‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে উচ্চ আদালত চাইলে সুয়োমোটো দিতে পারেন’ | আলাপ | DW | 26.11.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকার

‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে উচ্চ আদালত চাইলে সুয়োমোটো দিতে পারেন’

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়ে জল অনেকটা ঘোলা হয়েছে৷ সম্প্রতি বিএনপিপন্থি ১৫ জন আইনজীবী আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি তুলে ধরেছেন৷

ডয়চে ভেলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন সেই দলে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী৷

ডয়চে ভেলে : খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে আপনারা তো ১৫ জন আইনজীবী আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন, উনি কী আশ্বাস দিয়েছেন?

নিতাই রায় চৌধুরী : আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমরা বলেছি, খালেদা জিয়া যে গুরুতর অসুস্থ সে খবর নিশ্চয়ই সরকার রাখে৷ তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন৷ খুব দ্রুত, অর্থাৎ অনতিবিলম্বে মানে সেইদিনই যেন তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়৷ এখানে আইনগত কোনো বাধা হবে না৷ উনি যে আশ্বাসটা দিয়েছেন, সেটা ওনাকে একটু আলাপ আলোচনা করতে হবে৷ উনি বলেছেন, মতামতের জন্য আমার কাছে যে ফাইল আছে আপনারা আসবেন বলে সেই ফাইল আমি ছাড়িনি৷ দু-এক দিনের মধ্যে আমি ফাইলটা ছেড়ে দেব৷ উনি তো অবশ্যই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন৷

খালেদা জিয়াকে নিয়ে আইনমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তারপরে ওনার এই বক্তব্যে আপনারা কতটা আস্থাশীল?

আমি মনে করি, ওনার বক্তব্য রাজনৈতিক৷ আইনগতভাবে উনি যে পরামর্শ দেবেন সেটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হচ্ছে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়৷ যেখান থেকে ফাইল মুভ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবে৷ সেক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেবে৷ খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে কোনো বাধা নেই, এটার নজিরও আছে৷ সাজাপ্রাপ্ত অনেককেই বিদেশে পাঠানো হয়েছে৷ মোহাম্মদ নাসিম মারা গেছেন, তিনি যখন সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তখন তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল৷ আ স ম আব্দুর রবকেও পাঠানো হয়েছিল৷ পৃথিবীতে অনেক নজির আছে৷ সরকার পারে ৪০১ ধারায় তার সাজা স্থগিত রেখে মুক্তি দিতে৷ ওই ধারার মধ্যে বিদেশে পাঠানো যাবে না এমন কোন কথা নেই৷ সরকার শর্ত শিথিল করতে পারে, বাতিলও করতে পারে৷

অডিও শুনুন 08:40

‘মোহাম্মদ নাসিম যখন সাজাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তখন তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল’

সরকার যদি অনুমতিটা না দেয়, সে ক্ষেত্রে আপনাদের পদক্ষেপ কী হবে?

উনি তো সরকারের কাস্টডিতে আছেন৷ সরকার অনুমতি না দিলে আমরা রাজনৈতিকভাবে যা করার সেটা করবো৷ আমরা দাবি করে যাচ্ছি, দাবি করে যাবো৷ কিছু প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো অবলম্বন করবো৷ 

এই বিষয়টা নিয়ে কি আপনারা উচ্চ আদালতে যাবেন? আদালত তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর কোনো নির্দেশনা দিতে পারে?

আমরা তো হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেছি৷ কিন্তু আদালত জামিন দেননি৷ আদালত জামিন দেয়নি বলেই তো উনি জেলখানায় ছিলেন৷ তার অবস্থা ক্রিটিক্যাল দেখেই তো প্রিজন সেল থেকে তাকে বাসায় দেওয়া হলো৷ বলা যায়, উনি তো এখনও জেলখানায়ই আছেন৷ কারণ তিনি সেখানে কারও সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না, বাইরে যেতে পারবেন না৷ বাসায় চিকিৎসা নিতে হবে, বাইরে যেতে পারবেন না, এটা তো শর্তের মধ্যে ছিল৷ এই শর্ত শিথিল করার কারণেই তো তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো যাচ্ছে৷ এই শর্ত শিথিল করেই তো তাকে বিদেশে পাঠাতে পারে৷

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বয়স্ক নাগরিক, এই কারণে আদালত কি তাকে বিদেশে পাঠানোর নির্দেশনা দিতে পারেন?

সুয়োমোটো দিয়ে তো অনেক কাজই করে আদালত৷ আদালত তো পরিস্থিতি সব সময় পর্যবেক্ষণ করে৷ সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্ট এগুলো তো সাংবিধানিক কোর্ট৷ দেশের অনেক ঘটনা নিয়ে কোর্ট অনেক সময় সুয়োমোটো রুল দেয়৷ জেলখানা থেকে আসামিকে বের করে নিয়ে আসে, খালাসের নির্দেশনাও দেয়৷ কেউ হয়ত বিনা বিচারে জেলে আছেন বা মরনাপন্ন কাউকে বের করে আনেন৷ এটা তো আদালত পারেন৷ এই বিষয়টা তো আদালতের নলেজে আছে৷ আদালত তো সমস্ত কিছু পর্যবেক্ষণ করে৷

তাহলে আপনারা আদালতে যাচ্ছেন না কেন?

উনি তো এখন সরকারের আদেশে বাসায় আছেন৷ উনি সরকারের কাস্টডিতে আছেন৷ আদালত সুয়োমোটো দিতে পারেন৷

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে একেক জন একেক রকম তথ্য দিচ্ছেন, এরমধ্যে গুজবও ছড়িয়ে পড়লো, আসল তথ্য কিভাবে জানা যেতে পারে?

তাকে নিয়ে তো দৈনিক বুলেটিন বের করা উচিত ছিল, যেটা ভারতে হয়৷ একজন সেলিব্রেটি বা একজন রাজনৈতিক নেতা, যেমন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা জ্যোতি বসু যখন হাসপাতালে ছিলেন, তখন প্রত্যেকদিন সন্ধ্যায় হাসপাতালে বুলেটিন দেয়া হতো তাদের সর্বশেষ অবস্থা জানানোর জন্য৷ এটা এমনই দুর্ভাগা দেশ, এমনই দুঃখজনক ঘটনা, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, তিনি কারো দয়ায় প্রধানমন্ত্রী হননি৷ জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বৃদ্ধ মানুষ, মরনাপন্ন অবস্থা অথচ তার চিকিৎসার সঠিক খবরটা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না৷ সবকিছু লুকিয়ে রাখা হচ্ছে৷

খালেদা জিয়াকে নিয়ে তো ব্রিফ করছেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসকরা৷ কিন্তু উনি যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, সেই এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তো কিছু বলেনি৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্রিফকরলে সেটা আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হতো না?

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তো বলতে পারে না৷ যে মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসা করছে তারা বলতে পারে৷ যারা ব্রিফ করছেন, তারা বিএনপির চিকিৎসক না, তারাও মেডিকেল বোর্ডের সদস্য৷ তারা তো সত্য ঘটনা বলছেন৷ যেমন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তিনি নিজে ফাইলটা দেখেছেন৷ তিনি নামকরা একজন সার্জন৷ তিনি তো বলেছেন৷ এখন সাংবাদিকরা যদি পক্ষ নিয়ে বসে থাকে তাহলে দেশের মানুষ জানবে কীভাবে?

অনেকেই বলছেন, সংকটাপন্ন খালেদা জিয়াকে নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দুই পক্ষই রাজনীতি করছে, আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

বিএনপি কোনো রাজনীতি করছে না৷ বিএনপি মানবিক ব্যাপারটা তুলে ধরছে৷ দেশের কোটি কোটি মানুষ উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত৷ তারা বেগম জিয়ার অবস্থাটা জানতে চায়৷ কিন্তু সরকার সেটা করতে দিচ্ছে না৷ কারণ, এখন তিনি তো সরকারের কাস্টডিতে আছেন৷ এটা তো সরকারকেই জানাতে হবে৷ আমরা তো দাবি করেই যাচ্ছি যে আপনারা বলেন খালেদা জিয়ার অবস্থা৷ সরকারই তো সেই ব্যবস্থা করবে৷ তথ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এতকিছু বলছেন, কিন্তু তারা বেগম খালেদা জিয়া কোন অবস্থায় আছেন সেটা কেন বলছেন না? বললে দোষটা কোথায়? তাকে বিদেশে পাঠানোতে কোনো বাধা নেই৷ শুধু সরকারের সদিচ্ছার অভাব৷ 

বিএনপির তরফ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারকে নিতে হবে৷ আবার সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, তাকে স্বাধীনভাবে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে৷ আসলে এই দায়-দায়িত্বের রাজনীতি থেকে কীভাবে বের হওয়া সম্ভব?

দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে- এই কথা আমরা এজন্য বলছি যে, উনি তো এখন সরকারের কাস্টডিতে আছেন৷ ফলে দায় তো সরকারেরই৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়