খালেদার কারাবাস বিএনপির জন্য শাপে বর? | বিশ্ব | DW | 11.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

খালেদার কারাবাস বিএনপির জন্য শাপে বর?

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দৃষ্টি কেড়েছে৷ কিন্তু সরকার সেই আন্দোলনেও বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ৷ তাহলে বিএনপির আন্দোলন কতদিন শান্তিপূর্ণ থাকবে? আর সরকারও বা কতদিন এভাবে চলতে দেবে?

বিশ্লেষকরা কেউ কেউ এই অবস্থাকে বিএনপি'র জন্য শাপে বর অবস্থা হিসেবে দেখছেন৷ আর সরকার দলের জন্য দেখছেন উভয় সংকট হিসেবে৷ আবার কেউ কেউ মনে করছেন এটার লাভ লোকসানের হিসাব হবে আগামী নির্বাচনে৷ যা কিছু এখন রাজনীতিতে হচ্ছে তার লক্ষ্য নির্বাচন৷ দেখার বিষয় সেই নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি ধৈর্য্য ধরতে পারে কিনা৷ আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আরো কতদূর বিএনপিকে কোনঠাসা করতে পারে৷

জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদন্ড মাথায় নিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে যান গত ৮ ফেব্রুয়ারি৷ তিনি একমাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে৷ মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে আপিল করা হলেও এখনো জামিন মেলেনি৷

রবিবার হাইকোর্টে জামিনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও মামলার নথি যথাসময়ে না আসায় আদেশ হয়নি৷ সোমবার আদেশ দেয়া হতে পারে৷ রবিবার বিকালে অবশ্য মামলার নথি হাইকোর্টে যায়৷ আর আপীলের কারণে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা স্থগিত আছে৷

খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরদিনই থেকেই বিএনপি প্রতিদিনই ঢাকাসহ সারাদেশে নানা ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি দিচ্ছে৷ এর মধ্যে অনশন, অবস্থান এবং মিছিল সমাবেশ অন্যতম৷ আর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সমানের এলকাকেই তারা কর্মসূচি পালনের মোক্ষম জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে৷

অডিও শুনুন 03:43
এখন লাইভ
03:43 মিনিট

‘সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পছন্দ করেন’

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও তারা কিছু কর্মসূচি পালন করে৷ কিন্তু প্রতিটি কর্মসূচিই কোনো না কোনো ভাবে বাধার মুখে পরছে৷ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে আটক করা হচ্ছে বিএনপি'র নেতা-কর্মীদের৷ আর ২২ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েও পায়নি বিএনপি৷

মঙ্গলবার কর্মসূচি চলাকালে প্রেসক্লাবে ঢুকে অস্ত্র উঁচিয়ে বিএনপি'র স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবুকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ৷ পরদিন বৃহস্পতিবার ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমানকে রীতিমত টেনে হেঁচড়ে পুলিশ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে আটক করে নিয়ে যায়৷ বিএনপি'র মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরও টানা হেঁচড়ার শিকার হন৷ বিএনপি ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের অনশন কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেয় পুলিশের অনুরোধে৷

পুলিশ দাবি করছে , বিএনপি সড়ক দখল করে জনসাধারণের চলাচলে বাধা দিয়ে কর্মসূচি পালন করায় তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে৷ জবাবে বিএনপি বলছে, তারা রাস্তার পাশে কর্মসূচি পালন করছে, রাস্তা বন্ধ করে নয়৷ অভিযোগ করছে, সরকার তাদের কেনো সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে না৷ রাস্তার পাশেও দাঁড়াতে দিতে চায় না৷ 

দেশের বড় দুই দলের এই রাজনৈতিক আচরণের ব্যাখ্যা কী? আর পরিণতিই বা কী? জবাব দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি যে আন্দোলন নিয়ে মঠে নেমেছে তাতে তারা দুই দিক থেকে লাভবান হচ্ছে বলে আমি মনে করি৷ প্রথমত, খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়াকে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ৷ এখানে একটা সহানুভূতি পাচ্ছে বিএনপি৷ আর সাধারণ মানুষ সহিংস নয়,শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পছন্দ করেন৷ বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে৷ এটা করতে দিলেও সরকারের সমস্যা ৷ কারণ নির্বাচনের আগে বিএনপি এই ইস্যুতে মাঠে তাদের কর্মীদের চাঙ্গা রাখছে, সংগঠিত করছে৷ আবার সরকার বাধা দিলেও বিএনপি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাবে৷ এরই মধ্যে বিষয়টি আলোচিতও হচ্ছে যে বিএনপি'র সভা-সমাবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে, কিন্তু শাসক দল এবং তাদের জোটের শরীকরা নির্বিঘ্নে সভা-সামবেশ করছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় সরকার উভয় সংকটে পড়েছে৷ আর বিএনপি'র জন্য হয়েছে শাপে বর৷''

অডিও শুনুন 02:44
এখন লাইভ
02:44 মিনিট

‘সব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে আগামী নির্বাচনে’

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘আমি মনে করি নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে বিএনপির এই আন্দোলনের গতি আরো বাড়াবে৷ নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে৷ অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হতাশ হতে পারেন৷ কারণ যে উদ্দেশ্যে কিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে তার ফল তারা নাও দেখতে পারেন৷ আর বিএনপির আন্দোলন কতদিন শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং সরকার কতদিন এই আন্দোলন চলতে দেবে তা সময়ই বলে দেবে৷''

রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ‘‘বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়েছে৷ তাই তারা এবার সতর্ক আছেন যেন তাদের আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা না যায়৷ সরকার যাতে এই অজুহাত তুলে দমন-পীড়ন চালাতে না পারে৷ মনে রাখতে হবে, সব প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে আগামী নির্বাচনে৷ এটা নির্বাচনের বছর৷ বিএনপি চাইছে না সরকার যাতে ধরপাকড় তীব্র করার সুযোগ পায়৷ আর খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হলে সরকার লাভবান হবে কিনা তা নির্ভর করছে জনগণ এটাকে কিভাবে নেয়৷ তারা যদি মনে করে সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করছে তাহলে নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘সরকার হয়ত বিএনপিকে আরো কোনঠাসা করতে চাইবে৷ কিন্তু সেই কোণঠাসার জবাবে বিএনপি যদি পালটা কোনো ব্যবস্থা না নেয় তাহলেও সেই কোণঠাসারও তো একটা লিমিট হারিয়ে ফেলবে, ইমপ্যাক্ট হারিয়ে ফেলবে৷ বিএনপি যদি রিএ্যাক্ট করে তাহলে সরকারের ইমপ্যাক্ট বাড়বে৷ কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে কিছু বলতে থাকে আর ওই ব্যক্তি তার কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখায় তাহলে ওই ব্যক্তির ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা বলা মুশকিল৷ আমরা মনে হয় বিএনপি এখন রিএ্যাক্ট না করে শাস্তিপূর্ণ কর্মসূচিই চালাবে৷ কারণ নির্বাচনের আরো বাকি আছে৷ সরকারে হাতে ক্ষমতা আছে৷ তাই নতুন কোনো পরিস্থিতি এড়াতে চায় তারা৷ কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে কী হবে তা এখন বলা যায় না৷''

বিশ্লেষকদের সঙ্গে আপনি কি একমত? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন