‘খালেদা জিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে, কিছু হলে দায় তাদের’ | বিশ্ব | DW | 24.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘খালেদা জিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে, কিছু হলে দায় তাদের’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার দাবির বিষয়ে দেশের রাজনীতির মাঠ বেশ গরম। এ মুহূর্তে কী ভাবছে বিএনপি? এ বিষয়ে ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

Bangladesh Mirza Fakhrul Islam Alamgir, BNP

ফাইল ফটো

ডয়চে ভেলে : খালেদা জিয়া এখন কেমন আছেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : উনি বেশ কিছু রোগে অনেকদিন ধরেই ভুগছেন। বিশেষ করে লিভার, কিডনি, আর্থরাইটিস, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস এগুলো তার আগে থেকেই ছিল। করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি অনেকদিন হাসপাতালে ছিলেন। করোনা বেশ বড় রকমের সংকট তৈরি করেছিল।  

এই রোগের কি দেশে কোন চিকিৎসা নেই?

চিকিৎসকেরা খুব পরিষ্কার করে বলেছেন, এখন তার যে চিকিৎসা দরকার সেটা দেশে নেই। 

সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশি চিকিৎসক এনে চিকিৎসা করানো যায় কিনা...

এটা সম্ভব না। সম্ভব না এই জন্য যে, তার সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এই সেন্টারগুলোতে সেই ধরনের সুবিধা নেই। 

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা কি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন?

অবশ্যই। হাসপাতাল বলছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাই বলছেন। 

উনি যেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন, সেই এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তো কিছু বলছে না?

তাদের তো মিডিয়ার সামনে এসে বলার কথা না। রোগীর প্রাইভেসি বলে একটা কথা আছে। এটা জুরিসপ্রুডেন্সসহ সব জায়গায় আছে। রোগীর প্রাইভেসি রক্ষা করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনগতভাবে বাধ্য। ফলে তারা তো এ নিয়ে কথা বলবেন না। তবে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক যারা আছেন তারা কথা বলছেন এবং বলতে শুরু করেছেন। 

আগে তো তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন কি সেখানে আবার বোর্ড করে চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার?

সেখানে আসলে তিনি কোন চিকিৎসা পাননি।  

অডিও শুনুন 06:03

‘অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়া তো সরকারেরই দায়িত্বে, অন্য কারো তো দায়িত্বে নেই’

সরকারি দলের তরফে বলা হচ্ছে, বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার যে দাবি আপনারা করছেন, সেটা কি আসলে চিকিৎসার স্বার্থে নাকি রাজনৈতিক?

এই সমস্ত অমানবিক, অরাজনৈতিক এবং শিষ্টাচার বর্জিত কথাগুলোর উত্তর দিতেই আমাদের রুচি হয় না। একজন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য তার যে অবদান, দেশের জন্য তার যে অবদান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজনীতিতে তার যে অবদান, দেশের উন্নয়নে তার যে অবদান সেই নেত্রী সম্পর্কে এই ধরনের কথা বলা অমার্জিত অপরাধ বলে আমি মনে করি। 

সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার যে প্রক্রিয়া, সেখানে কি এই সুযোগ আছে? 

অবশ্যই। পেনাল কোডের ৪০১ ধারায় পরিষ্কার করে বলা আছে, সম্পূর্ণ নির্ভর করবে সরকারের উপর। এটা অন্য কারও উপর না, শুধু সরকারই পারে তাকে মুক্তি দিতে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে। সাজার মেয়াদও কমিয়ে আনতে পারে সরকার। 

আগে কী কোন রাজনীতিককে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে?

অনেক উদাহরণ আছে। আ স ম আব্দুর রব গেছেন, আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ নাসিম গেছেন। যেগুলো আমার এই মুহুর্তে মনে আছে, শুধু সেগুলো বলছি। এটা খুব একটা প্রতিবন্ধকতা নয়। তাছাড়া খালেদা জিয়ার মতো একজন রাজনীতিবিদের চিকিৎসার জন্য কোন উদাহরণের দরকার হয় না, সরকার চাইলেই পাঠাতে পারে।   

আরেকটা অভিযোগ করা হচ্ছে, দেশের চিকিৎসায় তার এত অনীহা কেন?

এগুলো বাজে কথা। এগুলো হচ্ছে তাদের আসল জায়গা থেকে সরে যাওয়া এবং প্রকৃত যে সমস্যা সেটাকে চিহ্নিত না করে কুতর্ক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের চিকিৎসকেরাই বলছেন, এখানে আর সম্ভব না। 
 
দেশীয় চিকিৎসার প্রতি আমাদের রাজনীতিবিদদের এক ধরনের অনীহা দেখা যায়, এটা কেন?

এই ইস্যুটাকে ভিন্নখাতে নিতে আওয়ামী লীগের মতো আপনারাও টার্ণ করতে চান। উনার বাইরের চিকিৎসার কথা বলছেন উনার চিকিৎসকেরা। বেগম খালেদা জিয়া একমাত্র রাজনীতিক তিনি মামলা চলাকালীন সময় দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে ফিরেই তিনি বেআইনি মামলা, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে যে মামলা সেই মামলা মোকাবেলা করে কারাগারে হেঁটে গেছেন। সুস্থ অবস্থায় গেছেন। আর যখন বেরিয়েছেন তখন অসুস্থ অবস্থায় বেরিয়েছেন। 

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে সরকারের কোন পদক্ষেপ আপনারা কী দেখছেন?

সরকারের কোন পদক্ষেপই আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাইনি। দেশের মানুষ দেখছে, যে প্রধানমন্ত্রী কী ভাষায় কথা বলছেন, আইনমন্ত্রী কী ভাষায় কথা বলছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলছেন, অন্য মন্ত্রীরা কী বলছেন- সবাই তো সেটা শুনছেন। 

উনাকে বিদেশে নিতে সর্বশেষ আপনারা কি প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন?

আমরা দল থেকে এখন পর্যন্ত কোন আবেদন করিনি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। এবারও যখন তিনি হাসপাতালে আসলেন তখন তার ছোট ভাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গেছেন। যেটা সাধারণ রুলস। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার সে আবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। এ পর্যন্তই। এরপর কী হয়েছে সেটা আর আমরা জানি না। চিঠির এখনও কোন উত্তর দেওয়া হয়নি। 

বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে উনাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি না দেওয়া হলে এবং কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সেই দায় সরকারকে নিতে হবে.. তাই কি? 

পুরোপুরি সরকারের উপর বর্তাবে। কারণ উনি এখন তো সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছেন। তারা তো শর্ত সাপেক্ষে সবকিছু করেছে। পুরো দায়টা সরকারের উপরই তো বর্তাবে। উনার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়া সব তো সরকারেরই দায়িত্বে, অন্য কারও তো দায়িত্বে নেই। 

এই মুহুর্তে সরকারের কাছে আপনার চাওয়া কী?

আমরা সব সময় বলে আসছি, তাকে মুক্তি দিতে হবে। আর একইসঙ্গে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক। 
 

সংশ্লিষ্ট বিষয়