খাবার নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে এক প্রদর্শনী | অন্বেষণ | DW | 18.07.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

খাবার নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে এক প্রদর্শনী

দিনে দিনে খাদ্যের বৈচিত্র্য বেড়েই চলেছে৷ বদলাচ্ছে আমাদের খাদ্যাভ্যাসও৷ কিন্তু এই বিবর্তন সম্পর্কে মানুষ কতটা সচেতন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে৷ এক অভিনব প্রদর্শনীতে মানুষের লাগামহীন খাদ্যাভ্যাসের নানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে৷

কথায় বলে ‘তোমার খাদ্যই তোমার পরিচয়'৷ খাবার এখন আর শুধু ক্ষুধা মেটানোর উপকরণ নেই৷ খাদ্যের স্বাদ ও তা উপভোগ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে৷ কী খাওয়া উচিত বা অনুচিত, সেটিও চর্চার বিষয়৷ আমরা কী খাই, কীভাবে খাই, সমাজে আমাদের অবস্থানও তার উপর অনেকটা নির্ভর করে৷ খাদ্যগ্রহণকে ঘিরে নানা রকম বিধিনিয়ম, শিষ্টাচার, নীতিমালা তৈরি হয়েছে৷ সবকিছু বুঝে উঠতে সম্ভবত ৭ বার জন্ম নিতে হবে৷

‘ফুড – বিগার দ্যান দ্য প্লেট' নামের প্রদর্শনীতে হানি ও বানি নামের ভিয়েনার দুই শিল্পী খাবার টেবিলের আদবকায়দা তুলে ধরেছেন৷ ব্রিটেনের কমেডি গোষ্ঠী মন্টি পাইথনের অনুকরণে তৈরি তাঁদের ভিডিওতে ইউরোপীয় ইউনিয়নে কাঁটাচামচের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে৷ শিল্পী হিসেবে মার্টিন হাবলেস্ট্রাইটার (বানি) বলেন, ‘‘আমরা ৫০ কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক সত্তা৷ সবাই ইংল্যান্ডের রানির মতো খাবার চেষ্টা করেন৷ এ এক সম্পূর্ণ অর্থহীন প্রচেষ্টা৷ সাংস্কৃতিক নিয়মনীতি আমাদের জীবনে বিশাল প্রভাব রাখে৷’’ হানি নামে পরিচিত শিল্পী সনিয়া স্টুমারার মনে করেন, ‘‘এটাই আমাদের সৃষ্টিকর্মের বার্তা৷ সংস্কৃতির আপেক্ষিকতা একটু মেনে নিয়ে দেখুন, সবকিছু একদম অন্যরকম হতে পারে৷’’

ভিডিও দেখুন 04:14

খাবার নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে এক প্রদর্শনী

লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে এই প্রদর্শনী দর্শকদের খাদ্য সম্পর্কে একেবারে নতুন ধরনের ভাবনাচিন্তা করতে কার্যত বাধ্য করে৷ আত্মবিধ্বংসী ভোগের প্রবণতা, লাগামহীন মাংসের লোভ, শোষণমূলক বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া – এমন সব বিষয় দর্শকদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে৷ মিউজিয়ামের কিউরেটর ক্যাথরিন ফ্লাড বলেন, ‘‘খাদ্য মোটেই ঐতিহ্যগত শিল্পের এমন কোনো উপকরণ নয়, যা চিরকালের জন্য গ্যালারিতে সংরক্ষণ করা হয়৷ খাদ্যকে কোনো একটি ছাঁচে ফেলা যায় না৷ খাদ্য আসলে বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, মনস্তত্ত্বের বিষয়৷’’

কিছু বস্তু সত্যি বেশ বিস্ময়কর হয়ে উঠেছে৷ যেমন এই গরুগুলির মুখের বৈচিত্র্যময় অভিব্যক্তি দেখলে স্টেকপ্রেমি মানুষের বিবেকদংশন হতে বাধ্য৷

মুরগিদের ক্ষেত্রে আরও ভালোভাবে নজর দিতে হয়৷ তাদের শরীরের অবশিষ্ট অংশের মাধ্যমে প্রমাণ করার চেষ্টা হচ্ছে, যে অরগ্যানিক পদ্ধতিতে পালিত মুরগির হাড়ের গুঁড়া থেকে আরও ভালো সেরামিক উপাদান পাওয়া যায়৷

‘আরও কম মাংস খাও’৷ এই বুলিকে হাতিয়ার করে নেদারল্যান্ডসের শিল্পী কারোলিন নিবলিং অসাধারণ সৃজনশীলতার সঙ্গে মাংসপ্রিয় মানুষকে প্রলোভন দেখান৷ কারোলিন বলেন, ‘‘নানা ধরনের শাকসবজি যোগ করে এভাবে মাংসের অংশ কমানো যায়৷ তা সত্ত্বেও মানুষ সামান্য মাংস খাবার আনন্দ নেন৷ বিকল্প হিসেবে মেটে ও বেরি ফল দিয়ে সসেজ তৈরি করতে পারেন৷ ফলে মাংসের অংশ ২৫ শতাংশ কমে যায়৷ আমরা এই হার আরও দ্রুত কমাতে পারলে তার বড় প্রভাব দেখা যাবে৷ মাংসের নকল বা ল্যাবে মাংস তৈরি করার তুলনায় তা আরও কার্যকর হবে৷’’

এই মাশরুম বা ছত্রাক কিন্তু সম্পূর্ণ নিরামিষ৷ মিউজিয়ামের নিজস্ব রেস্তোরাঁয় তৈরি কফির অবশিষ্ট গুঁড়ার উপর সেগুলি গজিয়েছে৷ দর্শকরা এমন ছত্রাক চাষের প্রক্রিয়ার প্রণালী সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন৷

ফুড ল্যাবে ছোট আকারের যে সব খাবার পরিবেশন করা হয়, তা খেয়ে পেট না ভরলেও নতুন কিছু আইডিয়া পাওয়া যেতে পারে৷ যে কেউ নিজের পছন্দমতো অথবা পরিবেশসম্মত শর্ত অনুযায়ী উপকরণ বেছে নিতে পারেন৷ পাচকরা সেই আবদার অনুযায়ী খাদ্য তৈরি করে দেন৷

ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের কিউরেটাররা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ভাবনাচিন্তা করার ও খাদ্য চক্র বোঝার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন৷ আমরা যাই খাই না কেন, তা শেষ পর্যন্ত এখানে গিয়ে পড়ে৷ এই প্রদর্শনী ক্ষুধার তুলনায় খাবার নিয়ে ভাবনাচিন্তার স্পৃহা অনেক বাড়িয়ে তোলে৷

অলিভার গ্লাসেনাপ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন