেয়ে৷ আমি বলতে চাই, সকলেরই মিডিয়া বান্ধব হওয়া উচিৎ৷

মিডিয়াতেও অনেক সময় আপনাদের উদ্ধৃত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন হচ্ছে? সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভিকটিম হচ্ছেন কি-না?

দেখেন যখন কারো বিরুদ্ধে কিছু লেখা হয়, তখন নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই লেখা হয়৷ আমি যেটা বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের মিডিয়া এ ব্যাপারে যথেষ্ট সৎ, যথেষ্ট উদ্যোগী৷ তারা এমন কিছু লিখবেন না যার কারণে কোন বিভ্রান্তি বা গুজবের সৃষ্টি হয়৷ তারপরও যদি কারো বিরুদ্ধে কিছু যায় তাতেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই৷ কারণ এর জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন