খাশগজি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 23.12.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সৌদি আরব

খাশগজি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

সাংবাদিক জামাল খাশগজি হত্যাকাণ্ডে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে সৌদি আরবের একটি আদালত৷ তবে প্রাথমিকভাবে দণ্ডপ্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করা হয়নি৷

সোমবার রিয়াদের অপরাধ আদালত এই রায় দেয়৷ সৌদি আরবের ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর শালান আল-শালান এ রায় পড়ে শোনান৷ অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে বাকি তিনজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে৷

 

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক খাশগজি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত বছর ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়েছিলেন৷ সেখান থেকে তিনি আর বের হননি৷ পরে জানা যায় তাঁকে কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করে মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়৷ আজ পর্যন্ত তার দেহাবশেষ সনাক্ত হয়নি৷

সৌদি রাজ পরিবারের এক সময়ের ঘনিষ্ঠজন থেকে কড়া সমালোচক হয়ে গিয়েছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশগজি৷ বিশেষ করে নিজের শেষ কয়েকটি কলামে সৌদি যুবরাজ মোহামেদ বিন সালমানের দেশকে আধুনিক করার নানা উদ্যোগের সমালোচনা করেছিলেন তিনি৷

খাশগজি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তুরস্ক তাঁকে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে এবং সৌদি যুবরাজ সালমান ওই হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেছিল৷  আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করা হয়৷

শুরুতে অস্বীকার করলেও সৌদি আরব পরে হত্যার দায় স্বীকার করে৷ যদিও তাদের দাবি, যুবরাজ হত্যা পরিকল্পনার বিষয়ে কিছুই জানতেন না৷ তবে সিআইএ ও আরো কয়েকটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে খাশগজি হত্যাকাণ্ডে সৌদি যুবরাজের জড়িত থাকার ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ‘ পাওয়ার কথা বলা হয়৷

খাশগজি হত্যায় জড়িত সন্দেহে সৌদি আরব ২১ জনকে গ্রেপ্তার করে৷ আরও ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল৷ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১১জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে রাজধানী রিয়াদে তাদের গোপন বিচার শুরু হয়৷

সোমবারের রায়ে যে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে তারা ‘খাশগজি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিলেন'৷ বাকি তিনজনকে মোট ২৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত৷  তারা ‘এই অপরাধ গোপন করে আইন লঙ্ঘন করেছেন' বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে৷

তবে তদন্তে খাশগজি ও দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কোনো 'পূর্ব শত্রুতার' প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও রায়ে বলা হয়৷ তবে কী কারণে খুন হতে হলো খাশগজিকে?

গত নভেম্বরে সৌদি রাজপরিবারের সাবেক প্রভাবশালী উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন বলে বলা হয়েছিল৷  তখন প্রসিকিউটর বলেছিলেন, কাহতানি সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর একদল লোকের সঙ্গে খাশগজির কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছিলেন৷ ওই দলই পরে খাশগজি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়৷

প্রসিকিউটরের দাবি অনুযায়ী, সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার উপ প্রধান আহমেদ আল-আসিরি খাশগজিকে তুরস্ক থেকে যে কোনো উপায়ে দেশে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ হত্যার দিন কনস্যুলেটের ভেতর প্রথমে এটা নিয়েই দেনদরবার চলছিল এবং এক পর্যায়ে খুনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ আল-কাহতানি ওই আলোচনায় আল-আসিরির সঙ্গে সমন্বয়কারীর ভূমিকায় ছিলেন৷

পরে উভয়কেই তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷ আসিরিকে বিচারের মুখোমুখি করা হলেও কাহতানিকে তা হতে হয়নি৷ যদিও বিচারে আসিরিও প্রমাণের অভাবে খালাস পেয়েছেন৷

দণ্ডপ্রাপ্তরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন৷

এসএনএল/কেএম (রয়টার্স)

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন