খালেদা কি কখনো দেশে ফিরতে পারবেন? | বিশ্ব | DW | 02.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

রোহিঙ্গা সংকট

খালেদা কি কখনো দেশে ফিরতে পারবেন?

‘‘সেনাবাহিনী আমাদের ধর্ষণ করেছে, আমার বাচ্চাকে নিয়ে গিয়ে জবাই করেছে, বাবা-মাকে গুলি করে মেরেছে,'' সাহস করে এক নিঃশ্বাসে বলেছেন খালেদা৷ জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এই রোহিঙ্গা শরণার্থী৷ 

কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে কোথাও দাঁড়ালেই জটলা সৃষ্টি হয়৷ সাংবাদিকদের ক্যামেরা, ট্রাইপড দেখলেই সেখানকার বাসিন্দারা আন্দাজ করে নেন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে৷

এই জটলার বড় অসুবিধা হচ্ছে ছবি বা ভিডিও ঠিকভাবে করা যায় না৷ আবার কাউকে সরে যেতে বললে তিনি মোলায়েম হাসি দিয়ে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন৷

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনুভূতি বোঝাও মাঝে মাঝে একটু কষ্টকর৷ এক শরণার্থীকে যখন জিজ্ঞাসা করলাম আপনার বাবামা কোথায়, তিনি হাসতে হাসতে জানালেন তাদের মেরে ফেলেছে মগরা (উগ্রপন্থি বৌদ্ধ)৷

সেই শরণার্থীর হাসি নিয়ে ভেবেছি অনেকক্ষণ৷ সম্ভবত ক্যামেরার সামনে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ হাসি চলে এসেছিল তাঁর, কিংবা এখন আর ভালোমন্দের অনুভূতি কাজ করছে না চরম আতঙ্ক পেরিয়ে আসা মানুষটির৷

খালেদার সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা ভিন্ন৷ কুতুপালং ক্যাম্পে হঠাৎ করে দেখা হয়ে যায় তাঁর সঙ্গে৷ নাম জিজ্ঞাসা করতেই কেঁদে ফেলেন তিনি৷ তারপর একটু সময় নিয়ে বলে যান তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো৷ অল্পসময়ের ব্যবধানে নিজের সম্ভ্রম, সন্তান এবং বাবামাকে খুইয়েছেন তিনি৷ দশদিন ধরে পালিয়ে পালিয়ে কোনক্রমে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন এই নারী৷

খালেদার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন ডয়চে ভেলের আরাফাতুল ইসলাম

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন ডয়চে ভেলের আরাফাতুল ইসলাম

খালেদা আর ফিরে যেতে চাননা সেই নরকে৷ চোখের সামনে মৃত্যু দেখে আসা এই নারী এখন থাকেন আরো আটজন মানুষের সঙ্গে ছোট এক তাবুতে৷ খাবার মেলেনা নিয়মিত৷ তবুও আর ফিরবেন না তিনি৷

কুতুপালং ক্যাম্পে খালেদার মতো নির্যাতনের শিকার মানুষ আরো আছেন৷ তবে ধর্ষিত হওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চান না অনেকেই৷ কিন্তু খালেদা করেছেন, তিনি তাঁর বাবামায়ের হত্যাকারীর, তাঁর সন্তানকে জবাইকারীর, তাঁর ইজ্জত লুটেরাদের বিচার চান মানুষের কাছে, সাংবাদিকদের কাছে৷

তবে বাস্তবতা যে বড় নির্মম৷ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাওয়া, পরা আর চিকিৎসার জোগান দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যতটা তৎপর, যাদের কারণে তাদের এই দশা, সেই মিয়ানমার সরকার আর সেনাবাহিনী সম্পর্কে ততটাই নিরব৷

কুতুপালং ক্যাম্পে তখন সন্ধ্যা নেমে গেছে৷ সাংবাদিক, বিদেশিদের রাতের বেলা ক্যাম্পে থাকা বারন৷ তাই ফিরে আসার যখন প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন দেখা হলো মোহাম্মদ ইলিয়াসের সঙ্গে৷ সাতবছর আগে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি৷ ইতোমধ্যে ভাষাও কিছুটা রপ্ত করে ফেলেছেন৷ কিন্তু সারাদিন করার মতো কোনো কাজ নেই তাঁর৷ বিদেশি সংস্থার দেয়া ত্রাণে পেট চলে যায় ঠিকই তবে নগদ টাকা মেলে না৷ আগে শিবিরের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারতেন, এখন তাও পারেন না কেননা নিরাপত্তা বেড়ে গেছে৷ ইলিয়াস জানালেন, দেশে ফিরে যেতে চান, তবে নিজের দেশে গিয়ে শরণার্থী হিসেবে থাকতে নয়৷ শুধুমাত্র তখনই যাবেন যখন মিয়ানমার সরকার তাদের রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে নাগরিকত্ব দেবে৷

ইলিয়াসের কথায় গলা মিলিয়েছেন আরো কয়েকজন শরণার্থী৷ তাদেরও দাবি, নাগরিকত্ব ছাড়া মিয়ানমারে ফিরবেন না তারা৷ বাংলাদেশে হয়ত লেখাপাড়া বা কাজের সুযোগ নেই, থাকতে হয় মানবেতর পরিবেশে, নোংরা নালার পাশে৷ কিন্তু জীবন তো নিরাপদ৷ নিজের দেশে যে সবচেয়ে অনিরাপদ তারা!

আপনার কোনো মতামত থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়