খুন করাই নেশা ছিল ডাক্তারের | বিশ্ব | DW | 31.07.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

খুন করাই নেশা ছিল ডাক্তারের

তিনি পেশায় ডাক্তার। তবে চালাতেন বিশাল এক গ্যাং। যাদের কাজ ছিল হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে ট্যাক্সি এবং ট্রাক চালকদের খুন করা।

ফাইল চিত্র

ফাইল চিত্র

পঞ্চাশের পর আর খুনের হিসেব রাখেননি তিনি। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থান জুড়ে তৈরি করেছিলেন গ্যাং। তার মাধ্যমেই মূলত ট্যাক্সি আর ট্রাক ড্রাইভারদের খুন করে জলে ভাসিয়ে দিতেন পেশায় চিকিৎসক দেবেন্দ্র। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। জেরায় নিজের ভয়াবহ কীর্তিকলাপের কথা নিজেই স্বীকার করেছেন ওই চিকিৎসক। জানিয়েছেন, কয়েক দশক ধরে এ কাজ করছিলেন তিনি।

অভিনব ব্যবসা শুরু করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের আদি বাসিন্দা দেবেন্দ্র। ইদানীং থাকছিলেন দিল্লিতে। পুলিশ জানিয়েছে, এক বিশাল দল তৈরি করেছিলেন দেবেন্দ্র। যাদের কাজ ছিল যাত্রী সেজে ট্যাক্সিতে উঠে পড়া। তারপর সুযোগ বুঝে ট্যাক্সি ড্রাইভারকে খুন করে মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হতো একটি খালে। যে খাল কুমীরের জন্য বিখ্যাত। অধিকাংশ দেহ নিমেষের মধ্যে কুমীরের খাবারের পরিণত হতো। ফলে মৃতদেহ জলে ভেসে ওঠারও কোনও সম্ভাবনা ছিল না। লাশ চিরতরে গায়েব।

এর পর সেই ট্যাক্সি ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা দামে বিক্রি করে দেওয়া হতো হরিয়ানা অথবা উত্তরপ্রদেশে। এ ভাবেই লাখ লাখ টাকা রোজগার করছিলেন দেবেন্দ্র। শুধু তাই নয়। একাধিক ট্রাকও ছিনতাই করেছে দেবেন্দ্রের দল। মূলত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক ছিনতাই করতো দেবেন্দ্রের দল। চালককে খুন করে সেই ট্রাক পৌঁছে যেত ডাক্তারের ভুয়া গ্যাস ডিলারশিপে। সেখানে সিলিন্ডার নামিয়ে ট্রাক ভেঙে ফেলা হতো। যাতে পুলিশ তার হদিশও না পায়। এ ভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন চিকিৎসক। একই সঙ্গে নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রক্ষা করতে রাজস্থানের জয়পুরে চেম্বার খুলেছিলেন তিনি। মাঝে মধ্যে তিনি সেখানে বসতেন।

এখানেই শেষ নয়। কিডনি পাচারের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন দেবেন্দ্র। যে কারণে জেলেও যেতে হয়েছে তাঁকে। ভুয়া গ্যাসের ডিলারশিপের জন্যও তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে। কিন্তু ব্যবসা থামেনি। কাজ বন্ধ হয়নি দলেরও। জেলে বসেই সবটা পরিচালনা করতেন ডাক্তার। বস্তুত, গত মাসেও জেলেই ছিলেন তিনি। সপ্তাহখানেক আগে প্যারলে বাইরে এসেছিলেন। তারপরেই বেপাত্তা হয়ে যান। পুলিশ বহু খুঁজেও তাঁর সন্ধান পাচ্ছিল না। সূত্র জানিয়েছে, প্রথমপক্ষের স্ত্রী এবং সন্তান বহুদিন আগেই দেবেন্দ্রকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। প্যারলে মুক্তির পরে দিল্লিতে এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে বিয়ে করে থাকছিলেন দেবেন্দ্র। শেষ রক্ষা হলো না। ফের পুলিশের জালে পড়তে হলো তাঁকে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, দেবেন্দ্র জেলে থাকলেও তাঁর দলের কাজ বন্ধ হবে কি? পুলিশের বক্তব্য, দেবেন্দ্রের মাধ্যমে গোটা দলটাকেই ধরার কাজ শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থান পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

এসজি/জিএইচ (পিটিআই, আবাপ)

বিজ্ঞাপন