খালেদা জিয়া যেন মফস্বলের নেতা: মওদুদ | বিশ্ব | DW | 14.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

খালেদা জিয়া যেন মফস্বলের নেতা: মওদুদ

বিএনপি চেয়ারপার্সনের জামিন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় এভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ৷ তার মতে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঠিক আচরণ করা হচ্ছে না৷

ডয়চে ভেলেকে দেয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হতাশার কথা জানান ব্যারিস্টার মওদুদ৷ তিনি অভিযোগ করেন, দেশে আইনের শাসন নেই৷ তাই যেই নেতার পাঁচটি আসনে নির্বাচন করে পাঁচটিতেই জয়ী হবার মতো জনপ্রিয়তা আছে, তাঁর সঙ্গে ঠিক করা হচ্ছে না৷

‘‘এটা সমাজের পরিপক্কতার উদাহরণ৷ যেন তিনি মফস্বলের নেতা৷ এক মামলায় জামিন হলো, তো অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দিলাম৷''

সরকার বিচার বিভাগকে ‘হতাশ' করছে বলেও মনে করেন তিনি৷

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বুধবার খালেদা জিয়ার জামিন রোববার পর্যন্ত স্থগিতের আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ৷ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে এই সময়ের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করতে বলা হয়েছে৷

অডিও শুনুন 01:41
এখন লাইভ
01:41 মিনিট

‘আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছি আমাদের কথা শুনে রায় দেননি, তাই’

এর আগে, হাইকোর্ট পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে অন্তরীন খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিন মঞ্জুর করেন৷ সেই জামিনের রায় স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আলাদা আলাদা আবেদন করে৷ দুপুরে তা চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে উঠলে তিনি তা নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান৷ সেই শুনানি করে বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ জামিন স্থগিতের এই আদেশ দেন৷

আপিল বিভাগে বিষয়টি উঠলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুক্তি দেন, যেহেতু হাইকোর্টের জামিনের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি তাঁরা পাননি, তাই আপিলের অনুমতির আবেদন করতে পারেননি৷ তাঁর কথা শুনেই আদালত জামিনের আদেশ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেন৷

এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বক্তব্য দিতে চাইলে আদালত তা রোববার শুনবেন বলে জানান৷ বিএপনিপন্থি আইনজীবীরা তখন ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘‘আমরা রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করিনি৷ আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছি আমাদের কথা শুনে তারপর রায় দেননি তাই৷ দু'টোর মধ্যে তফাত আছে৷''

ডয়চে ভেলে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে৷ তিনি বলেন, ;;তারা তখনই কথা বলবেন যখন মূল রায়টি পাবেন৷ তারাই তো ড্রাফট কপি নিয়ে আদালতে হাজির হয়েছেন৷'' অ্যাটর্নি জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, ‘‘একই বিষয়ে আদালত দুইবার শুনবেন কেন?''

‘‘আজকেও শুনবে, আবার রোববারও শুনবে? আদালত বললেন যে, মূল পিটিশনটাই শুনবেন৷'' বলছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল৷

অডিও শুনুন 01:17
এখন লাইভ
01:17 মিনিট

‘নেত্রীর কাছে গিয়ে তাঁরা বলতে পারতেন, অনেক কথা বলেছি, কিন্তু লাভ তো হতো না’

তিনি বলেন, ‘‘আজকে তো আদালতের সামনে কোনো রায় নেই৷ আজকে যদি তাদের কথা বলতে দিতেন, তাহলে তারা অনেক কথা বলতেন৷ নেত্রীর কাছে গিয়ে বলতে পারতেন, অনেক কথা বলেছি৷ কিন্তু লাভ তো হতো না৷''

এদিকে, রোববার জামিন হলেও খালেদা জিয়া মুক্তি না-ও পেতে পারেন৷ এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাননি৷ তবে সোমবার তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন যে, আপিল বিভাগ বেগম জিয়াকে জামিন দিলেও কুমিল্লার আদালত যেহেতু তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়েছে, তাই তাঁর এখনই মুক্তি মিলবে না৷

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘‘আমরা বলেই আসছি, দেশে আইনের শাসন নেই৷ পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে ভবিষ্যতে৷ ভালো কিছু হবে না৷''

রায়ের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে ৷ তাঁর মতে, এটি খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার নীলনকশার অংশ৷

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া৷ এই মামলায় তাঁকে পাঁচ বছরের ও তাঁর পুত্র তারেক রহমানকে দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন