খাদ্য সংকট থেকে মুক্তি মিলবে? | বিজ্ঞান পরিবেশ | DW | 06.09.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

খাদ্য সংকট থেকে মুক্তি মিলবে?

বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট নতুন কোন খবর নয়৷ দিন দিন এই সংকট আরও গভীর হচ্ছে৷ কারণ প্রতিদিনই মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু বাড়ছে না জমির পরিমাণ৷

default

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সব মানুষের চাহিদা মেটাতে আগামী চল্লিশ বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে শতকরা প্রায় ৫০ শতাংশ৷ তাই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে এমন ফসল উৎপাদন করা যেটা কম জমিতে বেশি করে ফলানো যাবে৷

গমের জিন নকশা উন্মোচন

অনেকদিন থেকেই বিজ্ঞানীরা বলছিলেন, একবিংশ শতাব্দী হবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারদের৷ এখন মনে হচ্ছে, ভুল বলেননি তাঁরা৷ গত সপ্তাহেই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়াররা, মানে জিন বিজ্ঞানীরা তিন তিনটি আনন্দের খবর দিয়েছেন৷ এর মধ্যে একটিতো শুধু আনন্দেরই নয়, বরং বলতে হবে স্বস্তির৷ কারণ এর ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম খাদ্য সংকটের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারে৷ খবরটা হলো - একদল ব্রিটিশ বিজ্ঞানী গমের জিনোম সিকোয়েন্স বা জিন নকশা, বা আরও সহজ করে বললে গমের জীবনরহস্য উন্মোচন

Verbraucherministerin Renate Künast

অ্যামেরিকার এই হলুদ আপেল ইউরোপের মানুষেরও প্রিয়

করেছেন৷ এর ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি করে গম উৎপাদন করা যাবে৷ শুধু তাই নয়, খরার সময়ও টিকে থাকতে পারবে এবং রোগশোকে সহজে নুয়ে পড়বে না – এমন গম উৎপাদন করাও সম্ভব হবে৷ আর গুণগত মানের দিক থেকেও আরও ভাল হবে এই গম৷ আরেকটা সুবিধা আছে, উৎপাদন করতে সময় কম লাগবে৷

পৃথিবীর মানুষের প্রধান খাদ্য হিসেবে ধরা হয় তিনটি খাবারকে৷ এর মধ্য একটি হলো গম৷ কারণ সারা বিশ্বের প্রতি তিনজন মানুষের একজনের প্রধান খাবারই হলো গম বা গম থেকে তৈরি হওয়া খাবার৷ আর গম ছাড়া বাকী দুটি প্রধান খাদ্য হলো ধান আর ভুট্টা৷ এই দুটির জিন নকশা অনেক আগেই বের করা হয়েছে৷ তবে গমের ক্ষেত্রে অনেক বিজ্ঞানীই বলছিলেন সেটা প্রায় অসম্ভব৷ কারণ এর নকশা খুবই জটিল৷ কিন্তু তারপরও শেষ পর্যন্ত দুই বছর চেষ্টা করে সফল হয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷ তবে এর কৃতিত্ব পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি, যার নাম ‘৪৫৪ লাইফ সায়েন্সেস'৷ কারণ এই কোম্পানির তৈরি করা উন্নত সিকোয়েন্স প্রযুক্তির ফলেই সম্ভব হয়েছে গমের জটিল নকশা উন্মোচন – যেটার দৈর্ঘ্য মানুষের নকশার চেয়ে পাঁচগুন বড়৷

সম্প্রতি গমের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল৷ কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ৷ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি রাশিয়া৷ সেখানে গত বেশ কিছুদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল৷ তাই ব্যাহত হয়েছিল ফসল উৎপাদন৷ তাই রাশিয়া গম রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল৷ ফলে বিশ্বব্যাপী বেড়ে গিয়েছিল এর দাম৷ তবে শুধু রাশিয়া নয়, বন্যার কবলে পড়ে রয়েছে পাকিস্তান, যা এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ৷ বন্যায় তাদেরও ফসল নষ্ট হয়ে গেছে৷ এছাড়া চীনে হয়েছে ভূমিধ্বস আর কানাডায় খারাপ আবহাওয়া৷ সব মিলিয়ে এবার গম উৎপাদন পরিস্থিতি খুব খারাপ৷ তাই রোগ প্রতিরোধে সক্ষম আরও শক্তিশালী গমের জাত উৎপাদন – বিষয়টা আমাদের জন্য স্বস্তির বৈকি!

আপেলের জিন নকশা উন্মোচন

আপেল - সুস্বাদু এই খাবারকে আরও সুস্বাদু করার প্রক্রিয়া বের করে ফেলেছেন জিন বিজ্ঞানীরা৷ তাঁরা উন্মোচন করেছেন ‘হলুদ' আপেলের জিন৷ অ্যামেরিকার এই আপেল ইউরোপের মানুষেরও প্রিয়৷ সাধারণত সালাদ, সস বা বাটার বানিয়ে খাওয়া হয় এই আপেল৷ পাঁচ দেশের তেরটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা মিলে উন্মোচন করেছেন এই আপেলের জিন নকশা৷ বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত যত উদ্ভিদের নকশা উন্মোচন করা হয়েছে, তার মধ্যে এই আপেলের নকশাটাই সবচেয়ে জটিল৷ এর ফলে এখন আরও মিষ্টি স্বাদের আপেল উৎপাদন করা যাবে বলে বলছেন বিজ্ঞানীরা৷ তাঁরা বলছেন, হলুদ আপেলের নকশা বের করার পর এখন লাল আপেলের নকশা বের করা সহজ হবে৷

এদিকে এই নকশা উন্মোচন করে বিজ্ঞানীরা আপেলের পূর্বপুরুষ সম্পর্কেও একটা ধারণা পেয়েছেন৷ তাঁরা বলছেন, আজ থেকে প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে নাকি আপেলের পূর্বপুরুষদের জন্ম হয়েছিল! মজার ব্যাপার হলো, ঐসময় ডাইনোসররাও পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিল৷

পিঁপড়ার জিন

মার্কিন বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাঁরা প্রথমবারের মত দুই জাতের পিঁপড়ার জিন নকশা আবিষ্কার করতে সমর্থ হয়েছেন৷ এর মধ্যে একটি হলো ভারতের ‘জাম্পিং পিঁপড়া'৷ যার গায়ের রং লাল৷ আর অন্যটি অ্যামেরিকার ‘কার্পেন্টার পিঁপড়া'৷ যার রং কালো৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পিঁপড়ারাও মানুষের মত সামাজিক জীব৷ অর্থাৎ মানুষের মতই মিলে মিশে দল বেঁধে থাকতে পছন্দ করে তারা৷

প্রতিবেদন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন