খালেদার ৫ বছরের জেল, সঙ্গে অর্থদণ্ড | বিশ্ব | DW | 08.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

খালেদার ৫ বছরের জেল, সঙ্গে অর্থদণ্ড

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত৷ হয়েছে অর্থদণ্ডও৷ এছাড়া তারেক রহমানসহ অন্য আসামীদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে৷ আজ আদালত এ মামলার রায় দেন৷

রায় অনুয়ায়ী খালেদা জিয়াকে জেলে নিতেই হবে, বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল৷ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রাখা হবে৷

জানান, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায়, তাঁকে সবচেয়ে কাছাকাছি এ কারাগারে রাখা হবে৷ 

এদিকে, দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার ভবনে৷

বিএনপির আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য ফরমায়েশি রায় হয়েছে৷ আমরা উচ্চ আদালতে যাব ইনশাল্লাহ৷ আশা করি, সেখানে বিচার পাবো৷”

এদিকে, খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের সাজার রায়ে সন্তষ্ট নয় রাষ্ট্রপক্ষ৷ এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি যতদূর জানি উকিল হিসেবে, আজকেই উনার কারাগারে যেতে হবে৷ রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার পরে তারা আপিল করতে পারে এবং সেখানে আপিল করার সাথে সাথে তারা বেইল পিটিশনও দিতে পারে৷”

রায় ৬৩২ পৃষ্ঠার হওয়ায় রোববারের আগে রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই বলে জানান আইনমন্ত্রী৷

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপার্সনের আইনজীবীরা জানান যে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে৷  

দুদকের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন চেয়েছিলেন তারা৷ কিন্তু আদালত বেগম জিয়ার বয়স, সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা বিবেচনায় মামলার মূল আসামী সত্ত্বেও তাঁকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন৷ 

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে রায় শুনতে বকশিবাজারে আদালতে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া৷ তিনি এ মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন৷

পুরান বকশিবাজারে জনাকীর্ণ আদালতে খালেদার উপস্থিতিতে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন৷

এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে বের হন খালেদা জিয়া৷

সে সময় বকশিবাজার মোড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন৷

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই ঢাকার রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক):

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে পরস্পর যোগসাজশে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ৷

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২ দশমিক ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার আসে যা বাংলাদেশি টাকায় তৎকালীন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা৷

তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন৷ অথচ কোনো নীতিমালা তিনি তৈরি করেননি, করেননি কোনো জবাবদিহিতার ব্যবস্থাও৷

অথচ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অস্তিত্ববিহীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান৷ পরে ওই টাকা আত্মসাত করেন যার জন্য তিনি দায়ী৷

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থেকে নিজের পদমর্যাদা বলে সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারার অপরাধ করেছেন৷

মামলায় ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ৷ ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত৷

মামলায় খালেদা জিয়া ও তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান৷

৩২ জনের সাক্ষ্য এবং উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছেন ঢাকার বকশি বজারে বিশেষ আদালতের  বিচারক ড. আখতারুজ্জামান৷ 

নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন খালেদা?

বাংলাদেশের সংবিধনের ৬৬ (১) অনুচ্ছেদে সংসদ নির্বাচনে অযোগ্যতার ব্যাপারে বলা হয়েছে, ‘‘তিনি যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাক৷’’

তবে বিচারিক আদালতের রায় যদি আপিল আদালত স্থগিত করে আপিলের জন্য গ্রহণ করে তাহলে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য এই অনুচ্ছেদ বাধা নয়৷  তাই খালেদা জিয়ার যদি শাস্তি হয়ও, তারপরও আপিলের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন সচল রাখায় আশাবাদী বিএনপি নেতারা৷ 

জেডএ/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন