খুলনায় নির্বাচনের আগে শতাধিক নেতা-কর্মী আটক নিয়ে বিতর্ক | বিশ্ব | DW | 12.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

খুলনায় নির্বাচনের আগে শতাধিক নেতা-কর্মী আটক নিয়ে বিতর্ক

খুলনা সিটি কর্পোরেশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক আর বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মধ্যে৷ কিন্তু বিএনপি প্রার্থী তাঁর কর্মী সমর্থকদের ধরপাকড় ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন৷

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বিএনপি ও তাঁর অঙ্গ-সংগঠনের ১৭ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ প্রায় পাঁচশ' নেতা-কর্মীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে৷ আর এক সপ্তাহে ১০০ জনের বেশি দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তিনি তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি পর্যবেক্ষক ও বিদেশি মিশনগুলোকে খুলনা সিটি নির্বাচন দেখতে খুলনায় যাওয়ার আহ্বান জানান৷ 

অডিও শুনুন 01:22
এখন লাইভ
01:22 মিনিট

‘‘বিএনপি'র শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে’’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে৷ সরকারের কথায় চলছে৷ বিরোধীদের ওপর আক্রমণকে অসত্য হিসেবে বর্ণনা করছে৷''

শনিবার সকালে আবারো নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে করে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জু বলেন, ‘‘একটি অর্থবহ, অংশগ্রহণমূলক ও ভীতিহীন নির্বাচনের জন্যই আমি বারবার সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছি৷ আমাদের বক্তব্য খুব সুস্পষ্ট, দেশের নাগরিকদের ভোটাধিকার ছোট কোনো বিষয় নয়, নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে৷ তা না হলে ১৫ তারিখ পর্যন্ত যাই হবে, তার দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে৷''

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘‘তাঁর (মঞ্জু) কোনো লোক কাজ করতে পারে নাই, সে রকম অভিযোগ কিন্তু আমি পাই নাই৷ আমি বরঞ্চ দেখছি যে, তাদের আগ্রহ কম৷ যে জায়গায় যায় বহর নিয়ে যায়৷''

তিনি বলেন, ‘‘উনি যাতে এই সব কথা না বলে সাধারণ মানুষের কাছে যায়৷ ১৫ তারিখে সাধারণ মানুষের উপর আস্থা রাখতে হবে৷ কেউ কাউকে হারাতে পারে না, যদি নিজেদের উপর আস্থা থাকে এবং যদি নিজেদের দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকে, সেটা মেকআপ করে কাজ করা আমার মনে হয় ভালো৷'' 

অডিও শুনুন 00:54
এখন লাইভ
00:54 মিনিট

‘‘খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো’’

খালেক সেনা মোতায়েনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের ওপর আমার আস্থা আছে৷ আশা করি ভালো নির্বাচন হবে৷''

প্রসঙ্গত, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রাথী তালুকদার আব্দুল খালেক আর বিএনপি'র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছাড়াও আরো তিনজন মেয়র প্রার্থী আছেন৷ মোট ওয়ার্ড ৩১টি৷ কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪৮ জন৷ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১০টি পদে প্রার্থী ৩৯ জন৷ এই সিটিতে মোট ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার৷

খুলনার ২৮৯টি ভোট কোন্দ্রের মধ্যে ২৪৫টি ভোট কেন্দ্রকেই ঝুকিপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে৷ এই বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক হেদায়েৎ হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘গত এক সপ্তাহে বিএনপি'র শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত করে তুলেছেন দু'দলের নেতারা৷ তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং দেখে নেয়ার হুমকি দিচ্ছেন৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘বিএনপি নির্বাচনের দিন সেনা মাতায়েনের দাবি অব্যাহত রেখেছে৷ আর আওয়ামী লীগ সেনা মোতায়েনের বিরোধী৷ এই পরিস্থিতির মধ্যেই খালেক এবং মঞ্জু তাদের নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন৷'' 

অডিও শুনুন 00:41
এখন লাইভ
00:41 মিনিট

‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মেতায়েন করা হয়না’’

খুলনা সিটি নির্বাচনের রিটার্নি অফিসার মো. ইউনূস আলি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মেতায়েন করা হয়না৷ প্রয়োজনও নাই৷ আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছি৷ নির্বাচন কমিশন কারো প্রতি পক্ষপাত করছে না৷''

বিএনপি মেয়র প্রার্থী মঞ্জুর অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘তিনি তাঁর নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ করেছেন৷ আমরা বিষয়টি দেখছি৷ আমরা পুলিশকে বলেছি অভিযোগ সত্য হলে তাদের ছেড়ে দিতে৷ হয়রানি না করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷''

এদিকে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. হুমাউন কবির দাবি করেছেন, ‘‘এখন পর্যন্ত খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো৷ এবং নির্বাচনেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে বলে না বলে মনে করি৷''

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের দিন আমাদের আয়োজন অনেক বড়৷ প্রতিটি কেন্দ্রে ২০-২২ জন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবে৷ পুলিশের ৭০টি মোবাইল টিম থাকবে টহলে৷ র‌্যাবের থাকবে ৩০টি টিম৷ বিজিবি থাকবে ১৬ প্ল্যাটুন৷ ম্যাজ্রিষ্ট্রেট থাকবেন৷ নির্বাচনের দিন চার হাজারের মত ফোর্স নিয়োজিত থাকবে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘বিএনপি প্রার্থী অভিযোগ করতেই পারেন৷ কিন্তু নির্বাচনের কারণে আমরা তাদের কোনো নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করি নাই৷ আমরা কারুর পক্ষ অবলম্বন করছিনা৷ যাদের আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে৷'' 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন