খ্রিষ্টান পুরোহিত নিখোঁজ, পোপ আসছেন ‘শান্তির বাণী′ নিয়ে | বিশ্ব | DW | 29.11.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

খ্রিষ্টান পুরোহিত নিখোঁজ, পোপ আসছেন ‘শান্তির বাণী' নিয়ে

বাংলাদেশে পোপ ফ্রান্সিসের সফরের ঠিক আগে, সোমবার, নিখোঁজ হন এক খ্রিষ্টান পুরোহিত৷ নাম ফাদার ওয়াল্টার উইলিয়াম রোজারিও৷ নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ধর্মপল্লির সহকারী পাল-পুরোহিত তিনি৷ এখনও তাঁর সন্ধান মেলেনি৷

নাটোরের স্থানীয় সাংবাদিক কামাল মৃধা ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘ফাদার ওয়াল্টার উইলিয়াম রোজারিও-র মুক্তির জন্য তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে ইতিমধ্যে৷ বুধবার সন্ধ্যার দিকে উইলিয়াম ওয়াল্টার রোজারিও-র বড় ভাই প্রেমল রোজারিও এবং জোনাইল ধর্মপল্লির পাল-পুরোহিত ফাদার সুব্রত পিউরিফিকেশন এ তথ্য জানিয়েছেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘রোজারিও-র পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন যে, গত বছর বনপাড়া খ্রিষ্টানপল্লির মুদি ব্যবসায়ী সুনীল হত্যার কিছু আগে-পরে ফাদার উইলিয়াম ওয়াল্টার রোজারিও-র মোবাইল ফোনে একটি নম্বর থেকে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছিল৷ ঐ ম্যাসেজে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়৷ এ ব্যাপারে ফাদার উইলিয়াম ওয়াল্টার রোজারিও বড়াইগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন৷ কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি৷''

অডিও শুনুন 01:45
এখন লাইভ
01:45 মিনিট

‘তাঁর মুক্তির জন্য তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে’

কামাল মৃধা বলেন, ‘‘সম্প্রতি সুনীল গোমেজ হত্যা মামলায় ১২ জঙ্গির নামে আদালতে অভিযোগ-পত্র (চার্জশিট) দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ৷ আমাদের সন্দেহ, এ ঘটনার জেরে জঙ্গিরা উইলিয়াম ওয়াল্টার রোজারিওকে তুলে নিয়ে থাকতে পারে৷''

পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘উইলিয়াম ওয়াল্টার রোজারিওকে উদ্ধার করার জন্য জেলা পুলিশের পাঁচটি টিম কাজ করছে৷ তাঁকে জঙ্গিরা উঠিয়ে নিয়ে গেছে, নাকি অপহরণকারীরা তুলে নিয়েছে, নাকি তিনি নিজেই আত্মগোপনে গেছেন, এ ব্যাপারে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারিনি৷''

তবে এ নিয়ে জানতে চাইলে নিখোঁজ ওয়াল্টার উইলিয়াম রোজারিও-র ভাই প্রেমল রোজারিও ডয়চে ভেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে চাননি৷ তিনি শুধু জানান, ‘‘এ নিয়ে আমরা টেলিফোনে কারুর সঙ্গে কথা বলবো না অথবা কোনো তথ্য দেবো না৷ পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এরইমধ্যে মিয়ানমার সফর শেষে ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ৩০ নভেম্বর তিন দিনের সফরে ঢাকা আসছেন ‘শান্তি এবং সহমর্মিতা'-র বাণী নিয়ে৷ তিনি শুধু খ্রিষ্টানদের সঙ্গে নয়, সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন৷ কথা বলবেন যুব সম্প্রদায়, এমনকি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গেও৷ তবে পোপ তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন রাজধানী ঢাকায়৷

গত ৩১ বছরে এই প্রথম খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু বাংলাদেশে আসছেন৷ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় তাঁর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা৷ সেখান থেকে তিনি সরাসরি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন৷ তারপর ধানমন্ডিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন পোপ৷ পরে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি৷ বঙ্গভবনেই বাংলাদেশের সিনিয়র সিটিজেন, সুশীল সমাজ এবং কূটনীতিকদের মিলিত হবেন পোপ৷

পোপের ঢাকা সফরে মিডিয়া কমিটির প্রধান ফাদার কমল কোরাইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পোপ শান্তি এবং সম্প্রীতির বাণী নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন৷ তিনি সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন৷ তরুণ এবং যুবকদের সঙ্গে কথা বলবেন৷ সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি এবং সাম্যের কথা ছড়িয়ে দেয়াই পোপের এই সফরের উদ্দেশ্য৷''

সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর শুক্রবার, সকাল ১০টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে খ্রিষ্টধর্মীয় উপাসনা ও যাজকদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন পোপ ফ্রান্সিস৷ এরপর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকায় ভ্যাটিকান দূতাবাসে পোপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতের কথা রয়েছে৷ বিকাল ৪টার পর ক্যাথিড্রাল পরির্দশন করবেন তিনি৷ পরে প্রবীণ যাজক ভবনে বাংলাদেশের বিশপদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করবেন পোপ৷ বিকাল ৫টার পর কাকরাইলের আর্চ বিপশ হাউজের মাঠে শান্তির জন্য আন্তঃধর্মীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন পোপ৷ এখানেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলার কথা রয়েছে পোপের৷ তবে কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢাকায় নিয়ে আসার দায়িত্ব বাংলাদেশের৷ ভ্যাটিকান দূতাবাস এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না৷

অডিও শুনুন 00:49
এখন লাইভ
00:49 মিনিট

‘পোপ সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন’

সফরের তৃতীয় দিন ২ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় তেজগাঁও মাদার তেরেজা ভবন পরির্দশন করবেন পোপ ফ্রান্সিস৷ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে তেজগাঁও গির্জায় যাজক, ব্রাদার-সিস্টার, সেমিনারিয়ান ও নবিশদের সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি৷ সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে তেজগাঁও কবরস্থান ও পুরনো গির্জা পরিদর্শন করবেন৷ তারপর বেলা সাড়ে টার দিকে দিকে ঢাকার নটরডেম কলেজে যুব সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন৷ এ দিনই বিকাল ৫টার পর রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন পোপ ফ্রান্সিস৷

ফাদার কমল কোরাইয়ার কথায় পোপের সফরসূচি লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, ‘‘পোপ তাঁর অধিকাংশ কর্মসূচিই রেখেছেন অন্য ধর্ম এবং তরুণদের সঙ্গে৷ তিনি নটরডেম কলেজে তরুণদের শান্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন৷''

গত দু'দিনে মিয়ানমারে পোপ রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বললেও রোহিঙ্গাশব্দটি এড়িয়ে গেছেন৷ বাংলাদেশেও কি তিনি তাই করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কমল কোরাইয়া বলেন, ‘‘বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে মানবিকতা দেখিয়েছে, তার প্রশংসা করবেন পোপ৷ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খাওয়ার যে কথা বলেছেন, তা অবশ্যই পোপের প্রশংসায় স্থান পাবে৷ আর এই সমস্যা সমাধান করে সব ধর্মের প্রতি শান্তির আহ্বান জানাবেন তিনি৷''

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ‘বাংলাদেশের চেষ্টা থাকবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের পক্ষে পোপের অবস্থান নিশ্চিত করা৷ বাংলাদেশ আশা করছে পোপের এই সমর্থন পাওয়া যাবে৷'

এ বিষয়ে বাংলাদেশের ধর্মীয় নেতা ও শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘পোপের এই সফর ধর্মীয় শান্তি ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রে অবদান রাখবে৷ কিন্তু মিয়ানমার সফরে তিনি রোহিঙ্গাদের কথা বলতে গিয়ে কৌশল অবলম্বন করেছেন৷ এটা আমাকে দুঃখ দিয়েছে৷ পোপ তো বিতর্কের ঊর্ধে৷ তিনি তো সব সময় নির্যাতিত মজলুমের পক্ষে কথা বলেছেন৷ কিন্তু এবার কেন সেভাবে বললেন না? রোহিঙ্গা শব্দ এড়িয়ে গেলেন৷ আশা করি বাংলাদেশে তিনি আর কৌশল অবলম্বন করবেন না৷ রোহিঙ্গাদের পক্ষে তিনি স্পষ্ট অবস্থান নেবেন৷''

ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পোপ ফ্রান্সিসের এই সফর রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের৷ অন্যদিকে ক্যাথলিক চার্চের প্রধান ধর্মগুরু ও সর্বপ্রধান ধর্মপাল হিসেবে তাঁর সফর হবে ধর্মীয় গুরুত্বকে প্রাধান্য দিয়ে৷ পোপ ফ্রান্সিসের সফর উপলক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ৷ পোপের সফরের আগে রাজধানীতে ব্লক রেইডের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে৷ পাপের সফরকালেও থাকবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷ সফরের সব ভেন্যু এবং ভিভিআইপি চলাচলের সময় পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ এবং র‌্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে৷

এর আগে ১৯৮৬ সালে পোপ জন পল (টু) বাংলাদেশ সফর করেন৷ প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছ'লাখ৷ এঁদের মধ্যে ক্যাথলিক চার লাখ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়