খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ছাত্রদের পক্ষে কথা বলায় শিক্ষক বহিষ্কার! | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 24.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ছাত্রদের পক্ষে কথা বলায় শিক্ষক বহিষ্কার!

তিন শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ ছাত্ররা এক শিক্ষকের সাথে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ করেছেন বলে অভিযোগ৷ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দেয়ার অভিযোগে৷

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা৷ যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একে ‘কতিপয় ছাত্র ও বহিরাগতদের’ অবস্থান হিসেবে অভিহিত করেছে৷

ঘটনার শুরু ২০২০ সালের জানুয়ারিতে৷ তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পাঁচ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামেন৷ দাবিগুলো হলো- ছাত্র বেতন কমানো, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবকাঠামো নির্মাণ ও ছাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা৷

এই আন্দোলন চলাকালেই তিন শিক্ষক ও দুই ছাত্রকে শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়৷ তারপর করোনার কারণে আন্দোলন থেমে যায়৷ চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবার শুরু হয় আন্দোলন৷ গত ১৩ই জানুয়ারি হঠাৎ করেই গত বছরের জানুয়ারির ঘটনায় দুই ছাত্র মোহাম্মদ মোবারক হোসেন নোমান এবং ইমামুল ইসলামকে বিভিন্ন মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ৷ এর প্রতিক্রিয়ায় ছাত্ররা ১৫ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে ২৪ ঘণ্টা সময় দেন৷ সেই সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার না করায় ১৭ জানুয়ারি তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করে৷

অডিও শুনুন 04:31

প্রতিশোধ নিলেন উপাচার্য: আবুল ফজল

এরই মধ্যে ২২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককেও বহিষ্কার করা হয়৷ তারা হলেন- বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক আবুল ফজল, একই বিভাগের প্রভাষক শাকিলা আলম এবং ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের শিক্ষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরী৷

সহকারী অধ্যাপক আবুল ফজল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নোটিশের জবাব দিতে আমাদের পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়নি৷ তদন্ত প্রতিবেদন দেখানো হয়নি৷ আসলে আমি বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও যৌন হয়রানির মত ঘটনা তুলে ধরায় যাওয়ার আগে প্রতিশোধ নিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফায়েকুজ্জামান৷ তার পক্ষে যারা আছেন তাদের তিনি নানা ধরনের সুবিধা ও পদোন্নতি দিয়ে আসছেন৷ আর আমি মনে করি ছাত্রদের দাবি যৌক্তিক৷ একজন শিক্ষক হিসেবে তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানানো আমার কর্তব্য৷’’ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে তিনি অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেন৷

বহিস্কৃত ছাত্রদের একজন ইমামুল ইসলাম বলেন, ‘‘গত বছর জানুয়ারিতে আমাদের আন্দোলন চলাকালে একজন শিক্ষক আমাদের সমাবেশের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে চাইলে আমরা বাধা দিই৷ আমরা তার সঙ্গে কোনো বেয়াদবি করিনি৷ তারপরও আমাদের বহিষ্কার করা হলো৷ এখন আমাদের আমরন অনশন চলবে দাবি পূরণ ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত৷’’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. শরিফুল হাসান লিমন দাবি করেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথ একটিই৷ আন্দোলনের সময় ছাত্ররা তখন একজন শিক্ষকক ঢুকতে না দিয়ে খারাপ ব্যবহার করনে৷ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে৷ কিন্তু তারা তা মওকুফের আবেদন করলে আমরা তা বিবেচনা করবো৷ তাদের অনেক বোঝাচ্ছি তারা শুনছেন না৷’’

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক মো. ফায়েকুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার জন্য বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি৷ মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠানো হলে তারও জবাব দেননি৷

অডিও শুনুন 06:46

শিক্ষকরা ছাত্রদের উসকানি দিয়েছিল: হোসনে আরা

তবে প্রো-ভিসি অধ্যাপক হোসনে আরা দাবি করেন, ‘‘ওই শিক্ষকরা ছাত্রদের উসকানি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিলো৷ তারা নানা ধরনের গুজব ও কুৎসা ছড়িয়েছে৷ ভিসির মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ তারা সেই সুযোগ নিচ্ছিল৷ তদন্তে তাদের অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছ৷’’

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে- এই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তাদের অভিযোগ ঠিক নয়৷ তারা তদন্ত কমিটিওকেও নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে৷’’

চলমান আন্দোলকে তিনি ছাত্রদের আন্দোলন বলতেও নারাজ৷ তার কথা, ‘‘কতিপয় ছাত্র ও বহিরাগতরা অবস্থান করছে৷ তারা আমাদের কথা এমনকি মেয়র মহোদয়ের কথা শুনছে না৷ তারা আসলে কারোর ইন্ধনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে এসব কাজ করছে৷’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিময় ও দুর্নীতির কথা বিভিন্ন সময় ইউজিসিকেও জানানো হয়েছে লিখিতভাবে৷ এনিয়ে ইউজিসির বক্তব্য জানা যায়নি৷ তকে একজন কর্মকর্তা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাপ্রবাহ তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন