খেয়ে রোগা হতে গেলে চাই সলিউবল ফাইবার | অন্বেষণ | DW | 12.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

খেয়ে রোগা হতে গেলে চাই সলিউবল ফাইবার

কারণে-অকারণে সবসময় খিদে পাওয়া, মোটা হওয়া, ওজন বাড়া, এগুলো আজকাল বিশ্বায়িত সমস্যা৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের গবেষকরা দেখছেন, এমন কোনো খাবার আছে কিনা, যেগুলো কম খেলেও পেট ভরার অনুভূতি এনে দেয়৷

দেখলে মনে হবে যেন কোনো রেস্টুরেন্টের কিচেন, কিন্তু আসলে এটা স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন শহরে অবস্থিত মানবপুষ্টি বিষয়ক এক উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠান৷ গ্রাহকদের নয়, জরিপে যারা অংশ নিচ্ছেন, শুধু তাদেরই এখানে খাবার পরিবেশন করা হয় – এমন খাবার, যা কম খেলেও পেট ভরে যাবার অনুভূতি এনে দেয়৷

গর্ডন আর্ভিন এই জরিপে অংশ নিচ্ছেন৷ তিনি বললেন, ‘‘আমি যে ধরনের খাবার খেয়েছি, তা থেকে পেট আরো বেশিক্ষণ ধরে ভরে থাকত – কাজেই মাঝেমধ্যে এটা-সেটা খাবারের কথা মনেও হয়নি৷ সেটা তো ভালোই৷''

জরিপটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গবেষণা প্রকল্পের মূল অঙ্গ: জরিপে দেখার চেষ্টা করা হবে, কোন ধরনের সাধারণ, প্রাকৃতিক খাদ্য পেট ভরে থাকার অনুভূতি বাড়িয়ে ও খিদে কমিয়ে বেশি খাওয়া ও মোটা হওয়া রুখতে পারে৷

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী জেসন হ্যালফোর্ড জানালেন, ‘‘আমরা এমন সব প্রোটিন উপাদান, বা উদ্ভিদ উপাদান, বিভিন্ন ধরনের কার্বোহাইড্রেট বা শ্বেতসারের কথা বলছি, আবার আমরা সলিউবল ফাইবারের কথাও বলছি – আমরা এগুলোকে নানা ধরনের খাবারে ব্যবহার করি৷ আমরা রুটি-বিস্কুট, ‘স্মুদিজ', ইয়োগার্ট বা দই, সোডা বা অন্যান্য পানীয়... নানা ধরনের পণ্য তৈরি করি, যেগুলো মানুষের রোজকার খাবারের অঙ্গ হতে পারে৷''

জরিপে যারা স্বেচ্ছায় অংশ নিচ্ছেন, তাদের ৫২ দিন ধরে দিনে তিনবার করে খাবার দেওয়া হবে৷ পরিবর্তে গবেষকরা জানতে চাইবেন, খাবারের ‘অজানা' উপাদানগুলির ফলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে – বিশেষ করে এই খাবারের ফলে খিদে এবং মেদ ও ওজন কমছে কিনা৷ প্রাথমিক ফলাফল দেখে গবেষকরা উৎসাহিত৷

ক্যারল এবেল জরিপে অংশ নিচ্ছেন৷ তিনি জানালেন, ‘‘আমার ক্ষেত্রে সত্যিই কাজ দিয়েছে৷ যে খাবার দেওয়া হয়েছে, তাতে আমার পেট ভরা থেকেছে৷ দু'টো মিল-এর মধ্যে স্ন্যাক করতে ইচ্ছে করেনি৷ আমার ওজনও কমেছে, কাজে এটা সত্যিই আমার ক্ষেত্রে কাজ করেছে৷''

গবেষণার পরবর্তী পর্যায় হবে, সলিউবল ফাইবার বা দ্রবণীয় তন্তু যে কেন অন্যান্য খাদ্যের চেয়ে বেশি তাড়তাড়ি পেট ভরার অনুভূতি এনে দেয়, সেই রহস্য ভেদ করা৷ পরীক্ষাগারে কিছুটা উত্তর পাওয়া গিয়েছে৷

অ্যাবারডিন ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজিস্ট হ্যারি জে. ফ্লিন্ট বললেন, ‘‘কিছু কিছু ফাইবার অন্ত্রে পৌঁছেই পেট বোঝাই-এর অনুভূতি এনে দেয়৷ মানুষের পেটে এমন সব চাপ অনুভব করার ‘সেন্সর' আছে, যার ফলে ঐ পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি আসে৷ আবার মাইক্রোবের ক্রিয়াকলাপ নিয়েও একটা তত্ত্ব আছে, যা অনুযায়ী অন্ত্রের উপরিভাগের ‘রিসেপ্টর'-গুলি মাইক্রোব-দের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ায় শরীরের হর্মোন উৎপাদন প্রভাবিত করে৷ আবার এই হর্মোনগুলি আমাদের খিদে পাওয়া-না-পাওয়ার অনুভূতির উপর প্রভাব ফেলে থাকে বলে আমরা জানি৷''

এই গবেষণার চূড়ান্ত ফলাফল শুধুমাত্র ইউরোপে মাত্রাধিক খাওয়া আর ওজন বাড়ার বিরুদ্ধে সংগ্রামেই সাহায্য করবে না, এ থেকে নতুন ধরনের খাবারদাবার সৃষ্টি করা সম্ভব হবে, বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা৷

চাই নতুন খাবারদাবার

মনোবিজ্ঞানী হ্যালফোর্ড জানালেন, ‘‘খাবারের বিভিন্ন নতুন উপাদানগুলি অন্ত্রে গিয়ে বাস্তবিক কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তা আমরা বুঝতে শুরু করেছি৷ এই জরিপের ফলাফল নিয়ে পরীক্ষাগারে ফিরে আমরা নতুন সব উপাদান তৈরি করতে পারব ও সেই সব খাবার নিয়ে নতুন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালু করব৷ লক্ষ্য হল এই যে, আমাদের বাণিজ্যিক সহযোগীরা এমন সব পণ্য উৎপাদন করবেন, যা লোকে রোজকার খাবার হিসেবে খেতে চাইবে – নয়তো এই সব খাবারদাবারের কোনো মূল্যই নেই, এগুলো নিরর্থক৷''

জরিপে অংশগ্রহণকারী গর্ডন আর্ভিন জানালেন, ‘‘খাবারগুলো খুবই ভালো ছিল, খেতে খুব ভালো লেগেছে৷ স্বাদ, গন্ধ কিংবা খাবারের কোয়ালিটি নিয়ে কোনো অসুবিধাই হয়নি – খেয়ে খুবই আনন্দ পেয়েছি৷ কাজেই ভবিষ্যতে যদি এ ধরনের খাবার তৈরি হয়, তবে আমি নিশ্চয় সেই জরিপেও অংশ নেব৷''

ইউরোপে বাড়ি কিংবা রেস্টুরেন্টে কবে এ ধরনের খাবার সার্ভ করা হবে, তা অবশ্য বিজ্ঞানীদের পক্ষে এখনই বলা সম্ভব নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন