‘খালেদার সাজা ‘জটিলতা’ তৈরি করেছে’ | বিশ্ব | DW | 15.02.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘খালেদার সাজা ‘জটিলতা’ তৈরি করেছে’

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের প্রধান জ্যঁ ল্যামবার্ট মনে করেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাজার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘জটিলতা’ তৈরি হয়েছে৷ ইইউ বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় বলে জানান তিনি৷

বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যামবার্ট বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজা হওয়াটা তাঁর দলের জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ হয়ে দাঁড়ালেও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির জন্য আগামী নির্বাচনে মনোযোগী হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ৷ এই পরিস্থিতিতে বিএনপির জন্য নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালানোও চ্যালেঞ্জের বলে মনে করেন ল্যামবার্ট৷ তবে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁর সাজা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি৷

মূলত রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে চার দিনের সফরে ল্যামবার্টের নেতৃত্বে বাংলাদেশে এসেছিল ১১ সদস্যের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল৷ বুধবার শেষ দিনে প্রতিনিধি দলটি নির্বাচন কমিশন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করে৷

আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ‘কম শত্রুতা ও কম সংঘাতপূর্ণ’ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই সদস্যরা৷ ২০১৯ সালে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা৷

ল্যামবার্ট জানান, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় তাঁরা এমন ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায়৷ তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জনগণ যাতে নিজেদের পছন্দ মতো ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সব দল নির্বাচনে আসবে বলে আমরা আশাবাদী৷ জনগণের জন্য এটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ৷’’

এক লিখিত বিবৃতিতে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ‘অবনতি’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এই প্রতিনিধিরা৷ সভা-সমাবেশ ও বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং নারীর প্রতি সহিংসতার খবর নজরে আসার কথা জানিয়েছেন তাঁরা৷ এছাড়া মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার, ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং তৃতীয় লিঙ্গ ও সমকামীদের ওপর সহিংসতা বন্ধের কথা বলেছেন তাঁরা৷

গতরাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে গিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা৷

বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, দেশনেত্রীর মামলার রায় এবং বর্তমানে গণতন্ত্রের যে অবস্থা সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ দেশনেত্রীর রায়ের বিষয়টি আমরা তাদেরকে অবহিত করেছি৷’’

এদিকে খালেদা জিয়ার সাজার রায়ের সত্যায়িত কপি না পাওয়া যাওয়ায় এখনও আদালতে তাঁর জামিন আবেদন হয়নি৷ বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে দুই দফা টানা কর্মসূচি শেষে দুই দিন বিরতি দিয়ে বিক্ষোভসহ তিন দিনের নতুন কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি৷ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন৷

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শনিবার দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর অভিযান, রোববার সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া ও মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর ছাড়া জেলা-মহানগরগুলোতে বিক্ষোভ-সমাবেশ৷ ২২ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব৷

এপিবি/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন